অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতার বিরুদ্ধে আরও কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।
পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আগের ব্রিটিশ সরকারগুলোর তুলনায় অনেক কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছেন। তিনি ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘জাতিগত নিধন’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং পুনর্ব্যক্ত করেন যে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিগুলো আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ।
তবে নতুন ঘোষণার ভাষা যতটা কঠোর, বাস্তবে এই পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে কত পরিমাণ বসতি-উৎপাদিত পণ্য প্রবেশ করে, সেগুলো কীভাবে শনাক্ত করা হবে এবং অবৈধ বসতি কার্যক্রম থেকে লাভবান এমন কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে সরকার সত্যিই ব্যবস্থা নেবে কি না—এসব প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যের নতুন নীতির মধ্যে কয়েকটি বড় ফাঁকফোকর রয়ে গেছে, যা কার্যকর বাস্তবায়নকে কঠিন করে তুলতে পারে।
কী কী পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্য?
ব্রিটিশ সরকার মোট পাঁচটি পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে—
অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্য যুক্তরাজ্যে আমদানি নিষিদ্ধ করা;
অবৈধ বসতি কার্যক্রমকে সমর্থন, সহায়তা বা সেখান থেকে লাভবান ব্যক্তি ও কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নতুন ক্ষমতা তৈরি;
অবৈধ বসতিতে জমি ও সম্পত্তির বিজ্ঞাপন বা প্রচার নিষিদ্ধ করা;
আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাজ্যের বিদ্যমান বৈশ্বিক মানবাধিকার নিষেধাজ্ঞা কাঠামো শক্তিশালী করা;
ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও তথাকথিত ‘পোগ্রামে’ সমর্থন বা উসকানি দেওয়া কয়েকজন চরমপন্থী বসতি স্থাপনকারীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ।
প্রথম পদক্ষেপটি আপাতদৃষ্টিতে সহজ মনে হলেও এর বাস্তব প্রয়োগ অত্যন্ত জটিল হতে পারে। কারণ সরকার নিজেই স্বীকার করেছে, ইসরায়েলি বসতিগুলোর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের প্রকৃত বাণিজ্যের সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া কঠিন।
কতটা বাণিজ্য আসলে বন্ধ হবে?
নতুন সিদ্ধান্তটি ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য নিষিদ্ধ করছে না। যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের মধ্যে বিদ্যমান মুক্তবাণিজ্য চুক্তি বহাল থাকবে।
ব্রিটিশ সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দুই দেশের মধ্যে পণ্য ও সেবা খাতে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬ বিলিয়ন পাউন্ড বা ৮ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার।
নতুন নিষেধাজ্ঞা কেবল অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবস্থিত অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
কিন্তু এসব পণ্যের প্রকৃত আমদানি মূল্য কত, তা স্পষ্ট নয়।
ব্রিটিশ সরকার বলছে, ইসরায়েলি বসতিগুলোর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যের সঠিক হিসাব নির্ধারণ করা কঠিন। যুক্তরাজ্য ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের সঙ্গে বাণিজ্যের পৃথক পরিসংখ্যান রাখলেও পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের উৎপাদিত পণ্য এবং একই ভূখণ্ডে বসবাসকারী ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে আলাদা কোনও হিসাব নেই।
বর্তমানে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছেন।
তাই ‘ফিলিস্তিন থেকে আমদানি’ হিসেবে যে পরিসংখ্যান রয়েছে, তার পুরোটা বসতি-উৎপাদিত পণ্যের হিসাব নয়।
২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত সর্বশেষ চার প্রান্তিকের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য ও ফিলিস্তিনের মধ্যে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৪ কোটি পাউন্ড। ২০২৫ সালে যা ছিল ৩ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড।
এর মধ্যে যুক্তরাজ্য ফিলিস্তিন থেকে মাত্র ৬০ লাখ পাউন্ড মূল্যের পণ্য আমদানি করেছে।
তাত্ত্বিকভাবে ধরা হলেও, এই ৬০ লাখ পাউন্ডের সব পণ্য যদি অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে আসত, তাহলেও নিষেধাজ্ঞার প্রভাব পড়ত যুক্তরাজ্য-ইসরায়েল বার্ষিক প্রায় ৬ বিলিয়ন পাউন্ডের বাণিজ্যের মাত্র শূন্য দশমিক ১ শতাংশের ওপর।
বাস্তবে এ অঙ্ক আরও অনেক কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ ফিলিস্তিন থেকে আমদানি করা পণ্যের মধ্যে ফিলিস্তিনি কৃষক ও উৎপাদকদের উৎপাদিত পণ্যও রয়েছে।
ফিলিস্তিন থেকে যুক্তরাজ্যে আমদানি হওয়া প্রধান পণ্যের মধ্যে রয়েছে ফল ও সবজি, উদ্ভিজ্জ তেল এবং কফি, চা ও কোকো। এসব পণ্য ফিলিস্তিনি কৃষক এবং ইসরায়েলি বসতি ব্যবসায়ী—উভয় পক্ষই উৎপাদন করতে পারে।
ফলে যে ধরনের পণ্য নিষিদ্ধ করা হচ্ছে, তার বর্তমান আমদানি মূল্যই ব্রিটিশ সরকার সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করতে পারছে না।
ইসরায়েলি পণ্যের লেবেলে বসতির পণ্য?
