রিশাদ হোসেন যখন ব্যাটিংয়ে নামেন, তখন জয়ের জন্য ১৩ বলে আরও ২২ রান দরকার ফরচুন বরিশালের। হাতে মাত্র ৪ উইকেট। আরেক পাশে মোহাম্মদ নবী ছাড়া নেই কোনো স্বীকৃত ব্যাটার। পরের ওভারে আউট নবীও। তবে সব শঙ্কা একাই কাটানোর পণ নিয়েই যেন নেমেছিলেন রিশাদ। ৬ বলে ২ ছক্কায় ১৮* রানের টর্নেডো ইনিংস খেলে বরিশালকে এনে দিলেন ৩ উইকেটের জয়। গতবারের মতো এবারও বিপিএলের চ্যাম্পিয়ন হয় বরিশাল। আর ২০১৩ সালে ফাইনাল খেলা চিটাগং কিংসের হৃদয় ভাঙে আরও একবার।
মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৯৪ রান করেছিল চিটাগং। জবাব দিতে নেমে ৩ বল ও ৩ উইকেট হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে বরিশাল। বিপিএলের ফাইনালে এত রান তাড়া করে জয়ের ঘটনা এবারই প্রথম।
১৯৫ রানের লক্ষ্যে খেলতে নামা বরিশাল উদ্বোধনী জুটিতেই ঝড় তোলে। তাওহিদ হৃদয় কিছুটা রয়েসয়ে খেললেও ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল। চিটাগং কিংসের মতো এই দুজনও পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে যোগ করেন ৫৭ রান। মাত্র ২৪ বলে ৯টি চার ও ১ ছক্কায় হাফ সেঞ্চুরি আদায় করেন তামিম। দলীয় ৭৬ রানে প্রথম ব্যাটার হিসেবে বিদায় নেন অধিনায়ক। ২৯ বলে শেষ পর্যন্ত ৫৪ রান করেন তিনি।
ফর্মে থাকা মালান এদিন ২ রানের বেশি করতে পারেননি। ৭৮ রানের মধ্যে ২ উইকেট হারানো বরিশাল এক শ রান তোলার আগে হারায় হৃদয়কেও। ২৮ বলে ৩২ রান করে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন তিনি। জমে যায় ম্যাচ। পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করেও উইকেটে স্থায়ী হতে পারেননি মুশফিকুর রহিম। ৯ বলে ১৬ রান করে নাঈম ইসলামের বলে আউট হন তিনি।
এরপর চারে নামা কাইল মেয়ার্স দলকে জয়ের স্বপ্ন দেখাতে থাকেন। তবে তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি কেউ। উল্টো শেষদিকে দলের বিপদ বাড়িয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (১১ বলে ৭) ও মোহাম্মদ নবী (৪ বলে ৪)। তবে সব শঙ্কা উড়িয়ে বরিশালকে চ্যাম্পিয়ন করে মাঠ ছাড়েন রিশাদ।
এর আগে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুর ২ ওভার দেখেশুনেই খেলেন চিটাগংয়ের দুই ওপেনার খাজা নাফাই ও পারভেজ হোসেন ইমন। তবে এরপর ব্যাটে আর লাগাম টানেননি তারা, বিশেষ করে ইমন। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়েই তোলেন ৫৭ রান। চিটাগং প্রথম ১০ ওভারে করে ৯৩ রান। তাতে দলের রান যে দুই শ ছাড়াবে, সেই ইঙ্গিত দিয়ে রাখে তারা।
৩০ বলে ব্যক্তিগত অর্ধশত রান পূর্ণ করেন ইমন। আর নাফাই নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন ৩৭ বলে। চিটাগং তাদের প্রথম উইকেট হারায় দলীয় ১২১ রানের মাথায়। বিপিএলের ফাইনালে উব্দোধনী জুটিতে এটি রানের রেকর্ড। এর আগে কেনো দল শতরানের জুটিও গড়তে পারেনি। ৪৪ বলে ৭টি চার ও ৩ ছক্কায় ৬৬ রান করে ফেরেন নাফাই। তবে গ্রাহাম ক্লার্ককে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতেও দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন ইমন। ৪০ বলে যোগ করেন ৭০ রান।
শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে রান আউট হওয়ার আগে ২৩ বলে ২টি চার ও ৩ ছক্কায় ৪৪ রান করেন ক্লার্ক। একই ওভারে আউট হন শামীম হোসেনও। শেষ ওভারে মাত্র ৬ রান আসায় দুই শ পার করতে পারেনি চিটাগং। থামতে হয়েছে ১৯৪ রানেই। ৪৯ বলে শেষ পর্যন্ত ৭৮ রানে অপরাজিত থাকেন ইমন। ৬টি চারের পাশাপাশি ৪টি ছক্কা হাঁকিয়ে এই রান করেন তিনি।
বরিশালের অন্য বোলাররা দুহাতে রান বিলালেও দুর্দান্ত ছিলেন পেসার মোহাম্মদ আলি। ৪ ওভারে মাত্র ২১ রান দিয়ে একটি উইকেট শিকার করেন তিনি। অপর উইকেট শিকার করদয় ভাঙে আরও একবার।
এইচএসডিএফ ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম ইমন, আইন উপদেষ্টা : অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবু হানিফ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
মোবাইল নাম্বার -০১৬১০৫১৭৭০৩, Mail-ajkerkagojbd22@gmail.com
ঠিকানা: বাড়ি ১৮, রোড ০১, সেকশন ০৮, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
Copyright © 2026 আজকের কাগজ. All rights reserved.