শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সচেতনতার কেন্দ্র জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। কংক্রিটের পুরান ঢাকায় একটু সবুজের ছোয়া অবশিষ্ট রয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েই অথচ এই ক্যাম্পাসেই ঘটছে পরিবেশের প্রতি ভয়াবহ অবহেলা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে গাছের গায়ে নির্মমভাবে পেরেক ঠুকে ব্যানার ঝোলানো হয়েছে আর এই কাজটি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়েরই একটি সংগঠন, জগন্নাথ ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি।
জুলাই গনঅভ্যুত্থান উপলক্ষে গত ২৫ জুলাই হতে ৫ আগস্ট পর্যন্ত জেলা প্রশাসন, ঢাকা এবং জেলা পরিষদ,ঢাকা এর সহযোগিতায় বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে জগন্নাথ ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি। সে উপলক্ষে পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে প্রচারণার জন্য ব্যানারের ব্যবহার করে। বিশ্বিবদ্যালয়ের বেশ কিছু ভবনের দেয়াল, পিলার সহ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, ভিসি ভবন, শান্ত চত্ত্বর সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু গাছে পেরেক দিয়ে ব্যানার লাগানো হয়েছে। প্রায় ২০ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখনো গাছ গুলোতে ঝুলছে এসব ব্যানার। পেরেকের আঘাতে গাছের ছাল বিদীর্ণ, সবুজের দেহে লালচে ক্ষতচিহ্ন স্পষ্ট। গাছগুলো যেন নীরব আর্তনাদ করছে - যাদের ছায়ায় বসে আমরা শ্বাস নেই, যাদের কারণে আমরা তপ্ত শহরে এক চিলতে শান্তি পাই, সেই গাছগুলোই আজ মানুষের হাতে আহত।
বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করেছেন - গাছে পেরেক মারা মানে ধীরে ধীরে গাছকে হত্যা করা। ক্ষতস্থানে জীবাণু ঢুকে পচন শুরু হয়, গাছের জীবনপ্রবাহ থেমে যায়। এটি কেবল পরিবেশের ক্ষতি নয়, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর সরাসরি লঙ্ঘন।
প্রকৃতি প্রেমী শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ তীব্র। অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন,
"যারা বিতর্কে যুক্তি খোঁজে, তারা কি এই অমানবিক কাজের যুক্তি দিতে পারবে? গাছ কথা বলতে পারে না, তাই কি আমরা তাদের উপর এভাবে অত্যাচার করব?"
এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি মাঈন আল মুবাশ্বির এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচারের জন্য প্রায় বেশিরভাগ ব্যানার গুলোই এসব জায়গায় লাগানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমরা প্রচারণার জন্য অনুমতি নিয়েছি, তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের কে নির্দিষ্ট কোন নীতিমালা দেয়নি, তবে আমরা শিগ্রই এসব ব্যানার পোস্টার গুলো সরিয়ে নিব।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নীরবতা প্রশ্ন তুলেছে। এখনো পর্যন্ত পেরেকগুলো সরানো হয়নি, কিংবা এ সম্পর্কে দৃশ্যমান ব্যবস্থা বা সতর্কতা সৃষ্টি তে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগের চেস্টা করেও সম্ভব হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি গাছ কেবল কাঠের টুকরো নয় - এরা জীবন্ত সত্তা, আমাদের সহযাত্রী। কিন্তু প্রকৃতির এই আর্তনাদ আমাদের কে ভাবিয়ে তুলেছে। এখনই। এখনই সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এর শিক্ষার্থী, শিক্ষক - কর্মচারী, কর্তৃপক্ষ একসাথে প্রকৃতি রক্ষা করা। গাছ বাচুক, বাচুক আমাদের সবুজ জগন্নাথ।
এইচএসডিএফ ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম ইমন, আইন উপদেষ্টা : অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবু হানিফ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
মোবাইল নাম্বার -০১৬১০৫১৭৭০৩, Mail-ajkerkagojbd22@gmail.com
ঠিকানা: বাড়ি ১৮, রোড ০১, সেকশন ০৮, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
Copyright © 2026 আজকের কাগজ. All rights reserved.