অনলাইন জুয়া পরিচালনা এবং অবৈধ ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে অর্থপাচারের অভিযোগে সংঘবদ্ধ চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পাবনা জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- মো. মনোয়ার হোসেন (৪১), মো. মারুফ হোসেন হলি (২৭) এবং মো. ইলিয়াস হোসেন রাজু। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে মোবাইল ও সিম জব্দ করা হয়।
সিআইডি জানিয়েছে, পাবনার আতাইকুলা থানার বনগ্রাম বাজার থেকে রাত সাড়ে ৭টার দিকে রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পাবনার সাঁথিয়া থানার কাশিনাথপুর বাজার থেকে মনোয়ার হোসেন ও মারুফ হোসেন হলিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিআইডি জানায়, গ্রেপ্তাররা সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন নামে অনলাইন বেটিং ও জুয়ার ওয়েবসাইট পরিচালনা করছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব সাইটের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাকে কেন্দ্র করে টাকার বিনিময়ে অনলাইন বেটিং বা জুয়ার আয়োজন করা হয়। এই ধরনের বেটিং সাইটে অংশগ্রহণের জন্য ব্যবহারকারীদের প্রথমে টপ-আপ বা ডিপোজিট করতে হয়। নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা দেওয়ার পর বাংলাদেশের বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ব্যাংক হিসাব এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের নির্দেশনা দিলে একাউন্টে টাকা যুক্ত হলে ব্যবহারকারী বেটিং ও জুয়ার ওয়েবসাইটে অংশ নিতে পারে।
এই বিষয়টি জানার পর সিআইডি জুয়া ও বেটিং পরিচলনাকরীদের বিরুদ্ধে গত মে মাসে সাইবার আইনে মামলা করে।
মামলাটির প্রাথমিক তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, বেটিং সাইটগুলোতে টাকা জমা ও উত্তোলনের জন্য বিভিন্ন এমএফএস এজেন্ট নম্বর ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করা হয়, সেগুলো নিয়মিত পরিবর্তন করা হয়।
সিআইডি আরও জানায়, চক্রটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এজেন্ট নিয়োগ করে তাদের মাধ্যমে একাধিক এমএফএস এজেন্ট নম্বর ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে এসব নম্বর ও হিসাবের তথ্য বেটিং সাইট পরিচালনাকারীদের কাছে সরবরাহ করা হয়। এরপর ওই হিসাবগুলো বেটিং সাইটে লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
তদন্তে আরও জানা যায়, বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধ ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ এজেন্টরা কমিশন রেখে অবশিষ্ট অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর করে এবং বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করে আসছে বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
এভাবে অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশের বাইরে পাচার করা হচ্ছে বলে সিআইডির তদন্তে উঠে এসেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা অনলাইন বেটিং চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং জুয়ার টাকা সংগ্রহের বিষয়ে তথ্য দিয়েছে।
তদন্ত সংস্থাটি আরও জানিয়েছে তবে চক্রটির অন্যান্য সদস্য, অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ, অর্থপাচারের পদ্ধতি এবং দেশের বাইরে অর্থ পাঠানোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও নেটওয়ার্ক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য গ্রেপ্তাররা দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
এইচএসডিএফ ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম ইমন, আইন উপদেষ্টা : অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবু হানিফ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
মোবাইল নাম্বার -০১৬১০৫১৭৭০৩, Mail-ajkerkagojbd22@gmail.com
ঠিকানা: বাড়ি ১৮, রোড ০১, সেকশন ০৮, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
Copyright © 2026 আজকের কাগজ. All rights reserved.