জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যে যুবকদের নেতৃত্বে আমাদের বিপ্লব সফল হয়েছে, সেই যুবকরাই বাংলাদেশের পথ দেখিয়ে দিয়েছে। ডাকসু থেকে শুরু হয়ে জকসুতে এসে আপাতত থেমেছে—সব জায়গায় একই চিত্র। আমরা চাই দালালমুক্ত বাংলাদেশ। আমরা চাই চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ।
আমরা চাই দুর্নীতিবাজ ও মামলাবাজমুক্ত বাংলাদেশ। আমরা চাই ব্যাংক ডাকাত ও ঋণখেলাপিমুক্ত বাংলাদেশ। আমরা একটি মানবিক বাংলাদেশ চাই। জনগণ ইতিমধ্যে তাদের রায় দিয়ে দিয়েছে।
১২ তারিখ ইনশাআল্লাহ তা-ই হবে। এটা দেখে অনেকের মাথা গরম হয়ে গেছে। এখন কী চৈত্র মাস, না বৈশাখ মাস? কোন মাস এখন? মাঘ মাস। তো মাঘ মাসে মাথা যদি এত গরম হয়, চৈত্র মাসে কী হবে? ভাই, একটু ঠাণ্ডা রাখো মাথা।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া এসিএম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতের আমির বলেন, যেদিকেই যাই, সেদিকেই মাথা গরমের লক্ষণ ফুটে উঠে। মানুষ যখন হতাশ হয়, নিজের ব্যর্থতার গ্লানি চোখের সামনে দেখতে পায়, তখন চোখের সামনে সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। তখন অনেক সময় মানুষ ভুলভাল কথাও বলে ফেলে। বাংলাদেশে এখন আমরা তা-ই দেখতে পাচ্ছি।
যে যুবকরা বুক চিতিয়ে যুদ্ধ করে, জীবন দিয়ে পঙ্গুত্ববরণ করে, গুলির তোয়াক্কা না করে লড়াই করে বাংলাদেশকে হাতে ধরে রাস্তায় তুলে দিয়েছে—এই যুবকরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়ে দেবে।
তিনি বলেন, ২৪ না হলে কি ২৬ পাওয়া যেত? ২৪-কে যারা স্বীকার করে, তারাই তো ২৬-এর উত্তরসূরি। আর যারা ২৪ স্বীকার করে না, তাদের জন্য কি কোনো ২৬ আছে? তাদের জন্য ইনশাআল্লাহ ২৬-এ লাল কার্ড। আমরা বিশ্বাস করি, ১২ তারিখ বাংলাদেশের মানুষ পথ খুঁজে পাবে। দেশের মানুষ ইনশাআল্লাহ সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করবে না।
তিনি আরো বলেন, জুলাই বিপ্লব সফল করতে আমাদের মা-বোনদের অবদান অপরিসীম। ১৫ জুলাই যেদিন আমাদের কলিজার টুকরা মেয়েদের গায়ে হাত তোলা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বুকে, সেদিনই বাংলাদেশে আগুন জ্বলে উঠেছিল। পরদিন সেই আগুনের বিস্ফোরণ ঘটে সারা দেশে। চট্টগ্রামে একজনসহ ছয়জন জুলাইযোদ্ধা এই জাতির জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। বিশেষভাবে স্মরণ করতে হয় আবু সাঈদকে। মেধাবী ছাত্রটি রাস্তায় নেমে বলেছিল—আমার অধিকার দাও, না হলে আমাকে একটি গুলি দাও। ডানা মেলে সে বলেছিল, বুকের ভেতরে তুমুল ঝড়, বুক পেতেছি—গুলি কর। সে বুক পেতেছিল, পিঠ দেখায়নি। বীরেরা কখনো পালায় না; বীরেরা হয় বিজয়ী হয়, না হয় গুলি খেয়ে শাহাদাত বরণ করে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আবু সাঈদ ও তার সঙ্গীরা আমাদের বলে গেছে—হে জাতি, তোমাদের জন্য আল্লাহর দেওয়া সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ জীবন দিয়ে গেলাম। আমাদের লাশ তোমাদের কাঁধে, আমাদের রক্ত তোমাদের হাতে। আমাদের লাশের সঙ্গে বেঈমানি করো না। আমরা যে জাতির মুক্তির জন্য লড়াই করেছি, সেই জাতির মুক্তির পথেই হাঁটবে। সুবিধার পথে হাঁটবে না। রাজনীতির নোংরা গলি দিয়ে আর হাঁটা যাবে না; রাজনীতির পরিষ্কার সদর রাস্তা, হাইওয়ে ও মোটরওয়ে দিয়ে হাঁটতে হবে। আমরা জুলাই শহীদ ও যোদ্ধাদের কথা দিচ্ছি—ইনশাআল্লাহ আমরা তোমাদের সঙ্গে বেঈমানি করব না।
তিনি বলেন, সাড়ে ১৫ বছর আমরা সবাই মজলুম ছিলাম। তাহলে কিছু লোক ৫ আগস্টের পরই জালিম হয়ে গেল কেন? রাস্তাঘাট, স্ট্যান্ড, দোকান, মিল-ফ্যাক্টরি, ইন্ডাস্ট্রি ও কারখানায় গিয়ে বলা হয়েছে—আমি চাঁদাবাজ, আমার অংশ আমাকে দাও। আমরা আল্লাহর ওপর ভরসা করে ঘোষণা দিয়েছি, ১৩ তারিখ থেকে আমাদের মহান প্রভু আমাদের একটি নতুন বাংলাদেশ দেবেন। সেই দিন থেকেই চাঁদাবাজদের বলে দেওয়া হবে—এই কাজের দিন আজ শেষ। পরিশুদ্ধ হয়ে ফিরে এলে তাদেরকেও শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে মর্যাদার কাজ তুলে দেওয়া হবে। না এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, চাঁদাবাজি আর করতে দেওয়া হবে না। যত ধরনের অপরাধ ও দুর্নীতি আছে, আমরা কারো ভাই-লেজ ধরে টানাটানি করব না; আমরা কান ধরে টান দেব। মাথা ঠিক হলে সব ঠিক হবে। মাথাই জাতির নেতৃত্ব। মাথা পচে গেলে শরীর আর কাজ করে না। ৫৪ বছরের নেতৃত্ব নিজেদের সুস্থ মাথার প্রমাণ দিতে পারেনি বলেই জনগণের টাকা লুট করে বড়লোক হয়েছে, অথচ জনগণ তার প্রাপ্য পায়নি।
শফিকুর রহমান বলেন, ইনসাফের সরকার গঠনের সুযোগ পেলে লুটেরাদের পেটের ভেতর হাত ঢুকিয়ে লুটের সব অর্থ বের করে রাষ্ট্রীয় তহবিলে জমা দেওয়া হবে। ইনসাফের ভিত্তিতে তখন সারা বাংলাদেশে উন্নয়নে সেই অর্থ ব্যয় করা হবে।
এইচএসডিএফ ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম ইমন, আইন উপদেষ্টা : অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবু হানিফ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
মোবাইল নাম্বার -০১৬১০৫১৭৭০৩, Mail-ajkerkagojbd22@gmail.com
ঠিকানা: বাড়ি ১৮, রোড ০১, সেকশন ০৮, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
Copyright © 2026 আজকের কাগজ. All rights reserved.