রাজধানী মিরপুরের শাহআলী থানা এলাকাতে রাতারাতি বড়লোক হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে এক শ্রেনির লোক দীর্ঘদিন যাবত মরন নেশা ইয়বা, ফেন্সিডিল,গাঁজা, টাপেন্ডা, হেরোইন বিক্রি করে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর মাদকের কাঁচা টাকা দ্রুত আসে এ কারণে বেকার যুবক, নারী-পুরুষ সবাই এই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান নিয়মিত চলছে বলা হলেও মাদকবিরোধী অভিযান তেমন একটা চোখে পরছে না।
অতীতেও মাদকবিরোধী অভিযান কিছু দিন চলার পর তা আবার ঝিমিয়ে পড়ে। এই সুযোগে প্রশাসনের চোঁখ ফাকি দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে এই রমরমা মাদক ব্যবসা। তবে মাদক ব্যবসার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক শ্রেণির সদস্য এবং স্থানীয় কতিপয় রাজনৈতিক নেতা জড়িত থাকার কারণেই মাদকবিরোধী অভিযান সফল হচ্ছে না। এর ফলে মাদকের ভয়াবহ ছোবলে ধংস হচ্ছে যুবসমাজ। মাদকের নেশায় লন্ডভন্ড হচ্ছে নিন্মবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানেরা। মাদকের ছোবলে অবিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিয়ে রয়েছে চরম উদ্বেগ- উৎকন্ঠায়। জানা গেছে, রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়া পেয়ে শাহআলী থানাধীন মাজারের সামনে ইয়াবা, গাজাঁ, হেরোইন, ফেন্সিডিলের মত মাদক কারবারিতে জড়িয়ে পরছে একটি চক্র। বিভিন্ন অপকৌশল অবলম্বন করে মাদক বিক্রি করার সময় গত ১০ এপ্রিল বুধবার মাজারের এক নম্বর গেটের পাকা রাস্তার উপর অভিযান পরিচালনা করার সময়ে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় তিনজন নারী। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ হেরোইন ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতার কৃতরা হলেন, (১) মোসাঃ শশী আক্তার (২২) কাছ থেকে ৫ গ্রাম হেরোইন, (২) রাজিয়া আক্তার (৩২) কাছ থেকে ৩ গ্রাম হেরোইন ও ৪০ পুড়িয়া গাজাঁ, (৩) মোসাঃ রুপা (২৪) থেকে ৫ গ্রাম হেরোইন । এই ঘটনায় শাহআলী থানা পুলিশ ৬ জনের নাম উল্লেখ্য করে একটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। যার মামলা নং-১৫/৯৪ তারিখ- ১১ এপ্রিল ২০২৪। এতেই বেরিয়ে আসে মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণের চাঞ্চল্যকর তথ্য। উল্লেখ্য আসামিরা হলেন, (১) মোসাঃ শশী আক্তার (২২), (২) রাজিয়া আক্তার (৩২), (৩) মোসাঃ রুপা (২৪), এবং পলাতক দেখানো হয় (৪) মো জাকির ওরফে বিন্দু জাকির (৩৭), (৫) শামিম (২৫), (৬) সজীব ওরফে মাস্টারের পোলা সজীব (২৬)। গ্রেফতারকৃত কয়েকজনের বিরুদ্ধে শাহআলী থানায় একাধিক মাদকের মামলা রয়েছে।
আর এ সকল মাদক ব্যবসায়ীদের তথ্য মতে এদের নিয়ন্ত্রণ করছে সাবেক ছাত্রলীগের প্রভাবশালী নেতা তার ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন যাবৎ শাহআলী এলাকার মাজার কেন্দ্রিক এই মাদক ব্যবসা, কাচাঁবাজার কেন্দ্রিক চাঁদাবাজী, কিশোর গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি আর কেউ নন সাবেক শাহআলী থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তরের বণ ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক জাকির ওরফে বিন্দু জাকির। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের মাঝে চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, ছাত্রলীগের অন্তরালে এভাবেই মাদক ব্যবসা, কাচাঁবাজার ও আড়ৎ কেন্দ্রিক চাঁদাবাজী করেই কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন এই জাকির। আর তা না হলে এভাবে অল্প সময়ের ভিতরে গাড়ি-বাড়ি কোটি টাকার সম্পত্তি গড়ে তোলা কোনো ভাবেই সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই ! নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের অনেকেই বলছেন, এভাবেই ছাত্রলীগের সুনাম নষ্ট করবে তা কোনভাবে মেনে নেওয়া যাচ্ছে না তবে ব্যক্তির দায় সংগঠন নেবে না বলেও জানিয়েছেন ছাত্রলীগের একাধিক সিনিয়র নেতারা। তারা বলেন,তিনি সাবেক ছাত্রলীগের নেতা হলেও এখন স্বেচ্ছাসেবকলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত রয়েছেন।
সূত্রে যানায়, বিন্দু জাকির এতটাই ভয়ঙ্কর যে তার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করতেও সাহস পাচ্ছেনা। তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট ও মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণও করেন তিনি। আর অবৈধ মাদক ও কাচাঁবাজার কেন্দ্রিক চাঁদাবাজীর বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তাকেও মাদক দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেয় এবং কিশোরে গ্যাং দিয়ে শায়েস্তা করেন বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করছে। এ ব্যাপারে এলাকার সচেতন মহল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গোপনে মাদকের ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে তিনি। সুপরিকল্পিত ভাবে মাদক ব্যবসা করে আসছেন কিছু অসাধু প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের ম্যানেজ করে।
এ অভিযোগের বিষয়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বিন্দু জাকিরের সাথে তার ব্যবহারিত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি কয়েকবার বন্ধ ও ব্যস্থ পাওয়া যায়।
যেখানে মাননিয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন।অভিভাবকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সেই জিরো টলারেন্স নীতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাাহিনী বাস্তবায়ন করলেই মাদক নির্মূল করা সম্ভব। আর না হলে এভাবে মাদকের ব্যাপকতা বৃদ্ধি পেলে তা রোধ করা কঠিন হবে। মাদক নির্মুলে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এলাকাবাসী।
বিস্তারিত আসছে পরবর্তী প্রতিবেদনে........
এইচএসডিএফ ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম ইমন, আইন উপদেষ্টা : অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবু হানিফ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
মোবাইল নাম্বার -০১৬১০৫১৭৭০৩, Mail-ajkerkagojbd22@gmail.com
ঠিকানা: বাড়ি ১৮, রোড ০১, সেকশন ০৮, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
Copyright © 2026 আজকের কাগজ. All rights reserved.