চট্টগ্রাম জেলার রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় কয়েকটি বসতঘরে পরিকল্পিতভাবে অগ্নিসংযোগের মূলরহস্য উদঘাটন করে জড়িত থাকার অভিযোগে ৭জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ডিসেম্বর মাসে চট্টগ্রাম জেলার রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া থানা এলাকায় গভীর রাতে কয়েকটি বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে এর ফলে কিছু বসতঘর আংশিক ক্ষ্তিগ্রস্থ এবং কিছু বসতঘর একেবারে ভস্মিভূত হয়। অগ্নিসংযোগের ঘটনাস্থল থেকে প্লাস্টিকের বস্তা দিয়ে তৈরি ব্যানার উদ্ধার করা হয় এবং কিছু দুর্বৃত্তের জড়িত থাকার প্রমান পাওয়া যায় । ব্যানার গুলোতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টে উসকানিমূলক বক্তব্য, কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার নাম এবং অর্ধশতাধিক মোবাইল নম্বর লেখা পাওয়া যায়। রাতের অন্ধকারে পরিকল্পিতভাবে ব্যানার টানিয়ে বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলোকে প্রাথমিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রনোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে প্রতিয়মান হয়।
জেলা পুলিশ আরো জানায়, ঘটনার তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে তথ্য-উপাত্ত, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে গত ২জানুয়ারি দুপুর আনুমানিক সাড়ে বারোটায় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার কলেজ গেট এলাকা থেকে ঘটনায় জড়িত একজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের সময় তার বসতঘর তল্লাশি করে ৩টি খালি প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করা হয়, যা ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত ব্যানারের সাথে সম্পূর্ণ মিল রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে, সে রাঙ্গামাটির লোকমান, রাঙ্গামাটির পৌরসভার সাবেক কমিশনার ও রাউজানের একজন ব্যক্তির পরিকল্পনায় ১৫/১৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু ও বৌদ্ধদের বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করে এবং পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বসতঘরে অগ্নিসংযোগ এর পরিকল্পনা করে। পাশাপাশি জনমনে বিভ্রান্তি ও ভীতি সৃষ্টির লক্ষ্যে ষড়যন্ত্রমূলক ব্যানার টানিয়ে রাখে।
তদন্তে পুলিশ আরও জানতে পারেন, এসব ঘটনার মাধ্যমে একদিকে দেশে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করা এবং অপরদিকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অপপ্রচার চালিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিভ্রান্তি সৃষ্টির করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চক্রান্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রেফতারকৃত আসামি মনিরের পারিবারিক বিরোধ ও প্রতিশোধমূলক মনোভাব থেকে ব্যানারে কিছু ব্যক্তির নাম ও মোবাইল নম্বরও সংযুক্ত করা হয়।
আসামি মনির থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে গ্রেফতারকৃত আসামি: ১. মনির হোসেন ২. মোহাম্মদ ওমর ফারুক ৩. মোহাম্মদ কবির হোসেন ৪. কার্তিক দে ৫. বিপ্লব বড়ুয়া ৬. মোহাম্মদ লোকমান এবং ৭. মোঃ পারভেজ।
ঘটনাস্থল ও আসামীদের হেফাজত হতে উসকানিমূলক ব্যানার-৪টি, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত কেরোসিন তৈলের কন্টিনার-২টি যা কেরোসিন তৈল ক্রয়ের দোকানের কন্টেইনারের সাথে মিল পাওয়া যায়। কেরোসিন তৈলের বোতল-১টি সিএনজি ড্রাইভার এর বসতঘরের খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় যা পূর্বের ঘটনায় ব্যবহৃত হয়েছিল। কেরোসিন তৈলমাখা লুংগি-১টি ও তৈলমাখা পুরাতন কালো শার্ট-১টি যা প্রথম ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়। খালি প্লাস্টিকের বস্তা-৩টি যা অভিযুক্ত মনিরের বাসা থেকে উদ্ধার যেগুলোর সাথে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত প্লাস্টিকের বস্তার সাথে মিল পাওয়া যায়। ব্যানারে উল্লেখিত মোবাইল নাম্বারসমূহ সংরক্ষিত মোবাইল ফোন-১টি এবং সিএনজি চালিত অটোরিকশা-১টি ও মোটরসাইকেল-১টি যেগুলো ৫টি ঘটনাস্থলে গমনাগমনের জন্য ব্যবহৃত আলামতসমূহ উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা: মূল পরিকল্পনাকারী ও ঘটনায় সক্রিয় নেতৃত্ব প্রদানকারী একজনের নাম পাওয়া যায়। তিনি স্থানীয় নার্সারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং হিন্দু, বৌদ্ধ ও পাহাড়ি সম্প্রদায়ের বসতঘরে অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সমন্বয়কারী হিসেবে রাঙ্গামাটিতে বসবাসকারী একজনের নাম পাওয়া যায়। তিনি অন্যান্য সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও ঘটনাস্থলে যাতায়াত ও সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে অগ্নিসংযোগের ঘটনার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করেছেন। উক্ত পরিকল্পনার বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেছেন সংক্রান্ত নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন সমর্থিত সাবেক কমিশনারের তথ্য পাওয়া যায়।
গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত মনিরের পারিবারিক বিরোধ ও বিপুল পরিমাণ টাকার প্রলোভনে উক্ত পরিকল্পনায় তিনি অংশগ্রহণ করেছেন এবং পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক অন্যান্য সহযোগীদের সঙ্গে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কয়েকটি বসতঘরে অগ্নিসংযোগ ঘটাতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন বলে জানা যায়।
গ্রেফতারকৃত আসামি মনির ইতোমধ্যে ঘটনার দায় স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। আটককৃতদের দেওয়া তথ্যমতে অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি ( অতিরিক্ত আইজিপি পদন্নোতি প্রাপ্ত) আহসাব হাবীব পলাশ এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার নজীর আহমেদ খাঁন। ব্রিফিংকালে উপস্থিত সাংবাদিকদের পুলিশ সুপার বলেন, যেকোন নাশকতা ঠেকাতে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর। অগ্নিসংযোগ, উসকানি ও সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে এবং এ ধরনের অপরাধে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।
এইচএসডিএফ ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম ইমন, আইন উপদেষ্টা : অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবু হানিফ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
মোবাইল নাম্বার -০১৬১০৫১৭৭০৩, Mail-ajkerkagojbd22@gmail.com
ঠিকানা: বাড়ি ১৮, রোড ০১, সেকশন ০৮, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
Copyright © 2026 আজকের কাগজ. All rights reserved.