বৃটেনের সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীকে দেশটির জনগণ সরাসরি নির্বাচিত করেন না। বরং ভোটাররা নিজেদের এলাকার প্রতিনিধি হিসেবে ৬৫০ সদস্যের হাউস অব কমন্সে একজন সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচন করেন।
বৃটেনে জাতীয় নির্বাচনের পর যে রাজনৈতিক দল হাউস অব কমন্সে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বা সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন নিশ্চিত করতে পারে, সেই দলের নেতাই প্রধানমন্ত্রী হন।
সর্বশেষ ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টি বড় ধরনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল। ফলে দলটির নেতা কিয়ার স্টারমার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তবে স্টারমারের পদত্যাগের পরও বৃটেনের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার চিত্রে কোনো পরিবর্তন হয়নি। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি এখনও হাউস অব কমন্সে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল এবং পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা ২০২৯ সালে।
এ কারণে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয় লেবার পার্টির নেতৃত্ব পরিবর্তনের মাধ্যমে।স্টারমারের পদত্যাগের পর অ্যান্ডি বার্নহ্যাম লেবার পার্টির নেতৃত্বের জন্য প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। তবে তার বিপক্ষে আর কোনো প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি।
ফলে গত শুক্রবার তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হন। এর মধ্য দিয়েই সোমবার (২০ জুলাই) বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পথ সুগম হয় বার্নহ্যামের।
এর মধ্য দিয়ে গত এক দশকের মধ্যে বৃটেন সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পেলো। সোমবার বৃটেনের রাজপ্রাসাদ বাকিংহাম প্যালেস নিশ্চিত করেছে যে, লেবার পার্টির নবনির্বাচিত নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সঙ্গে রাজা তৃতীয় চার্লসের আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ সম্পন্ন হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কিয়ার স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো ।
বাকিংহাম প্যালেসের দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজা তৃতীয় চার্লস অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে সাক্ষাৎ দিয়েছেন এবং তাকে নতুন সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। বার্নহ্যাম মহামান্য রাজার প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।বৃটেনের সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী, দেশটিতে সাধারণ নির্বাচনের পর যে নেতা হাউস অব কমন্সে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থন পান, রাজা তাকেই সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান। রাজার সঙ্গে এই সাক্ষাৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের শেষ আনুষ্ঠানিক ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়।
যেসব প্রতিশ্রুতি দিলেন বার্নহ্যাম
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর বার্নহ্যাম তার প্রথম ভাষণে ঐক্য, আশা ও গৃহহীনতা দূর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজ করব। সরকারের কেন্দ্রবিন্দুতে সঠিক মূল্যবোধ ও সঠিক মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করব।
তিনি আরও বলেন, আসুন আমরা জাতীয় ঐক্য, অভিন্ন লক্ষ্য এবং ইতিবাচক মনোভাবের নতুন চেতনা গড়ে তুলি। এটিই হোক সেই মুহূর্ত, যখন বৃটেন আবার নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে শুরু করবে- যখন আমরা আশা ফিরিয়ে আনব।এই আহ্বানের আগে বার্নহ্যাম তার সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে দেশের গৃহহীন মানুষের দুর্ভোগ দূর করার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বলেন, বৃটেনে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানোর (রাফ স্লিপিং) অবসান ঘটানো হবে।
একই সঙ্গে এ সমস্যা মোকাবিলায় অতিরিক্ত ৩৪ কোটি পাউন্ড (প্রায় ৪৫ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার) বরাদ্দ দেয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
এইচএসডিএফ ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম ইমন, আইন উপদেষ্টা : অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবু হানিফ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
মোবাইল নাম্বার -০১৬১০৫১৭৭০৩, Mail-ajkerkagojbd22@gmail.com
ঠিকানা: বাড়ি ১৮, রোড ০১, সেকশন ০৮, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
Copyright © 2026 আজকের কাগজ. All rights reserved.