গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। শনিবার তেহরানে তার শেষকৃত্য শুরুর মধ্য দিয়ে দেশটিতে দীর্ঘ একটি যুগের সমাপ্তি হতে যাচ্ছে। ৮৬ বছর বয়সী এই নেতার বিদায়ে তেহরানের রাস্তায় এখন লাখো মানুষের ঢল।
তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় তার শোক ও জানাজা শুরু হয়েছে। পতাকায় মোড়ানো খামেনির কফিনের ওপর রাখা আছে তার কালো পাগড়ি। পাশেই রাখা হয়েছে হামলায় নিহত তার ১৪ মাস বয়সী নাতনিসহ পরিবারের অন্যদের ছোট-বড় কফিন। শোকাহত মানুষ প্রতিশোধের লাল ব্যানার হাতে ‘যুক্তরাষ্ট্র ধ্বংস হোক’ এবং ‘প্রতিশোধ’ বলে স্লোগান দিচ্ছেন।
প্রিয় নেতাকে বিদায় জানাতে এসে স্পিকার গালিবাফসহ অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। এক যুবক আক্ষেপ করে বলেন, ‘এই ট্র্যাজেডি দেখার আগে আমার মৃত্যু হলে ভালো হতো!’ ধারণা করা হচ্ছে, আগামী তিন দিনে তেহরানে প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি মানুষ জড়ো হবেন।
দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা খামেনির মৃত্যুতে ইরানে মূলত একটি যুগের অবসান হলো। ১৯৮৯ সালে তিনি ক্ষমতায় আসেন। তার সময়ে সেনাবাহিনী, বিচারবিভাগ ও গণমাধ্যম তার হাতেই ছিল। তার শাসনামলে আইআরজিসি ব্যাপক শক্তিশালী হয়ে ওঠে। আমেরিকা ও ইসরায়েলকে ঠেকাতে তিনি মিসাইল কর্মসূচি বাড়ান। পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর কথা অস্বীকার করলেও তিনি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার পক্ষে ছিলেন।
তবে তার মৃত্যু রাষ্ট্রকে দুর্বল করতে পারেনি; বরং ইরানিদের এক করেছে। গবেষক আলী আকবর দারেইনির মতে, খামেনি এমন এক শক্ত ব্যবস্থা তৈরি করেছেন যা কোনো ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে না। এটাই তার সবচেয়ে বড় অর্জন।
ছয় দিনের এই বিদায় অনুষ্ঠান ইরান ও ইরাকের বিভিন্ন শহরে চলবে। আগামী শুক্রবার খামেনির জন্মশহর মাশহাদে তার দাফন সম্পন্ন হবে।
এইচএসডিএফ ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম ইমন, আইন উপদেষ্টা : অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবু হানিফ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
মোবাইল নাম্বার -০১৬১০৫১৭৭০৩, Mail-ajkerkagojbd22@gmail.com
ঠিকানা: বাড়ি ১৮, রোড ০১, সেকশন ০৮, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
Copyright © 2026 আজকের কাগজ. All rights reserved.