
বাংলাদেশ রেলওয়ে লালমনিরহাট ডিভিশনের আওতাধীন গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা- বামনডাঙ্গা রেলওয়ে রুটের মধ্যবর্তী স্থানে মুকিত নামের একব্যক্তি কে রেল লাইনের সাথে রশি দিয়ে হাত,পা মুখ বেঁধে হত্যার চেষ্টার ঘটনাটির রহস্য গত ১০ দিনেও উম্মোচিত না হওয়ায় গোটা এলাকায় এনিয়ে নানা গুজ্ঞন চলছে।
লডাঙ্গা সহ আশেপাশের এলাকায় অভূতপূর্ব এঘটনাটি বেশ চাউর হলেও অদ্যবধি কোন আইনী ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এনিয়ে গত কয়েকদিন ধরে সর্বত্রই চলছে নানা আলোচনা সমালোচনার ঝড়। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় তথ্যানুন্ধানে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, গত ৭ এপ্রিল রাতে রংপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী রংপুর আন্তনগর ট্রেনে কাটা পড়ে মুকিতের মৃত্যু হয়েছে এমন উদ্দেশ্য তার হাত,পা ও মুখ লাইলনের সাদা চিকন রশি দিয়ে রেললাইনে বেঁধে রাখা হয়।এরইমধ্যে ফয়জার রহমান নামের জনৈক পথচারী মুকিতকে রেললাইনের সাথে বাধা দেখতে পান।
তিনি জানান,আমি নলডাঙ্গা বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে ওইব্যক্তিকে রেললাইনে বাধা অবস্থায় দেখতে পাই।পরে তাকে ট্রেনে কাটা পড়া থেকে দ্রুত রক্ষা করি।তিনি আরো জানান,এর ৫-৭ মিনিট পরেই রংপুর আন্তনগর ট্রেনটি পাড় হয়ে যায়।এতে অল্পের জন্য তিনি প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। কিন্তু এঘটনাটি অনেকেই রহস্যজনক বলে মনে করছেন। স্থানীয় অনেকের ভাষ্য ,তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে রশি দিয়ে হাত,পা ও মুখ বাধা হলেও তার শরীরে কোথাও কোন আঘাতের কিংবা রশিতে বাধা এমন চিহ্ন দেখা যায়নি।এমনকি এঘটনায় মুকিত পরিবারের পক্ষ থেকে কোন আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণ কি? এমন প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।
তবে এলাকাবাসির চাঞ্চল্যেকর এঘটনায় রহস্য উদঘাটনে জরুরী ভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন। এতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে পারবে বলে তাদের বিশ্বাস। তারা আরো বলেন,আর যদি আইনগত কোন ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে ঘটনার অনেক মারপ্যাঁচ ও অনেক সন্দেহ রয়ে যাবে। এমন পরিস্থিতিতে ঘটনার বিষয়ে কেউ বলছেন ঘটনাটি রহস্যজনক ও একটি সাজানো নাটক। আবার কেউ বলছেন,ঘটনা যদি নাটক হয় তাহলে এই নাটকের পরিচালক ও নাটের গুরু কে।তাকে খুঁজে বের করা হোক।
জানা গেছে, সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের দশলিয়া গ্রামের নলডাঙ্গা ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক জিয়াউল করিম ও তার সহোদর ভাই ভাতিজাদের সাথে বিমাতা ভাই বোন মুকিত গংদের জমাজমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল।সম্প্রতি স্থানীয়ভাবে তা উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতাও হয়েছে। এই এলাকার আমিনুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি বলেন,দুপক্ষের বিরোধ স্থানীয়ভাবে সমাধান করা হলেও এই বিরোধ কে পুঁজি করে একটি স্বার্থন্বেষী দুষ্ট সাধুচক্র মিথ্যা নাটক সাজিয়ে প্রতিপক্ষ ভাই ভাতিজাদের বিরুদ্ধে নানা রকম বিষোদগার করে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ঘটনাটি সত্য বলে অপপ্রচার চালাতে থাকেন। তিনি আরো বলেন, ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে প্রতিপক্ষ ভাই ভাতিজাদের ফাঁসাতে মুকিত হত্যার চেষ্টার নাটকীয় ঘটনার রচনা করা হয়েছে। ভুক্তভোগি মুকিত বলছেন, আমাকে পরিকল্পিত ভাবে দূর্বত্তরা হত্যার চেষ্টা করেছে। বিষয়টি থানা পুলিশকে শুধু জানিয়ে রেখেছি।
অপরদিকে তার প্রতিপক্ষ ভাই জিয়াউল করিম ও তার ভাতিজারা বলছেন এঘটনার বিষয়ে আমরা সম্পর্ন অজ্ঞাত। কিন্তু একটি কুচক্রি মহল মুকিতের পক্ষ অবলম্বন করে আমাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যাচার করে আমাদের নিরীহ পরিবারকে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা করছে। নলডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর বলেন, ঘটনাটি লোকমুখে শুনেছি।এমন ঘটনা এর আগে কখনো শুনি নাই। এঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিদ্যমান এ পরিস্থিতিতে নাটকীয় এঘটনার সুষ্ঠ নিরপেক্ষ তদন্ত একান্ত অপরিহার্য বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।