নওগাঁর মান্দা উপজেলার নবগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোমেন্দ্রনাথ হাজরার বিরুদ্ধে কন্যা শিশু শিক্ষার্থীদের যৌন নিপিড়নের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এমন অভিযোগ উঠার পর ১৫ জুন সোমবার সকাল ১০ টার দিকে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা স্কুলটি ঘেরাও করেন। তবে অবস্থা বেগতিক দেখে পালিয়ে যান অভিযুক্ত ওই প্রধান শিক্ষক। এ ঘটনায় ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অভিভাবকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। জানা যায়, দীর্ঘদিন থেকে প্রধান শিক্ষক সোমেন্দ্রনাথ হাজরা মেয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের যৌন নিপিড়ন করে আসছিলেন। যৌন নিপিড়নের পর শিক্ষার্থীরা যেন তাদের বাড়িতে কাউকে কিছু না বলে সে ব্যাপারে নিষেধ করা হতো। প্রতিনিয়ত অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে মেয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের বুক, পেটসহ স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দিয়ে যৌন নিপিড়ন করা হতো। এমনকি প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের সাথে একই আচরণ করতেন তিনি। ছাত্রীদের বলা হতো আমি তোমাদের বন্ধু পকেটে টাকা এনেছো কিনা তা দেখতে বুক পকেটে হাত দিতো। এমনকি খেলাধুলার সময় তিনি মেয়েদের ড্রেস নিজে পরাইয়া দিতেন। সুযোগ পেলেই জড়িয়ে ধরতেন ছাত্রীদের। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে জানান, তোমার কি ব্রা পরে আসছো। পকেটে টাকা নিয়ে আসছো বলে বুকে হাত দিতো। আবার বুকে জাড়িয়ে ধরতো ওই প্রধান শিক্ষক।
এ ব্যাপারে এক ৫ম শ্রেণীর ছাত্রীর মা নাহিদা খাতুন বলেন, দীর্ঘদিন থেকে শিক্ষার্থীদের সাথে ওই প্রধান শিক্ষক যৌন হেনেস্তার মত কাজ করে আসছেন। বাচ্চা মেয়েদের সাথে এমন জঘন্য কাজ করে তাহলে ওই শিক্ষকের রুচিবোধ কেমন হবে। বাচ্চাদের স্কুলে যাওয়াও নিরাপদ মনে করছি না। এর উপযুক্ত শাস্তির দাবি করছি। ৩য় শ্রেণীর ছাত্রীর মা মমেনা আক্তার বলেন, মেয়ে বাচ্চাদের আদর করে বুকে জড়িয়ে নেয়, বুকে হাত দেয়। তার কি সন্তান নেই। আবার বড় মেয়েদের খেলার ড্রেস নিজে পরাইয়া দিতেন। বাচ্চারা কি পোশাক পরতে পারে না, কেন তাদের পোশাক পরিয়ে নিতে হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থীর মা বলেন, জোর করে তার মেয়েকে জড়িয়ে ধরেছে। প্রতিষ্ঠান ঘেরাও'র খবর পেয়ে তার মেয়ে জানায়, তার সঙ্গেও কয়েক দিন এরকম আচরণ করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষক সোমেন্দ্রনাথ হাজরা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি বিশেষ মহল তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমুলকভাবে অপপ্রচার করছে। মান্দা উপজেলা শিক্ষা অফিসার ড. সাবরিনা আনাম বলেন, বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে দুইজন কর্মকর্তাকে পাঠানো হয় এবং এ নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। অভিভাবকদের পক্ষ থেকে এবিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আখতার জাহান সাথী বলেন,অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এইচএসডিএফ ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম ইমন, আইন উপদেষ্টা : অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবু হানিফ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
মোবাইল নাম্বার -০১৬১০৫১৭৭০৩, Mail-ajkerkagojbd22@gmail.com
ঠিকানা: বাড়ি ১৮, রোড ০১, সেকশন ০৮, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
Copyright © 2026 আজকের কাগজ. All rights reserved.