কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজে উপাধ্যক্ষ নিয়োগকে কেন্দ্র করে সামনে এসেছে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা উপেক্ষা করে পূর্বে অযোগ্য ঘোষিত এক প্রার্থীকে পরবর্তী সময়ে একই পদে যোগ্য দেখিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, অভিযোগ অনুযায়ী প্রায় আট বছর ধরে তিনি ওই গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে কলেজজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগকারী ও কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য আব্দুর রশিদের লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের ১৬ জুলাই উপাধ্যক্ষ পদে প্রথম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকায় আবেদনকারী মো. আসাদুজ্জামান সরকারের আবেদন বাতিল করা হয়। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, বিষয়টি কলেজের রেজুলেশন খাতার ৫৪ নম্বর পৃষ্ঠায় সংরক্ষিত রয়েছে।
একই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরও ১৭ জন বৈধ আবেদনকারী থাকলেও অজ্ঞাত কারণে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে ২০১৭ সালের ৬ জুলাই পুনরায় একই পদে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এরই মধ্যে পূর্বে অযোগ্য ঘোষিত একই প্রার্থীকে কোনো নতুন শিক্ষাগত বা অভিজ্ঞতার যোগ্যতা অর্জন ছাড়াই যোগ্য ঘোষণা করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাকে উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এতে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, মো. আসাদুজ্জামান সরকার ২০০২ সালের ২ সেপ্টেম্বর চর হলোখানা এমদাদিয়া আলিম মাদরাসায় প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হওয়ার পর তিনি ২০১৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সেখানে কর্মরত ছিলেন।
অন্যদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের চাকরির শর্তাবলি (রেগুলেশন-২০১৫)’ অনুযায়ী, উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য স্নাতক (ডিগ্রি) পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক। অভিযোগকারীদের দাবি, আলিম মাদরাসায় শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা ডিগ্রি কলেজ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা হিসেবে গণ্য হয় না। ফলে বিধিমালা অনুযায়ী তিনি ওই পদের জন্য যোগ্য ছিলেন না।
অভিযোগকারী আব্দুর রশিদ বলেন, “জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা লঙ্ঘন করে একজন অযোগ্য ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগ করেছি। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
তবে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন উপাধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামান সরকার। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমি বিধি মেনেই নিয়োগ পেয়েছি। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সব কাগজপত্র যাচাই করে দেখতে পারেন।”
কলেজের অধ্যক্ষ মো. গোলাম ওয়াদুদ বলেন, “গভর্নিং বডির এক সদস্য লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫ সালের বিধিমালায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্নাতক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কাগজপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আলিম মাদরাসার শিক্ষক ছিলেন। বিধিমালা অনুযায়ী এ ধরনের অভিজ্ঞতা গ্রহণযোগ্য নয়। আমার দৃষ্টিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নীতিমালার ব্যত্যয় ঘটেছে।”
ফুলবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি আরাবুর রহমান বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। গভর্নিং বডির সভায় বিষয়টি আলোচনা করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
এদিকে অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় শিক্ষাঙ্গন ও সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কারও প্রভাব বা অনিয়ম ছিল কি না—এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এইচএসডিএফ ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম ইমন, আইন উপদেষ্টা : অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবু হানিফ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
মোবাইল নাম্বার -০১৬১০৫১৭৭০৩, Mail-ajkerkagojbd22@gmail.com
ঠিকানা: বাড়ি ১৮, রোড ০১, সেকশন ০৮, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
Copyright © 2026 আজকের কাগজ. All rights reserved.