
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে ৮ লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে হয়েছে এক গৃহবধূর।
সানজিদা নামের ওই গৃহবধূ পাঁচ বছরের শিশু সন্তান ও স্বামীকে রেখে পরকীয়া প্রেমিকের বাড়িতে গত পাঁচদিন ধরে অবস্থান করছিলেন। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় আট লাখ টাকা কাবিনে তাদের বিয়ে হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বালিয়াজান গ্রামে।
রোববার (২৪ মে) দুপুরে বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য ফিরোজা বেগম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে, ওই ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সোনালিয়া গ্রামের সিঙ্গাপুর প্রবাসী ফারুকের স্ত্রী এক সন্তানের জননী সানজিদার বালিয়াজান গ্রামের সিদ্দিকের ছেলে সাব্বিরের সঙ্গে গত চার বছর ধরে পরকীয়া সম্পর্ক চলে আসছিল। দুই সপ্তাহ আগে ফারুক সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরেন। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে ফারুকের স্ত্রী সানজিদা সবার অগোচরে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। খোঁজ করতে গিয়ে ফারুক এবং তার পরিবারের লোকজন জানতে পারেন সানিজদা বিয়ের দাবিতে সাব্বিরের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছে।
ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় উৎসুক জনতা সাব্বিরের বাড়িতে ভিড় জমাতে শুরু করে। সানিজদাকে দেখে সাব্বির বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। ওইদিন সন্ধ্যায় বাঁশতৈল ইউপির সদস্য ফিরোজা বেগম ও গ্রাম্য মাতবররা বিষয়টি সুরাহা করতে বালিয়াজান গ্রামের শামুদ্দিনের বাড়িতে বৈঠকে বসেন।
সাব্বির বাড়িতে না থাকায় কোনো সুরাহা ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। কিন্তু কোনভাবেই সাব্বিরের বাড়ি থেকে যাবে না বলে জানান সানজিদা।
তিনি বলেন, সাব্বিরের কথায় আমি শিশু সন্তান রেখে স্বামীর সংসার ছেড়ে এই বাড়িতে এসেছি। আমি মরলে এই বাড়িতেই মরব, বাঁচলেও সাব্বিরের সঙ্গেই বাঁচব; তবু এ বাড়ি থেকে যাব না।
তার এ কথার প্রেক্ষিতে মাতবররা সানজিদাকে সাব্বিরের মায়ের কাছে রেখে আসেন। এভাবেই ওই বাড়িতে টানা পাঁচদিন সানজিদা অবস্থান করেন।
পাঁচদিন আত্মগোপনে থাকার পর শনিবার (২৩ মে) সন্ধ্যায় সাব্বির বাড়ি ফিরে সানজিদাকে বিয়ে করতে সম্মত হন। পরে রাতেই আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়।