রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পাশাপাশি ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালায় একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী দুর্বৃত্তরা। এরা পুলিশের সামনেই প্রকাশ্যে অস্ত্র উচিয়ে হামলে পরে ছাত্র-জনতার উপর। ঢাকার, উত্তরা, আজিমপুর, যাত্রাবাড়ী, শনিআখড়া, মিরপুর, নিউমার্কেট, সায়েন্সল্যাব, জিগাতলা, মোহাম্মদপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া, চট্টগ্রাম, জামালপুর, সিলেট, পাবনা সহ দেশের অনেক জেলা-উপজেলায় সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন স্থানে অত্যাধুনিক অস্ত্র দিয়ে প্রকাশ্য গুলি চালায় ছাত্র-জনতার উপর। তখন থেকেই তাদের ছবি এবং ভিডিও ছড়িয়ে পড়তে থাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গুলোতে। প্রকাশিত হয় দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম গুলোতেও। তার পরেও ঘটনার এক মাসের বেশি অতিবাহিত হলেও অদৃশ্য কারনে এখনো অধরাই থেকে যাচ্ছে সেই অস্ত্রধারী দুষ্কৃতীকারিরা।

সূত্রে জানান, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ছত্রছায়াতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার ওপর প্রকাশ্যে গুলি করে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং তাদের অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, সেবকলীগের নেতাকর্মীরা। অস্ত্রধারী দুষ্কৃতীকারিদের গুলিতে হতাহতের সংখ্যাটাও কিন্তু নেহায়েত কম নয়। ছাত্র-জনতার একদফা অন্দোলনে গত ৫ আগস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর মূলত গা-ঢাকা দেয় এ সকল অস্ত্রধারী দুষ্কৃতীকারি সন্ত্রাসীরা।

এ সকল ঘটনায় পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, এসব অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে শনাক্ত করার পাশাপাশি আইনের আওতায় আনতে ইতি মধ্যেই যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু করেছে আনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তবে চলমান অভিযানে এখনো অবৈধ অস্ত্রধারীদের কাউকে গ্রেফতারের খবর পাওয়া যায়নি।
গত ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাধারণ শিক্ষার্থী এবং ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে। সে সময় পিস্তল হাতে এক যুবককে আন্দোলনকারীদের ওপর সরাসরি গুলি করতে দেখা যায়। ঢাবির শহীদুল্লাহ হলের সামনে ওই ঘটনা ঘটে। অস্ত্রধারীর নাম হাসান মোল্লা। সে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি এবং ঢাকা কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী। তাকে সাধারণ ছাত্রদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে দেখা যায় প্রকাশিত বিভিন্ন ছবিতে। আরেক জন কালো হেলমেট ও সাদা ফুলহাতা শার্ট পরা ছিল তাকেও গুলি ছুড়তে দেখা যায় ওই সময়ে । ঢাবি ক্যাম্পাস ছাড়াও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অস্ত্র হাতে গুলি করতে দেখা যায় নিউমার্কেট, সায়েন্সল্যাব, জিগাতলা এবং মিরপুর এলাকাতেও।

এ ছাড়াও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাধারণ শিক্ষার্থী রাজধানীর যেসব এলাকায় হতাহতের সংখ্যা বেশি হয়েছে, উত্তরা, আজিমপুর, যাত্রাবাড়ী, শনিআখড়া, মিরপুর ১০ গোলচ্বতর, দুই নাম্বার, শিয়ালবাড়ী মোড়, তার মধ্যে মোহাম্মদপুর, অন্যতম। দফায় দফায় চলা সংঘর্ষে সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ভাতিজা এবং কাউন্সিলর আসিফ আহমেদ, সাবেক কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীব, জাহাঙ্গীর কবির নানকের ব্যক্তিগত সহকারী মাসুদুর রহমান বিপ্লবসহ অন্তত এক ডজন ব্যক্তিকে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে দেখা যায় যা কিনি বিভিন্ন গণমাধ্যম গুলোর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
অন্যদিকে রাজধানীর রুপনগর থানাধীন দুয়ারীপাড়া এলাকার আওয়ামীলীগের নেতা গফুর মোল্লা তার অত্যাচার ও নির্যাতনের সাধারণ জনগণ ছিল অতিষ্ঠ তার ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পায়নি। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গফুর মোল্লাকে অস্ত্র হাতে ছাত্রদের উপর গুলি বর্ষণ করতে দেখা যায় এছাড়াও তিনি অস্ত্র হাতে মহরা দেন। এ সময় তার সাথে অস্ত্রধারী আরো কিছু সন্ত্রাসীদেরকে হেলমেট পরা দেশি অস্ত্র সহ ঘুরতে দেখা যায়। তার ছোড়া গুলিতে অনেক ছাত্র-জনতা আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। অন্তবর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া পরেও তিনি এখনো অস্ত্র জমা দেননি বলে খবর পাওয়া গেছে। তার বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহারে জনগণ হতাশ হয়ে পড়েছে। তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে অতিদ্রুত ব্যবস্থা নেবে এমনটাই প্রত্যাশা সচেতন মহলের এছাড়াও গফুর মোল্লার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছে ছাত্র-জনতা।এসকল অভিযোগের বিষয়ে আওয়ামীলীগ নেতা গফুর মোল্লার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি "আজকের কাগজকে" বলেন, আমি আওয়ামীলীগ করি স্থানীয় এমপির সাথে ছিলাম তাই আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে কোনো লুটপাট চাঁদাবাজীর সাথে জড়িত নই। অস্ত্র আমার বৈধ লাইসেন্স করা অবৈধ ব্যবহার করিনি। অস্ত্র জমার নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কেন জমা দেননি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা আমার ব্যক্তিগত অস্ত্র আমি ব্যস্ত আছি পরে কথা বলব বলে লাইনটি কেটে দেন তিনি।
যদিও পুলিশের দাবী, এখন পর্যন্ত কাউকেই শনাক্ত করতে পারেননি তারা। তবে শনাক্ত করে অবৈধ অস্ত্রধারীদের আইনের আওতায় আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় যারা প্রকাশ্য গুলি চালিয়েছিল তাদের ছবি দেখে শনাক্ত করতে কাজ করছে অইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, এনডিসি, পিএসসি (অব) "আজকের কাগজকে" বলেন, 'বৈধ অস্ত্রের যারা অবৈধ ভাবে ব্যবহার করেছে তাদেরকে ফৌজদারী আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে'। 'এতে কোন ছাড় দেওয়া হবে না যারা ছাত্র-জনতার উপর বরবরচিতভাবে গুলি করেছে তাদের এক একটি গুলির হিসাব নেয় হবে বলেও জানান তিনি।
এইচএসডিএফ ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম ইমন, আইন উপদেষ্টা : অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবু হানিফ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
মোবাইল নাম্বার -০১৬১০৫১৭৭০৩, Mail-ajkerkagojbd22@gmail.com
ঠিকানা: বাড়ি ১৮, রোড ০১, সেকশন ০৮, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
Copyright © 2026 আজকের কাগজ. All rights reserved.