নওগাঁর মান্দা উপজেলার পরানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিতের সহকারী শিক্ষক জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে একই বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষিকাকে দীর্ঘদিন ধরে কুপ্রস্তাব দেয়াসহ যৌন হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবীতে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই শিক্ষিকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও মান্দা থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রায় এক বছর ধরে বিভিন্ন অজুহাতে অভিযুক্ত শিক্ষক জিয়াউল হক জিয়া ওই শিক্ষিকাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি নিজের আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে কয়েকদিন পর আবারো অনুরুপ আচরণ শুরু করেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষিকা। এরপর গত ১০ জুন নবম শ্রেণীর ক্লাসে যাওয়ার সময় বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের তৃতীয় তলার বারান্দায় শিক্ষার্থীদের সামনে তার পথরোধ করে তাকে হেনস্তা করা হয়। খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।
এ ঘটনার পর তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনায় ক্ষুব্ধ অভিযুক্ত শিক্ষক গত ১৭ জুন বুধবার বিদ্যালয়ের সামনে ওই শিক্ষিকাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন। এসময় বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এঘটনায় হেনস্তার শিকার শিক্ষিকা মান্দা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ভুক্তভোগীর দাবী, ওইসব অভিযোগ দেয়ার পর তাকে মোবাইল ফোনে হত্যার হুমকিও দেয়া হচ্ছে। শিক্ষিকা হেনস্তার ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
১৮ জুন বৃহস্পতিবার দুপুরে এলাকাবাসী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে বিক্ষোভ করেছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয় থেকে সটকে পড়েন বলে স্থানীয়রা জানান। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, সহকারী শিক্ষক জিয়াউল হক জিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ গুলোর বিষয়ে প্রতিষ্ঠান থেকে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে তিনি তাতে সাড়া না দেয়ায় ভুক্তভোগী শিক্ষক প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক জিয়াউল হকের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি তদন্তের জন্য উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ওই শিক্ষিকার দেয়া লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ খোরশেদ আলম বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এইচএসডিএফ ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম ইমন, আইন উপদেষ্টা : অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবু হানিফ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
মোবাইল নাম্বার -০১৬১০৫১৭৭০৩, Mail-ajkerkagojbd22@gmail.com
ঠিকানা: বাড়ি ১৮, রোড ০১, সেকশন ০৮, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
Copyright © 2026 আজকের কাগজ. All rights reserved.