নওগাঁর সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া বিল এলাকার বিস্তীর্ণ সরিষা ক্ষেত এখন শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, ভেজালমুক্ত মধু উৎপাদনের সম্ভাবনাময় এক অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত হয়ে উঠছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন তরুণ আরমান আলী।
আরমান আলী (২৬) সাপাহার উপজেলার ফুটকইল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে স্নাতক পর্যায়ে অধ্যয়নরত। পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরিজীবনের অভিজ্ঞতা থাকলেও স্বাধীনতা ও সম্মানজনক উদ্যোক্তা পরিচয়ের আকাঙ্ক্ষায় চাকরি ছেড়ে নিজ উদ্যোগে কাজ শুরু করেন তিনি।
২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে “খাঁটি উৎস (Khati Utsho)” নামে তার উদ্যোগের যাত্রা শুরু হয়। এর মূল লক্ষ্য ভেজালমুক্ত, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যপণ্য ভোক্তার কাছে পৌঁছে দেওয়া। বিশেষ করে মধুর মতো বহুল ভেজালযুক্ত পণ্যে শতভাগ বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য।
আরমান আলী বলেন, “বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ভেজাল হওয়া পণ্যের মধ্যে মধু অন্যতম। আমি চাই মাঠপর্যায় থেকে সংগ্রহ করা শতভাগ খাঁটি মধু মানুষের হাতে পৌঁছে দিতে।”
নিজস্ব তত্ত্বাবধানে মধু সংগ্রহ:
সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া বিল এলাকার সরিষা ক্ষেতে বসানো হয়েছে মৌ-বক্স। স্থানীয় মৌয়ালদের সহযোগিতায় মৌমাছিরা সরাসরি সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে। ১৮ থেকে ২২ দিন পর আধুনিক মেশিনের মাধ্যমে কোনো হাতের স্পর্শ ছাড়াই মধু সংগ্রহ করা হয়, যা এর বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করে।
একটি খামার থেকে একবারের হারভেস্টেই পাওয়া যায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ মন মধু। মৌমাছির পরাগায়নের ফলে সরিষার ফলনও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য বাড়তি লাভের সুযোগ তৈরি করেছে।
চুক্তিবদ্ধ খামার থেকে সংগৃহীত মধু বড় ড্রামে সংরক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী বোতলজাত করা হয়।
অনলাইনে বিক্রি, ক্যাশ অন ডেলিভারি
“খাঁটি উৎস”-এর মধু মূলত ফেসবুক প্রোফাইল ও পেজের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। সাপাহার উপজেলার ভেতরে বিনামূল্যে হোম ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ক্যাশ অন ডেলিভারিতে মধু পাঠানো হয়। ক্রেতারা পণ্য হাতে পেয়ে সন্তুষ্ট হলে মূল্য পরিশোধের সুযোগ পাচ্ছেন।
উদ্যোক্তার লক্ষ্য প্রতি মৌসুমে অন্তত ১০০ মন মধু বিক্রি করা। তার ক্রেতাদের বড় একটি অংশ প্রবাসী বাংলাদেশি, যারা দেশের বাইরে থেকেও পরিবারের জন্য বিশুদ্ধ খাদ্য নিশ্চিত করতে “খাঁটি উৎস”-এর ওপর আস্থা রাখছেন।
মধুর পাশাপাশি আম চাষ:
মধুর পাশাপাশি নওগাঁর বিখ্যাত আম নিয়েও কাজ করছেন আরমান আলী। সাপাহার অঞ্চলে তার নিজস্ব আম্রপালি আমের বাগান রয়েছে। মৌসুমে নিজের ও আশপাশের বাগান থেকে আম সংগ্রহ করে কুরিয়ারের মাধ্যমে সারাদেশে সরবরাহ করেন তিনি, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
ভেজালমুক্ত খাদ্য সরবরাহের লক্ষ্যে তরুণ উদ্যোক্তা আরমান আলীর এই উদ্যোগ কৃষক, মৌয়াল ও ভোক্তার মধ্যে আস্থার এক নতুন সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। তার এই সফলতা নিঃসন্দেহে দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
এইচএসডিএফ ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম ইমন, আইন উপদেষ্টা : অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবু হানিফ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
মোবাইল নাম্বার -০১৬১০৫১৭৭০৩, Mail-ajkerkagojbd22@gmail.com
ঠিকানা: বাড়ি ১৮, রোড ০১, সেকশন ০৮, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
Copyright © 2026 আজকের কাগজ. All rights reserved.