নিষেধাজ্ঞার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হতে পারে পণ্যের প্রকৃত উৎস শনাক্ত করা।
পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিতে উৎপাদিত কোনও পণ্য সরাসরি ‘ফিলিস্তিন’ থেকে আমদানি হিসেবে যুক্তরাজ্যে না এসে ইসরায়েলি সরবরাহ শৃঙ্খলের মাধ্যমে ‘মেড ইন ইসরায়েল’ হিসেবে ব্রিটিশ বাজারে পৌঁছাতে পারে।
২০২৬ সালের জুনে গ্লোবাল ইকো লিটিগেশন সেন্টারের প্রকাশিত ‘ইমপোর্টিং অকুপেশন’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে ইউরোপে ইসরায়েল থেকে তাজা কৃষিপণ্য রফতানির সরবরাহ ব্যবস্থা বিশ্লেষণ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বসতিতে উৎপাদিত পণ্য নিয়মিতভাবে বৃহত্তর ইসরায়েলি সরবরাহ শৃঙ্খলের মধ্যে মিশিয়ে দেওয়া হয়।
সংস্থাটির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তারা যেসব চালান পর্যালোচনা করেছে, তার প্রায় প্রতি ছয়টির একটিতে অবৈধ বসতি থেকে আসা পণ্য ছিল।
এর অর্থ, কোনও পণ্য ইসরায়েলি পণ্য হিসেবে চিহ্নিত হলেও সেটি বাস্তবে পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিতে উৎপাদিত হতে পারে।
এ পরিস্থিতি ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। কারণ পণ্য যদি ইসরায়েলের অভ্যন্তরে কোনও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সংগ্রহ, পুনরায় প্যাকেটজাত বা রফতানি করা হয়, তাহলে সীমান্তে তার প্রকৃত উৎপাদনস্থল নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
যুক্তরাজ্যের কি আগে থেকেই শনাক্তকরণ ব্যবস্থা আছে?
