বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ঢাকা-৫ আসনে দ্রুত একটি রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং এলাকার অর্থনৈতিক কাঠামোর উন্নয়ন ঘটবে।
তিনি বলেন, এ এলাকায় ইপিজেড স্থাপন করা গেলে অন্তত ছয় লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকার মানুষ কর্মসংস্থানের অভাবে ভুগছে।
বিএনপি ক্ষমতায় এলে পরিকল্পিতভাবে এখানে ইপিজেড গড়ে তোলা হবে, যাতে বেকারত্ব দূর করা যায়।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকা-৫ আসনের যাত্রাবাড়ী শহীদ ফারুক হোসেন রোডে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, দেশ গড়তে হলে পরিকল্পনা ও অভিজ্ঞতা দরকার। কর্মসংস্থান ছাড়া কোনো দেশের ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব নয়।
বিএনপিই একমাত্র দল, যাদের কাছে দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা ও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।
ইপিজেড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি সরকারই দেশে প্রথম ইপিজেড চালু করেছিল। কীভাবে ইপিজেড স্থাপন ও পরিচালনা করতে হয়-সে বিষয়ে বিএনপির অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই ঢাকা-৫ আসনে ইপিজেড গড়ে তোলা হবে।
২৪-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে এ এলাকার মানুষের ভূমিকার কথা স্মরণ করে তারেক রহমান আন্দোলনে নিহত ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, এ এলাকার মানুষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, এই অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের প্রতি সম্মান জানাতে হলে আমাদের দায়িত্বশীলভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে নারীদের স্বাবলম্বী করা, কৃষকদের সহায়তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শুধু ভোটাধিকার নয়, মানুষের মৌলিক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতাও গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
নারীদের ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের গৃহিণী সরাসরি সরকারি সহায়তা পাবেন এবং ধীরে ধীরে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবেন।
ছাত্র ও তরুণ সমাজের কর্মসংস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি সংসদীয় আসনে অন্তত একটি করে ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের দেশ ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে।
বিদেশগামী কর্মীদের জন্য স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি। তারেক রহমান বলেন, বিদেশে যেতে গিয়ে যেন তরুণদের জমি বা পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করতে না হয়, সে ব্যবস্থা করা হবে।
কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালুর ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে সার, বীজ ও কীটনাশক সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি সরকার গঠন হলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্যখাতের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, গ্রামে গ্রামে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে হেলথ কেয়ার কর্মী নিয়োগ করা হবে। বিশেষ করে মা-বোনদের চিকিৎসাসেবায় গুরুত্ব দেওয়া হবে।
জুলাই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, যারা জীবন দিয়ে যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই বাংলাদেশ গড়তে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।
বক্তব্য শেষে ঢাকা-৫ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নবী উল্লাহ নবীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
এইচএসডিএফ ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম ইমন, আইন উপদেষ্টা : অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবু হানিফ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
মোবাইল নাম্বার -০১৬১০৫১৭৭০৩, Mail-ajkerkagojbd22@gmail.com
ঠিকানা: বাড়ি ১৮, রোড ০১, সেকশন ০৮, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
Copyright © 2026 আজকের কাগজ. All rights reserved.