যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হয়েছেন বলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির পর বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের নাম। অনেক বিশ্লেষকের মতে, মাদুরোর ঘটনাপ্রবাহে সাদ্দামের পতনের সঙ্গে একাধিক মিল স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, বড় আকারের সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে ভেনেজুয়েলার বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ জানিয়েছেন, সরকার মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত নয় এবং তাঁদের জীবিত থাকার প্রমাণ দাবি করছে।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ইতিহাসে আরেকটি অধ্যায়ের কথা মনে পড়ছে, যখন ২০০৩ সালে ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী আটক করেছিল।
২০০৩ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু করে। দাবি করা হয়েছিল, ইরাকের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে এবং সাদ্দাম হোসেন আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা দিচ্ছেন। পরবর্তী সময়ে এসব দাবির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে নয় মাসের মাথায়, ১৩ ডিসেম্বর ২০০৩ সালে, নিজ শহর তিকরিতের কাছে একটি গর্তে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় সাদ্দাম হোসেনকে আটক করা হয়।
সাদ্দাম হোসেন একসময় যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন। বিশেষ করে ১৯৮০–এর দশকে ইরান ইরাক যুদ্ধের সময় ওয়াশিংটনের সমর্থন পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং একপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র তাঁকে প্রধান শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে।
নিকোলাস মাদুরোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের পথচলা দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। মাদুরোর বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচার, দুর্নীতি এবং সন্ত্রাসে মদদের অভিযোগ তুলে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ডিইএ মাদুরোর বিরুদ্ধে নার্কো টেররিজমের অভিযোগ আনে। ট্রাম্প প্রশাসন তাঁর সরকারকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।
ইরাকের মতো ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের আগে দীর্ঘ সময় ধরে চাপ, নিষেধাজ্ঞা এবং রাজনৈতিক একঘরে করার কৌশল প্রয়োগ করা হয়েছে। এরপর আসে সরাসরি সামরিক অভিযান ও নেতাকে আটক করার দাবি।
সাদ্দাম হোসেনকে আটক করার পর তাঁকে ইরাকের আদালতে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ফাঁসিতে ঝুলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় তাঁর।
মাদুরোর ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি সত্য হলে, মাদুরোর ভাগ্যও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কারাগার কিংবা বিচারপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
বিশ্ব রাজনীতিতে একসময় ক্ষমতাধর, প্রভাবশালী এবং বিতর্কিত দুই নেতার গল্প এখন একই আলোচনায় এসে মিলেছে। ইরাকের সাদ্দাম হোসেনের পতনের স্মৃতি সামনে রেখে প্রশ্ন উঠছে, ভেনেজুয়েলার নিকোলাস মাদুরো কি একই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির মুখে দাঁড়িয়ে আছেন।
এইচএসডিএফ ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম ইমন, আইন উপদেষ্টা : অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবু হানিফ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
মোবাইল নাম্বার -০১৬১০৫১৭৭০৩, Mail-ajkerkagojbd22@gmail.com
ঠিকানা: বাড়ি ১৮, রোড ০১, সেকশন ০৮, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
Copyright © 2026 আজকের কাগজ. All rights reserved.