1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
মাদক ডিলারের সুজার বিরুদ্ধে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় আবারও সাংবাদিক শাহিনকে প্রাণনাশের হুমকি - আজকের কাগজ
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:

মাদক ডিলারের সুজার বিরুদ্ধে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ায় আবারও সাংবাদিক শাহিনকে প্রাণনাশের হুমকি

মোঃ শহিদুল ইসলাম শাহিন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬ ৬:৫৪ পিএম
শেয়ার করুন

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে চিহ্নিত মাদক কারবারি সুজা মিয়া নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাদক কারাবারের গোঁমর ফাঁস করে দেওয়ায় সাংবাবাদিক শহিদুল ইসলাম শাহিনকে আবারো প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

এরআগে সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম শাহিন তার ফেসবুক আইডি থেকে উত্তরবঙ্গের ইয়াবা ডিলার সুজার মাদক ব্যবসা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে স্ট্যাটাস দেন।এতে সাংবাদিক শাহিনের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে সুজা একাধিক মোবাইল নম্বর থেকে তাকে অব্যাহত ভাবে হুমকি দিতে থাকেন।

এরই জের ধরে বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) বিকালে ০১৬২০৭১৬৩৩৫ এই মোবাইল নম্বর থেকে মাদক কারবারি সুজা ফের সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম শাহিনকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।

মাদক ব্যবসায়ী সুজা সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের হাতিয়া চৌরাস্তা মোড়ের মমতাজ আলীর ছেলে।তিনি একাধিক মামলার আসামী বলে জানা গেছে।

ইয়াবা ব্যবসায়ী সুজা প্রতিনিয়ত একইভাবে বিভিন্ন নম্বর থেকে মোবাইল ফোনে অনুরূপ ভাবে হুমকি দেন সাংবাদিক শাহিনকে।তার অব্যাহত হুমকিতে সাংবাদিক শাহিন ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এমতবস্থায় গত ৬ (সেপ্টেম্বর) সাংবাদিক শাহিন নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তায় সাদুল্লাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেও মেলেনি তেমন কোনো আইনী প্রতিকার।
এমনকি অভিযোগের আলোকে স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হলেও পুলিশ সুজার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোন আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি।

সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম শাহিন সাদুল্লাপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি ও অনলাইন পোর্টাল আজকের কাগজের সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রতিনিধি।

তিনি অভিযোগে বলেন, মাদক সম্রাট সুজা বেশ কিছুদিন থেকে ০১৭৪০৯৫৮২৪৫ সহ ৪-৫ টি নামে বেনামে মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম শাহিন কে অকথ্য ভাষায় বকাঝকা,মিথ্যা অপবাদ ও প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন।

ওই সময় সাদুল্লাপুর থানার চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ এসআই আবু তালেব অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,ঘটনাটি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।কিন্তু অদ্যবধি মাদক ব্যবসায়ী সুজার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

ভুক্তভোগি সাংবাদিক শাহিন অভিযোগ করে আরো বলেন,সুজা গোটা উত্তরবঙ্গে ইয়াবা বিক্রয়ের ডিলার হিসেবে পরিচিত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গাসহ গোটা উত্তরবঙ্গে ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের নেশা জাতীয় দ্রব্য বেচাকেনা করে আসছিলেন। আনুমানিক ৫/৬ মাস আগে সুজা নলডাঙ্গায় তার মেয়ের সমবয়সী এক মেয়েকে জোর পুর্বক দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সেই সুবাদে তিনি নলডাঙ্গায় অবাধে যাতায়াতের সুযোগে ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের নেশা জাতীয় দ্রব্য বেচাকেনা শুরু করেন। কিন্তু তার এই অবৈধ ব্যবসা মেনে নিতে পারেননি তার দ্বিতীয় পক্ষের শ্বশুর শ্বাশুড়ী। তারা এব্যবসা না করার জন্য তাকে বারবার নিষেধ করেন। কিন্তু তারপরেও সুজা শ্বশুর শ্বাশুড়ীর বাধা উপেক্ষা করে তার ব্যবসা চালিয়ে যান। এনিয়ে তার শ্বশুর শ্বাশুড়ীর সাথে চরম বিরোধের সৃষ্টি হয়।একপর্যায়ে সুজার অবৈধ মাদক ব্যবসার বিষয়টি সর্বত্রই জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার মাদক ব্যবসার ভয়াবহ কারবারের চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। এতে মাথায় বাজ পড়ে সুজার। তিনি আক্ষেপ করে আরো বলেন,হুমকির এঘটনায় আমি থানায় অভিযোগ করেও পুলিশের কাছে তার কোন গুরুত্ব না থাকায় মাদক সম্রাট সুজা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছেন।তথ্যসুত্রে জানা গেছে,নলডাঙ্গায় কতিপয় মাদক কারবারি দুষ্টচক্রের সাথে মাদক কারবারের সুবাদে সুজার গভীর সখ্যতা রয়েছে।সেই চক্রটির পৃষ্টপোষকতায় ও মদদে মাদক কারবারি সুজা সাংবাদিক শাহিনকে প্রায়ই হুমকি দেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন,সুজা একজন দুর্দান্ত প্রকৃতির দাঙ্গাবাজ ও মামলাবাজ। একারণে তার অবৈধ এব্যবসার বিষয়টি এলাকার অনেকে জানলেও তাকে কেউ কোন কিছু বলার সাহস পায় না।কেউ কিছু বললেই তাকে মিথ্যা মামলা জড়িয়ে দেওয়াসহ জীবনণাশের হুমকি দিয়ে থাকেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে তাকে এখন কেউ কিছু না বলায় তিনি বীরদর্পে মাদকের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিদ্যমান এপরিস্থিতিতে ওই এলাকায় এখন সহসাই মিলছে ইয়াবা,গাজাসহ নানা ধরনের নেশা জাতীয় দ্রব্য। আর এই মাদকের কালো থাবায় ওই এলাকার অনেক যুবক ধ্বংস হয়ে নিজেদের সোনালী সুন্দর ভবিষ্যত অন্ধকারে ডুবে ফেলছে।
ওই এলাকার একাধিক ব্যক্তি বলেন,একসময় বাপের টাকায় সুজা মাদক সেবন করে ভবঘুরের মত ঘুরে বেড়াতেন।পরে তিনি নিজেই এব্যবসা শুরু করেন।বর্তমানে এব্যবসা দিয়ে অল্পদিনে তিনি অঢেল সম্পদের মালিক বুনে গেছেন।

এদিকে সাংবাদিক শাহিন কে হুমকি দেওয়ায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাদুল্লাপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি শহিদুল হক, সাধারন সম্পাদক আবু হাসানুল হুদা রাশেদ ও যুগ্ম সাধারন সম্পাদক জালাল উদ্দীনসহ অন্যান্যে নেৃতৃবৃন্দ।

সাংবাদিক নেতারা বলেন, স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের কারণে একজন সাংবাদিককে হুমকি দেওয়া উদ্বেগজনক এবং এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থী। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মাদক কারবারি সুজাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নেওয়ার জন্য আইন প্রয়োগকারীসংস্থার প্রতি জোর দাবি জানান।

এই বিভাগের আরো খবর