
উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দুধ, ডিম ও মাংসের দাম অনেক বেশি রাখা হচ্ছে। সম্প্রতি সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এসব পণ্যের প্রকৃত উৎপাদন খরচ এবং খুচরা বাজারমূল্যের ব্যবধান সংক্রান্ত একটি চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রণালয়। বৈঠকে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো ও সরবরাহব্যবস্থার অনিয়ম খতিয়ে দেখার সুপারিশ করা হয়। বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব পণ্যের উৎপাদন খরচ ও বাজারমূল্যের তথ্য তুলে ধরা হয়।
মন্ত্রণালয়ের উপস্থাপন করা তথ্যে দেখা যায়, প্রতি লিটার দুধ উৎপাদনে খরচ হয় ৪৪ টাকা ৮০ পয়সা, কিন্তু খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। একইভাবে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন খরচ ১৬১ টাকা ৫৫ পয়সা হলেও বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। সোনালি মুরগির উৎপাদন খরচ ২৫৩ টাকা হলেও ভোক্তাকে গুনতে হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, এক লিটার দুধ উৎপাদনে খরচ হয় ৪৪ টাকা ৮০ পয়সা। এসব বিষয়ে বাজারভিত্তিক তদন্ত ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
একই চিত্র দেখা গেছে ডিম ও লাল মাংসের ক্ষেত্রেও। প্রতিটি ডিমের উৎপাদন খরচ ১০ টাকা ৮১ পয়সা হলেও তা বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ১৩ টাকায়। প্রতি কেজি গরুর মাংসের উৎপাদন খরচ ৫৮৭ টাকা ৫০ পয়সা এবং খাসির মাংসের উৎপাদন খরচ ৮৭৫ টাকা হলেও বাজারে যথাক্রমে ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায় বিকোচ্ছে।
উৎপাদন খরচ ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যে এই বড় পার্থক্যের প্রেক্ষাপটে মধ্যস্বত্বভোগীদের অতিরিক্ত মুনাফা, কৃত্রিম সংকট এবং বাজারে অনিয়ম যাচাইয়ের সুপারিশ করেছে স্থায়ী কমিটি। পাশাপাশি একদিনের বাচ্চা ও ডিমের দাম স্থিতিশীল রাখতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে মন্ত্রণালয়ে একটি কৌশলপত্র পাঠানো হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজের তাগিদ দেওয়া হয়।
বৈঠকে খামারিদের সহায়তায় উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে মূল্যায়ন এবং সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ আহরণ ও রপ্তানি বাড়ানোর কর্মপরিকল্পনা তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চলমান সব নিয়োগ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি এবং সময়মতো উন্নয়ন প্রকল্প শেষ করার বিষয়ে পরবর্তী বৈঠকে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি জলাশয়ে মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলা এবং উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে খামারিদের সহায়তা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
কমিটির সভাপতি খায়রুল কবির খোকনের সভাপতিত্বে উক্ত বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলাম, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, এম এ হান্নান, আলী আজম, আবু বকর ও আমির হামজা অংশ নেন। বিশেষ আমন্ত্রণে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
এইচএসডিএফ ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম ইমন, আইন উপদেষ্টা : অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবু হানিফ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
মোবাইল নাম্বার -০১৬১০৫১৭৭০৩, Mail-ajkerkagojbd22@gmail.com
ঠিকানা: বাড়ি ১৮, রোড ০১, সেকশন ০৮, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
Copyright © 2026 আজকের কাগজ. All rights reserved.