কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে স্বামীর দেওয়া আগুনে দ্বগ্ধ হয়ে গৃহবধূ ফাতেমা বেগম (২৮) দীর্ঘ ৭ দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গুনবতী ইউনিয়নের চাঁপাচৌ গ্রামে। গৃহবধু ফাতেমা ওই গ্রামের জাবেদ হোসেন ড্রাইভার (৩৫) স্ত্রী। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মৃত্যুর তথ্যটি নিশ্চিত করেছে চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন। তিনি জানান, গৃহবধূর গায়ে আগুন দেওয়ার পর থেকেই স্বামী জাবেদ ড্রাইভার পলাতক রয়েছে।
এদিকে মৃত্যুর আগে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অগ্নিদ্বগ্ধ গৃহবধূ ফাতেমা বেগম একটি ভিডিও ফুটেজে অভিযোগ করে বলেন, আমি বাড়িতে আমের ভর্তা বানিয়ে দিয়েছি, সন্ধ্যায় আমার স্বামী আমাকে গালিগালাজ করে আমার গলা টিপে ধরে। একপর্যায়ে আমি মাটিতে পড়েগেলে খাটের নিচ থেকে তেলের (জ্বালানি তেল) বোতল খুলে আমার গায়ে ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের বুরনকরা গ্রামের আবুল হাসেম প্রকাশ টুকু মিয়ার মেয়ে ফাতেমা বেগমের সাথে পাশ্ববর্তী গুনবতী ইউনিয়নের চাঁপাচৌ গ্রামের অলি আহমদের ছেলে জাবেদ হোসেন ড্রাইভারের সাথে ১০ বছর পূর্বে সামাজিকভাবে শরীয়াহ মোতাবেক বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন কারণে তাদের পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। এরই জের ধরে গত ১৩ এপ্রিল (সোমবার) রাতে স্বামী-স্ত্রী ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে ফাতেমার শরীরে তেল ছিটিয়ে দিয়ে আগুন দেয় তার স্বামী। এ সময়ে তার চিৎকারে আশ-পাশের লোকজন এগিয়ে আসলে জাবেদ পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহয়তায় গৃহবধূকে উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায় স্বজনরা। সেখানে ফাতেমার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে প্রেরণ করে। সেখানে ৭ দিন চিকিৎসা নেয়ার পর গত রোববার ভোরে গৃহবধূ ফাতেমা মারা যায়। ফাতেমার মৃত্যুর পর স্বজনরা লাশের ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ নিয়ে আসার চেষ্টা করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শাহবাগ থানা পুলিশকে বিষযটি অবগত করে। পরে পুলিশ গৃহবধূ ফাতেমার লাশ তাদের জিম্মায় দিয়ে মৃত্যুর তথ্য জানতে চেয়ে চৌদ্দগ্রাম থানাকে খবর দেয়। আইনী প্রক্রিয়া ও লাশের ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন জানান, সোমবার সকালে ঢাকার শাহবাগ থানা থেকে মেইলের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি। উপজেলার গুনবতীর চাঁপাচৌ গ্রামের ফাতেমা বেগম নামে এক গৃহবধূ অগ্নিদ্বগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে মৃত্যুবরণ করে। অগ্নিকান্ডের ঘটনার তথ্য জানতে চেয়েছে তারা। তদন্তে জানা যায়, গত ১৩ এপ্রিল রাতে পারিবারিক কলহের জেরে ফাতেমা বেগম নামে ওই গৃহবধূ অগ্নিদ্বগ্ধ হয়।
ওসি আরো জানান, ফাতেমার স্বামী জাবেদ হোসেন একজন গাড়ি চালক। তার ঘরে পেট্রোল ও অকটেন জাতীয় তৈল পূর্ব থেকে মজুদ ছিলো। দু’জনের ঝগড়ার একপর্যায়ে মজুদকৃত জ্বালানি তৈল দিয়ে অগ্নিদ্বগ্ধের ঘটনা ঘটে। আমরা তদন্ত প্রতিবেদনটি শাহবাগ থানায় প্রেরণ করেছি। গৃহবধূর পরিবার যদি কোন মামলা দায়ের করতে চায়, তাহলে আমরা তাদেরকে আইনগত সহযোগিতা করবো।
গুনবতী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাদ্দাম হোসেন বলেন, জাবেদ ড্রাইভার একজন গাড়ি চালক। তৈলের এই সংকটের সময়ে তিনি নিজ ঘরে জ্বালানি তৈল মজুদ করে রাখত। আর সেই মজুদকৃত তৈলেই অগ্নিদ্বগ্ধের ঘটনা ঘটে। তাদের বিয়ের পর থেকেই পারিবাহিক কলহ চলে আসছিলো।
নিহত গৃহবধূ ফাতেমা বেগমের চাচাতো ভাই আসিফ মঙ্গলবার সন্ধায় জানান, আমার বোনকে পরিকল্পিতভাবে ঘরের ভিতর রাখা মজুদকৃত তৈল গায়ে ঢেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার ভোরে সে বার্ন ইউনিটে মৃত্যুবরণ করে। ময়নাতদন্তের কাজ শেষে পুলিশ লাশ হস্তান্তর করে। মর্মান্তিক এ হত্যাকান্ডের বিচার চাই।
এইচএসডিএফ ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম ইমন, আইন উপদেষ্টা : অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবু হানিফ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
মোবাইল নাম্বার -০১৬১০৫১৭৭০৩, Mail-ajkerkagojbd22@gmail.com
ঠিকানা: বাড়ি ১৮, রোড ০১, সেকশন ০৮, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
Copyright © 2026 আজকের কাগজ. All rights reserved.