ব্রিটিশ সরকারের কাছে অবশ্য পণ্যের উৎপত্তিস্থল যাচাইয়ের একটি বিদ্যমান ব্যবস্থা রয়েছে।
যুক্তরাজ্য-ইসরায়েল বাণিজ্য চুক্তির আওতায় ইসরায়েলের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমান্তের মধ্যে উৎপাদিত পণ্য শুল্কে বিশেষ সুবিধা পেতে পারে।
কিন্তু ১৯৬৭ সালের পর অধিকৃত ভূখণ্ডে প্রতিষ্ঠিত ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্য এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নয়।
এই সুবিধা পেতে আমদানিকারকদের পণ্যের উৎপত্তির প্রমাণ দিতে হয়। নথিতে পণ্যটি যে শহর, গ্রাম বা শিল্পাঞ্চলে উৎপাদিত হয়েছে, তার নাম ও পোস্টকোড উল্লেখ করতে হয়।
ব্রিটিশ রাজস্ব বিভাগ এইচএম রেভিনিউ অ্যান্ড কাস্টমস বা এইচএমআরসি এমন সব বসতি ও শিল্পাঞ্চলের বিস্তারিত তালিকাও সংরক্ষণ করে, যেগুলো যুক্তরাজ্য-ইসরায়েল বাণিজ্য চুক্তির আওতায় অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নয়।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে নতুন একটি শর্তও যুক্ত হয়েছে। ইসরায়েলি পণ্যের জন্য শুল্ক সুবিধা দাবি করতে হলে আমদানিকারককে কাস্টমস নথিতে ‘ওয়াই৮৬৪’ কোড ব্যবহার করে ঘোষণা দিতে হয় যে পণ্যটি ১৯৬৭ সালের পর ইসরায়েলি প্রশাসনের অধীনে আসা কোনও ভূখণ্ডে উৎপাদিত হয়নি।
অর্থাৎ, পণ্যের প্রকৃত উৎপাদনস্থল শনাক্ত করার একটি কাঠামো যুক্তরাজ্যের আগে থেকেই রয়েছে।
তবে বর্তমান ব্যবস্থায় বসতির পণ্য যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করতে পারে, শুধু সেটি ইসরায়েলি পণ্যের জন্য নির্ধারিত অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা পায় না।
নতুন নিষেধাজ্ঞার পর সেই পণ্য সম্পূর্ণভাবে আমদানি বন্ধ করার কথা বলা হচ্ছে।
কিন্তু এখানেও বড় প্রশ্ন হলো—আমদানিকারক যদি ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়, তাহলে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ কীভাবে প্রকৃত উৎপত্তিস্থল যাচাই করবে?
সব ইসরায়েলি পণ্য নিষিদ্ধ নয়
তাত্ত্বিকভাবে সব ইসরায়েলি পণ্য নিষিদ্ধ করা হলে বসতির পণ্য এবং ইসরায়েলের অভ্যন্তরে উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে পার্থক্য করার প্রয়োজন পড়ত না।
কিন্তু যুক্তরাজ্য এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি।
বরং ইসরায়েলের সঙ্গে বহু বিলিয়ন পাউন্ডের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বহাল রাখার পাশাপাশি কেবল অবৈধ বসতি থেকে আসা পণ্য নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফলে পণ্যের উৎস নির্ধারণ এবং সরবরাহ শৃঙ্খল পর্যবেক্ষণ নতুন নীতির সবচেয়ে কঠিন অংশ হয়ে উঠতে পারে।
ব্রিটিশ সরকারের ঠিকাদার কোম্পানির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা?
পণ্য আমদানি নিষিদ্ধের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে ব্রিটিশ সরকারের দ্বিতীয় ঘোষণা।
সরকার বলেছে, অবৈধ বসতি কার্যক্রমকে সমর্থন, সহজতর বা সেখান থেকে লাভবান ব্যক্তি ও কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নতুন ক্ষমতা তৈরি করা হবে।
এখানেই একটি জটিল প্রশ্ন সামনে এসেছে—যদি কোনও কোম্পানি ইসরায়েলি বসতি কার্যক্রম থেকে লাভবান হয়, কিন্তু একই সঙ্গে ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে তার কোটি কোটি পাউন্ডের চুক্তি থাকে, তাহলে কী হবে?
গত সপ্তাহে আল-জাজিরার এক অনুসন্ধানে দাবি করা হয়, অবৈধ ইসরায়েলি বসতির সঙ্গে সম্পর্কিত ১৭টি কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সরকারি খাতের ২ দশমিক ১ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি মূল্যের চুক্তি রয়েছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ও যোগাযোগ কোম্পানি মটোরোলা সলিউশন্সের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের।
এর ব্রিটিশ সহযোগী প্রতিষ্ঠান এয়ারওয়েভ সলিউশন্সের মাধ্যমে ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি সরকারি চুক্তি রয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও কয়েকটি বড় করপোরেট গ্রুপের নাম উঠে আসে। এর মধ্যে রয়েছে জার্মান নির্মাণসামগ্রী বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান হাইডেলবার্গ ম্যাটেরিয়ালস, ফরাসি প্রকৌশল কোম্পানি ইজিস, স্পেনের ট্রেন নির্মাতা সিএএফ এবং চীনা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ফোসুন।
এসব কোম্পানির বিভিন্ন কার্যক্রম অবৈধ ইসরায়েলি বসতির অবকাঠামো, পরিবহন, যোগাযোগ ব্যবস্থা বা বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে অনুসন্ধানে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারের জন্য তৈরি হতে পারে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি
ব্রিটিশ সরকারের নতুন ঘোষণা একটি সম্ভাব্য দ্বন্দ্বও তৈরি করেছে। একদিকে সরকার বলছে, অবৈধ বসতি কার্যক্রম থেকে লাভবান কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা তৈরি করা হবে। অন্যদিকে, এমন কিছু কোম্পানির সহযোগী প্রতিষ্ঠানই ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের সরকারি চুক্তি পেয়েছে।
প্রশ্ন হচ্ছে, নতুন ক্ষমতার আওতায় যদি এসব কোম্পানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়, তাহলে তাদের সঙ্গে থাকা সরকারি চুক্তিগুলোর কী হবে?
