বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় মধ্যরাতে ঘরে ঢুকে রীতা রানী মজুমদার (৪৫) নামের এক গৃহবধূকে গ/লা কে/টে হ/ত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (২০ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার সুখানপুকুর ইউনিয়নের মমিনহাটা দক্ষিণপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রীতা রানী মজুমদার ওই এলাকার বিধান চন্দ্র রায় (মজুমদার)-এর স্ত্রী। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে ছেলে বিশ্বজিৎ মজুমদার রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পুরকৌশল বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত আছেন। ছেলে-মেয়েরা পড়াশোনা ও চাকরির প্রয়োজনে ঢাকায় থাকতেন। বাড়িতে শুধু স্বামী-স্ত্রী দুজনই বসবাস করতেন বলে জানা যায়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ১০টা নাগাদ রীতা রানী ও তাঁর স্বামী একসঙ্গে রাতের খাবার শেষ করে ভুক্তভোগী ঘুমাতে যান। তাঁর স্বামী ধর্মচর্চার উদ্দেশ্যে পাশের ঘরে অবস্থান করেন এবং সেখানেই ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ১২টার পরে ঘরের দরজায় জোরে ধাক্কার শব্দে বিধান চন্দ্রের ঘুম ভেঙে যায়। এরপর পাশের ঘর থেকে স্ত্রীর অস্বাভাবিক গোঙানির শব্দ শুনে তিনি হকচকিয়ে যান। দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে তিনি হতবিহ্বল হয়ে যান।
ঘরের আলো জ্বালিয়ে মেঝেতে তার সহধর্মিনির গ/লা কা/টা রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এলেও এসময়ের মধ্যেই দুর্বৃত্তরা নাগালের বাইরে চলে যায়। ঘটনার সময় বাড়ির সদর দরজা খোলা অবস্থায় পাওয়া যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গাবতলী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের ছেলের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও, তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে তার সহপাঠী তুষারের সাথে যোগাযোগ করলে প্রাথমিকভাবে কিছু তথ্য উঠে আসে। তিনি জানান, ঘটনার দিনে অর্থাৎ ২০মে রাতে তার বন্ধু (বিশ্বজিৎ মজুমদার) রাত ১২টার পর হঠাৎ চিৎকার করে ওঠেন। পরে এই মর্মান্তিক ঘটনার বিষয়ে জানতে পারেন তার রুমমেট রা। ঐদিন রাতেই বিশ্বজিৎ ও তার বোনকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তায় গাড়িতে তুলে দেয়া হয় বগুড়ায় নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে।
জনাব তুষার জানান, বিশ্বজিতের কাছে বলতে শুনেছেন গ্রামে পূজা কেন্দ্রিক একটি ঘটনা নিয়ে ঝামেলা হয়, যেখানে বিশ্বজিতের পরিবারকে জড়িত করার চেষ্টা করা হয়। প্রাথমিক ভাবে তাদেরকেই সন্দেহের তালিকায় রেখেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। তবে অপরাধীদের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, নিহতের শেষকৃত্য ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
এইচএসডিএফ ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম ইমন, আইন উপদেষ্টা : অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবু হানিফ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
মোবাইল নাম্বার -০১৬১০৫১৭৭০৩, Mail-ajkerkagojbd22@gmail.com
ঠিকানা: বাড়ি ১৮, রোড ০১, সেকশন ০৮, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
Copyright © 2026 আজকের কাগজ. All rights reserved.