জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের এক উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ শরাফত হোসেনকে ডাবল প্রমোশন দিয়ে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পদে মিরপুরে গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন দেওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্তি, দুর্নীতি, সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ ও নানা অনিয়মের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
জানা যায়, শরাফত হোসেন ২০০৬ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত রাজশাহী ডিভিশনে কর্মরত থাকা অবস্থায় মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন এবং স্থানীয় মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় তিনি অফিসের আইপিএস ব্যাটারি, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন সরকারি মালামাল চুরি করে বিক্রি করতেন এবং সেই অর্থে মাদক সেবন করতেন। এমনকি মাদক সংশ্লিষ্ট ঘটনায় তাকে রাজশাহীর ভাদ্রা বস্তি এলাকা থেকে দু’বার আটকও করা হয় বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে।
এছাড়া সরকারি অনুমতি ছাড়া গাছ কেটে বিক্রি, জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে ফাইল অনুমোদন, ভুয়া ব্যাংক চালান তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎ—এমন নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০১৪ সালে এক জেলা জজের কাছে নামজারি সংক্রান্ত প্রতিবেদনের জন্য ঘুষ দাবি করলে প্রকাশ্যে তাকে শাস্তি পেতে হয় বলেও জানা যায়।
পরবর্তীতে ২০১৫ সালে তাকে বরিশালে বদলি করা হলেও, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দ্রুত ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে চলে আসেন। সেখানে বিভিন্ন প্রকল্পের প্রাক্কলন, ভেরিয়েশন ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করে ঠিকাদারদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এমনকি প্রাক্কলনের গোপন তথ্য ফাঁস করে অর্থ আদায়ের ঘটনাও রয়েছে।
অভিযোগের মাত্রা এতটাই বেড়ে যায় যে, তৎকালীন চেয়ারম্যান তার কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণে কক্ষে সিসি ক্যামেরা বসাতে বাধ্য হন। একাধিক ফুটেজে তাকে অফিসে বসেই মাদক সেবনের দৃশ্য ধরা পড়ে বলে জানা গেছে।
২০১৯ সালে পুনরায় তাকে বরিশালে বদলি করা হয় এবং তার কক্ষ থেকে ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও দায়ের হয় এবং পদোন্নতি স্থগিতের সুপারিশ করা হয়।
তবে ২০২০ সালে প্রশাসনিক পরিবর্তনের পর আবার ঢাকায় ফিরে এসে আগের অবস্থানে পুনর্বহাল হন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি কোয়ার্টার বরাদ্দ ছাড়াই দীর্ঘদিন বসবাস করে সরকারি রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত করেন এবং একাধিক কোয়ার্টার নিজের দখলে রাখেন। এমনকি মাদক আসর বসানোর অভিযোগও রয়েছে।
সম্প্রতি ২০২৫ সালের জুনে সহকারী প্রকৌশলী এবং মাত্র ছয় মাসের মধ্যে ডিসেম্বরেই উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি দেওয়া হয় তাকে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তাকে মিরপুরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পদায়ন করা হয়।
এদিকে, গত ৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে একটি চলমান টেন্ডারের গোপন প্রাক্কলন জোরপূর্বক নিয়ে ফটোকপি করে ঠিকাদারদের কাছে বিক্রির অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে। একইভাবে বিল নথি ফাঁসের ঘটনাও সামনে এসেছে, যা অফিসে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
পরবর্তীতে ১৫ ও ২০ এপ্রিল তারিখে পৃথক দুটি চিঠিতে তার বিরুদ্ধে দপ্তরীয় অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা এবং প্রকল্প বিলম্বের বিষয়টি চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, “শরাফত হোসেন মিরপুরে আসার পর অফিসে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তিনি নিয়মিত মাদক সেবন করেন এবং প্রশাসনের ছত্রছায়ায় থেকে সবকিছু করছেন।”
অভিযোগ রয়েছে, ডাবল প্রমোশন ও এই পদায়নের জন্য তিনি প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের একজন কর্মকর্তাকে বড় অংকের অর্থ ও অন্যান্য সুবিধা দিয়েছেন বলেও বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।
এতসব অভিযোগের পরও তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও ডোপ টেস্টের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও শরাফত হোসেন কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
পরবর্তী প্রতিবেদনে আসছে বিস্তারিত....
এইচএসডিএফ ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম ইমন, আইন উপদেষ্টা : অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবু হানিফ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
মোবাইল নাম্বার -০১৬১০৫১৭৭০৩, Mail-ajkerkagojbd22@gmail.com
ঠিকানা: বাড়ি ১৮, রোড ০১, সেকশন ০৮, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
Copyright © 2026 আজকের কাগজ. All rights reserved.