
সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার জেরার সময় ট্রাইব্যুনালের পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলাটির জেরার সময় তিনি মন্তব্য করেন যে, আদালত এখন ‘সালিসের চেয়েও নিচে নেমে গেছে’। এ কথা তখন লিখছিলেন ট্রাইব্যুনালের টাইপিস্ট।
জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার অভিযোগ রয়েছে।
সোমবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলামকে জেরা করছিলেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. সাহিদুর রহমান। এ সময় জিয়াউলের বোন ও আইনজীবী নাজনীন নাহারও উপস্থিত ছিলেন। জেরা চলাকালে মনিটরে ভাসতে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তদন্ত কর্মকর্তাকে মনিটরের দিকে তাকাতে বলা হয়। এ নিয়ে একাধিক প্রসিকিউটর কথা বলায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে আইনজীবী নাজনীন নাহার প্রসিকিউশনের উদ্দেশে বলেন, ‘সবাই মিলে জেরার জবাব দিন।’ এর প্রেক্ষিতে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম উঠে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘আপনার অনেক কথা সহ্য করছি। আপনি যা খুশি তাই বলছেন।’ এ সময় নাজনীন নাহার তাকে আঙুল উঁচিয়ে কথা বলার কারণ জানতে চান। এই বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার বলেন, ট্রাইব্যুনাল সালিসের চেয়েও নিচে নেমে গেছে।
পরিস্থিতি শান্ত করতে ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউটরের উদ্দেশে জানতে চান যে তিনি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চান কি না। জবাবে প্রসিকিউটর বলেন, তিনি কেবল কোর্টের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে চান। তিনি জানান, এজলাসে আসামিপক্ষ ও আইনজীবীরা কথা বলায় আদালতের শৃঙ্খলা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এই রাগ করা, রাগ ভাঙানোর মাঝখানে ট্রাইব্যুনাল এজলাসে বসে আছেন।
পরে এ বিষয়ে মুঠোফোনে গাজী মোনাওয়ার গণমাধ্যমকে বলেন, একজন ডিফেন্স কাউন্সিল রাগ করে জেরা করবেন না বলে জানালে আরেকজন তাকে অনুরোধ করেন। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে আসামি নিজেও কথা বলছিলেন, যা আদালতের ডেকোরাম বা ডিসিপ্লিন নষ্ট করছে।
জেরার এক পর্যায়ে তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত জিয়াউল আহসান র্যাব ও এনএসআইয়ে কর্মরত ছিলেন। তবে তদন্তের প্রয়োজনে তিনি এনএসআইয়ে যাননি। তিনি দাবি করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকের সঙ্গে জিয়াউল আহসানের যোগাযোগ ছিল বলে তিনি তথ্য পেয়েছেন এবং তা নিজের ডায়েরিতে লিখে রেখেছেন। ‘গলফ অপারেশনের’ কথা বলে দেওয়ায় আলকাছ মাঝিকে শেষ করে দিতে বলেছিলেন জিয়াউল আহসান।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও স্বীকার করেন যে, শেখ হাসিনা ও তারিক সিদ্দিকের সঙ্গে জিয়াউল আহসানের মুঠোফোনে যোগাযোগের স্বপক্ষে তাঁর কাছে কোনো ডিজিটাল প্রমাণ নেই। জিয়াউল আহসানকে সশরীরে ট্রাইব্যুনালে না এনে কারাগার থেকে ভার্চ্যুয়ালি শুনানিতে অংশ নেওয়ানোর কথা আগেই জানানো হয়েছিল। ট্রাইব্যুনালে থাকা বড় দুটি মনিটরসহ অন্য মনিটরেও ভাসছিল।
এইচএসডিএফ ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম ইমন, আইন উপদেষ্টা : অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবু হানিফ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
মোবাইল নাম্বার -০১৬১০৫১৭৭০৩, Mail-ajkerkagojbd22@gmail.com
ঠিকানা: বাড়ি ১৮, রোড ০১, সেকশন ০৮, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
Copyright © 2026 আজকের কাগজ. All rights reserved.