জাতীয় রাজস্ব বোর্ড'র (এনবিআর) কাস্টমস সার্ভারে অবৈধভাবে প্রবেশ করে জাল কাস্টমস নথি ব্যবহার, মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে শুল্ক ফাঁকি এবং চোরাচালানের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরে আনা এক কন্টেইনারে বিদেশি মদ ও আরেক কন্টেইনারে ৫০ লাখ শলাকা বিদেশি সিগারেট খালাসের চেষ্টার ঘটনায় আরও এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।
শুক্রবার বিকালে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ (সিএমপি) সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে কথা বলেন অতিরিক্ত কমিশনার ফয়সাল আহম্মেদ। তিনি বলেন, “২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অবৈধভাবে কাস্টমসের সার্ভারে অনুপ্রবেশের মাধ্যমে মিথ্য ঘোষণায় শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা ১১ হাজার ৬৭৬ লিটার বিদেশি মদ ও সিগারেট খালাসের চেষ্টার ঘটনায় এক মামলায় আসামি শেখ সেজান।
এই চোরাচালান মামলায় এর আগে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান হাফেজ ট্রেডিং প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক খালেদ হোসেন মামুন, চেয়ারম্যান বাকির হোসেন, প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী খোরশেদ আলম রিপন ও মিজান, এবং চক্রের সদস্য আশরাফ হোসেন রাজু, খায়েজ আহমেদ ওরফে আরিফ এবং বড় রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেল ৬টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাকে আটক করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে সংঘবদ্ধ একটি চক্র চীন থেকে বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত ফেব্রিক্স আমদানির মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ দেশে আনার চেষ্টা করে। এতে সরকারের অন্তত ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের তদন্তে আগে গ্রেপ্তার হওয়া সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শেখ সেজানকে শনাক্ত করা হয়। পরে তিনি দেশ ছাড়ার চেষ্টা করলে বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া শেখ সেজান (২৬) নেপালে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, শেখ সেজানের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় সাইবার অপরাধ ও প্রতারণার অভিযোগে সাতটি মামলা রয়েছে।
তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শেখ সেজান তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে কাস্টমস হাউস চট্টগ্রামের ASYCUDA World System এবং CPA Portal-এর নিরাপত্তা দুর্বলতার সুযোগ নেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি অন্যের ইউজার আইডি অননুমোদিতভাবে ব্যবহার, পাসওয়ার্ড পরিবর্তন এবং প্রতারণামূলক কাস্টমস কার্যক্রমে কারিগরি সহায়তা দিয়ে চোরাচালানচক্রকে সহায়তা করেছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা। এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া আরেক অভিযুক্ত আশরাফ হোসেন ওরফে রাজুর জবানবন্দিতেও শেখ সেজানের সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে আসে।
ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণে তদন্তকারীরা দেখতে পান, ২০২৪ সালের ২০ মে একটি মোবাইল অপারেটরের ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করে কাস্টমসের এক কর্মকর্তার ইউজার আইডিতে অননুমোদিতভাবে লগইন করা হয়। পরে একই আইডি ব্যবহার করে সিগারেট চোরাচালানসংক্রান্ত এলসি নিবন্ধন ও ওপেন করার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
এর আগে শেখ সেজানকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার বাড়িতে অভিযান চালানো হয় তবে তাকে পাওয়া না গেলেও সেখান থেকে তার নামে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহৃত একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ওই মোবাইল ব্যবহার করেই কাস্টমস সার্ভারে প্রবেশ করে এলসি নিবন্ধন ও ওপেন করার কাজ করা হয়েছিল।
তদন্তে পুলিশ আরও জানাতে পারে, শেখ সেজান তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ এবং সংঘবদ্ধ চোরাচালান কার্যক্রমে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে আসছিলেন। এর আগে সরকারি বিভিন্ন সেবামূলক ওয়েবসাইট ক্লোনিং, জাতীয় পরিচয়পত্র, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ, জন্মনিবন্ধন ও টিকা সনদ জালিয়াতিসহ বিভিন্ন সাইবার প্রতারণার অভিযোগে তিনি একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন। এছাড়া সরকারি ওয়েবসাইটের অনুরূপ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ এবং প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে ।
এইচএসডিএফ ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম ইমন, আইন উপদেষ্টা : অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবু হানিফ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
মোবাইল নাম্বার -০১৬১০৫১৭৭০৩, Mail-ajkerkagojbd22@gmail.com
ঠিকানা: বাড়ি ১৮, রোড ০১, সেকশন ০৮, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
Copyright © 2026 আজকের কাগজ. All rights reserved.