সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার মার্চের মাঝামাঝি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত টানা ভারী বৃষ্টিপাতে দুই উপজেলার বিভিন্ন হাওরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে প্রায় ২৯৫ হেক্টর জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে । এতে হাওরাঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
হাওরাঞ্চলে আকাশে মেঘের আনাগোনা অব্যাহত থাকায় কৃষকদের দুশ্চিন্তা কাটছে না। ফসল ঘরে তোলার আগ মুহূর্তে অকাল বৃষ্টিতে কৃষকদের চোখ এখন আকাশের দিকেই। কারণ বোরো ধানই তাদের সারা বছরের একমাত্র ভরসা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অনেক হাওরে এখনো পানি জমে রয়েছে। কৃষকরা জানান, কৃষি বিভাগের দেয়া ক্ষয়ক্ষতির হিসাবের তুলনায় বাস্তবে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হয়েছে।
মার্চের মাঝামাঝি সময়ে আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে এলেও মাসের শেষ দিকে আবারো ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় আবারও কৃষকদের উদ্বেগ বেড়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় মোট ৩১ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। এরমধ্যে
সোনাডুবি হাওরে ৫ হেক্টর, শ্যামসাগর হাওরে ৫ হেক্টর, কাতলা বিলে ২ হেক্টর, রুই কাইলানী বিলে ১০ হেক্টর, হারগুর বিলে ৩ হেক্টর, বইন্না হাওরে ৬ হেক্টর, ধরাম হাওরে ৫ হেক্টর, জয়ধনা হাওরে ১২ হেক্টর, ধানকুনিয়া হাওরে ১৪ হেক্টর, মাইন্নার হাওরে ২ হেক্টর, মেধার হাওরে ৮ হেক্টর, শৈল চাপড়া হাওরে ৬ হেক্টর, লাউরির হাওরে ১০ হেক্টর, নয়া বিলে ১৩ হেক্টর, টগার হাওরে ৮০ হেক্টর, কাইন্জা বিলে ৮ হেক্টর, হালকুমড়া হাওরে ১০ হেক্টর, বোগা বিলে ৫ হেক্টর, গুরাডোবা হাওরে ২০ হেক্টর, জাংগীয়া হাওরে ৮ হেক্টর, বোয়ালা হাওরে ৭হেক্টর, বন্যার হাওরে ৫ হেক্টর, শালদীঘা হাওরে ৮ হেক্টর, কালেনী হাওরে ২০ হেক্টর এবং গুরমা হাওরে ১২ হেক্টর ও ফাসোয়া হাওরে ১১ হেক্টর জমির ধান বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে ।
মধ্যনগর উপজেলার সাড়ারকোনা গ্রামের কৃষক আব্দুল জব্বার বলেন, বছরে এই সময়টাতে এমন ভারী বৃষ্টি হইতে জীবনে আর কোনো দিন দেখি নাই। বৃষ্টির পানি যেন আমাদের ফসলের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগে যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণের কথা বলেন, তার চেয়ে আরও বেশি ক্ষতি হয়েছে । মাঘুরা বিলে ১৫ কেয়ার জমিতে বোরো ধান চাষ করেছিলাম। ধানের থোড় বের হওয়ার সময় বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়। এখনো জমিতে পানি রয়েছে।
ধর্মপাশা উপজেলার বেখইজুড়া গ্রামের কৃষক আবুল কালাম চৌধুরী বলেন, আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে তাতে অনেক ক্ষতি হয়েছে।৩০ কেয়ার জমির ধানের থোড় পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানি না নামলে পুরো ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবার বৃষ্টি হলে আরও বড় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
ধর্মপাশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসয়াদ বিন খলিল রাহাত বলেন, অকাল বৃষ্টিতে কিছু হাওরে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। তবে আমরা নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। পানি দ্রুত নেমে গেলে বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা কমে যাবে।
তবে আবারও ভারী বৃষ্টি হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন, হাওর এলাকার পরিস্থিতি আমরা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখছি। জলাবদ্ধতা নিরসনে কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করছে।
এইচএসডিএফ ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম ইমন, আইন উপদেষ্টা : অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবু হানিফ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
মোবাইল নাম্বার -০১৬১০৫১৭৭০৩, Mail-ajkerkagojbd22@gmail.com
ঠিকানা: বাড়ি ১৮, রোড ০১, সেকশন ০৮, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
Copyright © 2026 আজকের কাগজ. All rights reserved.