মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের হাউস ওভারসাইট কমিটিতে দেওয়া এক সাক্ষ্যে তিন নারীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, কুখ্যাত অর্থলগ্নিকারী জেফরি এপস্টেইন এসব সম্পর্কের তথ্য ব্যবহার করে তাঁকে ব্ল্যাকমেল করার চেষ্টা করতে পারেন বলে তিনি আশঙ্কা করেছিলেন।
সম্প্রতি প্রকাশিত সাক্ষ্যলিপি অনুযায়ী, গেটস জানান যে, রাশিয়ার ব্রিজ খেলোয়াড় মিলা আন্তোনোভা, পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞানী কারিমা নিগমাতুলিনা ও চিকিৎসা উদ্যোক্তা অ্যালিস জ্যাকবস নেসেলরড্টের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এপস্টেইনের সঙ্গে কোনো ধরনের যৌন অসদাচরণে তিনি জড়িত ছিলেন না এবং এমন কোনো কর্মকাণ্ড প্রত্যক্ষও করেননি।
গেটস জানান, ২০১১ সালে তাঁর সাবেক কর্মী ও পারস্পরিক পরিচিত চিকিৎসক বরিস নিকোলিচের মাধ্যমে এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তিনি মনে করেন, নিকোলিচ হয়তো তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলোর বিষয়ে এপস্টেইনকে জানিয়েছিলেন, যা পরে ব্ল্যাকমেলের সম্ভাব্য উপাদান হিসেবে ব্যবহারের চিন্তা করা হয়েছিল।
সাক্ষ্যে গেটস ২০১৩ সালে এপস্টেইনের লেখা কিছু খসড়া ই-মেইলের প্রসঙ্গও তোলেন। ওই ই-মেইলগুলোতে গেটসকে ঘিরে নানা অভিযোগ ও ইঙ্গিত ছিল। তবে গেটস দাবি করেন, সেগুলোর বিষয়বস্তু মিথ্যা এবং এপস্টেইন নিজের কাছে সংরক্ষিত খসড়া বার্তাগুলোতে তাঁর সম্পর্কে নেতিবাচক তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন।
এপস্টেইনের খসড়া ই-মেইলে আরও দাবি করা হয়েছিল, তিনি গেটসের জন্য যৌন সম্পর্কের ব্যবস্থা করেছিলেন এবং গেটসকে এমন ওষুধ দিয়েছিলেন, যা তিনি তাঁর তৎকালীন স্ত্রী মেলিন্ডা গেটসকে গোপনে খাওয়াতেন। এই অভিযোগও সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন গেটস। তিনি জানান, তাঁর কখনো যৌনবাহিত রোগ (এসটিডি) ছিল না এবং কাউকে গোপনে কোনো ওষুধও দেননি।
গেটস জানান, প্রায় চার বছরে তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে ১২ থেকে ১৪ বার সাক্ষাৎ করেছেন এবং দুবার স্কাইপে কথা বলেছেন। এপস্টেইনের অতীত অপরাধের বিষয়ে জানার পরও কেন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে গেটস বলেন, বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব না দেওয়াটা তাঁর ভুল ছিল এবং এ জন্য তিনি অনুতপ্ত।
উল্লেখ্য, অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন শোষণসংক্রান্ত মামলায় দণ্ডিত এপস্টেইন ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় গেটসের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি। তবে অতীতে এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জনমনে প্রশ্ন রয়েছে।
এইচএসডিএফ ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম ইমন, আইন উপদেষ্টা : অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবু হানিফ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
মোবাইল নাম্বার -০১৬১০৫১৭৭০৩, Mail-ajkerkagojbd22@gmail.com
ঠিকানা: বাড়ি ১৮, রোড ০১, সেকশন ০৮, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
Copyright © 2026 আজকের কাগজ. All rights reserved.