চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ধুমধুমপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে যশোরের কোতোয়ালী থানা পুলিশ ও যশোর ডিবি যৌথ অভিযানে ধুমধুমপুর এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের রিকুইজিশনের প্রেক্ষিতে এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চেক পোস্ট বসিয়ে ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে ডেভিডকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এসময় তার সহযোগী আল ইসলাম আলিফ , তমাল, শামিম, সাফায়েতকে গ্রেপ্তার করা হয়৷
চট্টগ্রাম নগরের অপরাধজগতের আলোচিত নাম ডেভিড ইমন। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অস্ত্র ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
ডেভিড ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে একাধিক ডবল মার্ডারসহ ব্যাপক সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে৷ সর্বশেষ ডিডিএন নামক একটি ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানে ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে হামলার ঘটনা দেশজুড়ে বেশ আলোচিত হয় ডেভিড ইমন৷
এর আগে, চট্টগ্রামে বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলিসহ পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত রবিবার রাতে নগরের অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কের ওয়াজেদিয়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন— মো. আসিফ (২৫) ও সাইদুল ইসলাম ওরফে আরিফ (২৪)। এর মধ্যে আসিফ একটি মামলার পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি।
পুলিশের তথ্যমতে, গত দুই বছরে অন্তত সাতটি হত্যা মামলায় আসামি হয়েছেন ডেভিড ইমন। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, হামলা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে ডেভিড ইমন নামে কাউকে চট্টগ্রামের অপরাধ জগতে খুব একটা পরিচিত হিসেবে দেখা যায়নি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের গ্রুপের সদস্য হিসেবে পরিচিতি পান। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকায় কৃষক পরিবারে তার জন্ম। অল্প বয়সেই কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন এবং পরে বড় সাজ্জাদের দলে যোগ দিয়ে একাধিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার মাধ্যমে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যে পরিণত হন।
বর্তমানে বড় সাজ্জাদের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা হিসেবে কাজ করছিলেন ডেভিড ইমন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তার নেতৃত্বাধীন এই চক্রের সক্রিয় সদস্য সংখ্যা অর্ধশতাধিক। বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ, পতেঙ্গা, রাউজান ও হাটহাজারীসহ বিভিন্ন এলাকায় তাদের প্রভাব রয়েছে এবং এসব এলাকায় তারা চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল।
এর আগে এই গ্রুপের নেতৃত্বে ছিলেন ‘ছোট সাজ্জাদ’ নামে পরিচিত সাজ্জাদ হোসেন। তিনি কারাগারে যাওয়ার পর ডেভিড ইমন ও মোহাম্মদ রায়হান আলম নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথকভাবে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া হত্যাকাণ্ড এবং একই বছরের ২৩ মে রাতে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যার ঘটনায় ডেভিড ইমনের সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট আনিস ও মোহাম্মদ হাসান নামে দুই ব্যক্তিকে ব্রাশফায়ারে হত্যার ঘটনাতেও তার নাম উঠে আসে।
সর্বশেষ চন্দনপুরার ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় হামলাকারীদের অধিকাংশের বয়স ছিল ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। তারা সবাই সাজ্জাদ আলী খান গ্রুপের সদস্য বলে পুলিশের ধারণা।
এইচএসডিএফ ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম ইমন, আইন উপদেষ্টা : অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবু হানিফ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
মোবাইল নাম্বার -০১৬১০৫১৭৭০৩, Mail-ajkerkagojbd22@gmail.com
ঠিকানা: বাড়ি ১৮, রোড ০১, সেকশন ০৮, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
Copyright © 2026 আজকের কাগজ. All rights reserved.