নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে নওগাঁর বেশির ভাগ ইটভাটায় কাঠ পোড়ানোসহ তিন ফসলি জমির মাটি দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ইট।
ফলে একদিকে ফসলি জমির পরিমাণ কমছে অপর দিকে কাঠ পোড়ানোয় ভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় এলাকার পরিবেশ দূষণ হচ্ছে।
অনুমতিবীহিন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই এসব অবৈধ ইটভাটায় প্রকাশ্যে পোড়ানো হচ্ছে বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছের কাঠ।
একই সঙ্গে তিন ফসলি জমির মাটি কেটে নিয়ে গিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ইট।
সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় এ জেলায় ১৩০টি ইট ভাটা চালু রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ২৩ টি ভাটার পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র রয়েছে। জেলার সদরসহ ১১ উপজেলার অধিকাংশ ইটভাটায় এমন দৃশ্য চোখে পড়লেও সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা গুলো রয়েছে নিরব দর্শকদের ভুমিকায়। সদর উপজেলার বরুনকান্দি এলাকায় দিঘা গ্রামে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এম.বি.কে নামের এক ইটভাটা বন্ধে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ১৩৭ জন বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ ইটভাটার স্বত্বাধিকারী আব্দুল মান্নান দাবি করেন,সম্প্রতি মালিক সমিতির আন্দোলনের সময় ডিসি অফিস থেকে তার ইটভাটা এই বছরের জন্য চালু রাখার মৌখিক অনুমোদন দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, লোক দেখানো কিছু ইটভাটায় অভিযান চালালেও অদৃশ্য কারণে সেই ইটভাটাগুলো সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে পুনরায় তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
ফসলি জমি থেকে কেটে নেয়া মাটি দিয়ে ইট তৈরি এবং কাঠ নিয়ে ইট পোড়ানোর বিষয়ে অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার না পাওয়ায় হতাশ এলাকাবাসী। জেলার পোরশা উপজেলার ইটভাটা গুলোতে সবচেয়ে বেশি কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। এ উপজেলায় ১১টি মধ্যে ৮টি ইটভাটায় পোড়ানো হচ্ছে বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছের কাঠ। কৌশল করে ইটভাটা মালিকরা এলাকার স্বল্প শিক্ষিত কৃষকদের লোভনীয় টাকার প্রলোভন দিয়ে তাদের জমি থেকে মাটি কেটে নিচ্ছে। পোরশার একটি ফসলি মাঠের প্রায় আংশিক এলাকা জুড়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে ভাটার মালিক কামরুল হাসান চৌধুরী। ভাটার ম্যানেজার তারেক আজিজ জানান,এ ইটভাটার আয়তন এখন ৫৫ বিঘা জমি জুড়ে। সকল জমি বিভিন্ন মেয়াদে লীজ নেয়া আছে। পরিবেশের ছাড়পত্র সনদসহ সরকারি সকল বিষয়ে রাজস্ব দেয়া হয়।ম্যানেজার আজিজ অকপটে স্বীকার করলেন, ইটভাটাতে কাঠ পোড়ানো স্বাভাবিক বিষয়।এসব বিষয়ে গণমাধ্যম কর্মীরা কে.ই.বি.সি ইটভাটার স্বত্বাধিকারী ও পোরশা উপজেলা মালিক সমিতির সভাপতি আকবর আলী কালু'র মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম মিঠু মুঠোফোনে বলেন, কোন ভাবেই ইটভাটাতে কাঠ পোড়ানো যাবে না। কারণ ডিসি অফিসে ভাটা মালিকদের প্রথম অঙ্গীকার ছিল কোন ক্রমেই ইটভাটাতে কাঠ পোড়ানো হবে না। যদি কেউ কাঠ পোড়ায় তাহলে প্রশাসন ব্যবস্থা নিবে। পোরশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন,তিনি নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত আছেন। তবে ব্যস্তার মধ্যেও মাটিকাটাসহ কাঠ পোড়ানোর বিষয়ে কেউ তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে অভিযান চালানো সহজ হবে বলে তিনি জানান। নওগাঁ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নাজমুল হোসাইন মুঠোফোনে বলেন, যেসব ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো হচ্ছে, ওইসব ইটভাটায় গতবছর যেভাবে অভিযান চালানো হয়েছিল, এবারও চালানো হবে।
এইচএসডিএফ ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম ইমন, আইন উপদেষ্টা : অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবু হানিফ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
মোবাইল নাম্বার -০১৬১০৫১৭৭০৩, Mail-ajkerkagojbd22@gmail.com
ঠিকানা: বাড়ি ১৮, রোড ০১, সেকশন ০৮, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
Copyright © 2026 আজকের কাগজ. All rights reserved.