বিশেষ করে মটোরোলা সলিউশন্সের মালিকানাধীন এয়ারওয়েভ সলিউশন্সের একটি বড় চুক্তি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কোম্পানিটির প্রায় ১ দশমিক ৫৬২ বিলিয়ন পাউন্ডের চুক্তি রয়েছে। এর আওতায় ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের পুলিশ, দমকল ও অ্যাম্বুলেন্স সেবার জন্য নিরাপদ যোগাযোগ নেটওয়ার্ক সরবরাহ করা হয়।
নতুন নিষেধাজ্ঞা কাঠামোর আওতায় এমন কোনও কোম্পানিকে লক্ষ্যবস্তু করা হলে সরকার কি বিদ্যমান চুক্তি বাতিল করবে, পুনর্গঠন করবে নাকি বিশেষ ছাড় দেবে—তা এখনও স্পষ্ট নয়।
আল-জাজিরা ব্রিটিশ সরকারের কাছে জানতে চেয়েছে, সরকার কি তার বর্তমান সরকারি ঠিকাদারদের ইসরায়েলি বসতি কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্ক পর্যালোচনা করছে, সরকারি চুক্তিধারী কোম্পানিগুলো নতুন ক্ষমতার আওতায় নিষিদ্ধ হতে পারে কি না এবং এমনটি হলে বিদ্যমান চুক্তিগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে।
প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত ব্রিটিশ সরকার এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।
প্রতীকী পদক্ষেপ নাকি কার্যকর নিষেধাজ্ঞা?
বিশ্লেষকদের মতে, অবৈধ ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর প্রকৃত অর্থনৈতিক প্রভাব খুব সীমিত হতে পারে।
কারণ বসতি থেকে আসা পণ্যের প্রকৃত পরিমাণ ব্রিটিশ সরকারই সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে পারছে না। আবার সরবরাহ শৃঙ্খলের মাধ্যমে এসব পণ্য ইসরায়েলি পণ্য হিসেবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সুযোগও থেকে যাচ্ছে।
তবে নতুন ক্ষমতার আওতায় ব্যক্তি ও কোম্পানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে এর প্রভাব অনেক বেশি বিস্তৃত হতে পারে।
বিশেষ করে ব্রিটিশ সরকারের নিজস্ব চুক্তিবদ্ধ কোম্পানিগুলো যদি অবৈধ বসতি কার্যক্রম থেকে লাভবান হওয়ার অভিযোগে নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসে, তাহলে যুক্তরাজ্যের জন্য একটি জটিল আইনি, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
ফলে ইসরায়েলি বসতির পণ্য নিষিদ্ধের ঘোষণা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে—ব্রিটেন কি সত্যিই তার নতুন নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করবে, নাকি পণ্যের উৎস শনাক্তকরণ ও করপোরেট স্বার্থের জটিলতায় এই নিষেধাজ্ঞার বড় অংশ কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
সূত্র: আল-জাজিরা
এইচএসডিএফ ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম ইমন, আইন উপদেষ্টা : অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবু হানিফ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
মোবাইল নাম্বার -০১৬১০৫১৭৭০৩, Mail-ajkerkagojbd22@gmail.com
ঠিকানা: বাড়ি ১৮, রোড ০১, সেকশন ০৮, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
Copyright © 2026 আজকের কাগজ. All rights reserved.