বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলি করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে হত্যা করার অভিযোগে রাজধানীর মিরপুরের জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) শেখ সোহেল রানার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হলেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন এই প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তা। তার দুর্নীতি ,অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতায় পদে পদে ক্ষুন্ন হচ্ছে জাতীয় গৃহায়নের ভাবমূর্তি। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর এই কর্মকর্তা কয়দিন গাঁ ঢাকা দিলেও বর্তমানে তিনি দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন মিরপুরের জাতীয় গৃহায়ন। গোপাল গঞ্জের বাসিন্দা শেখ সোহেল রানা বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক ।
গত ২৯ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ মেহেদী হাসানের আদালতে আহসান হাবিব তামিম নামে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় গনিত বিভাগের এক ছাত্রকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে শেখ সোহেল রানা সহ ৯৫ জনের নামে মামলা হয়েছে। শেখ সোহেল রানাকে যে মামলার আসামি করা হয়েছে ওই মামলার ১ নম্বর আসামি শেখ হাসিনা। মামলাটিতে সোহেল রানাকে ৮৯ নম্বর আসামি করা হয়েছে। মামলায় তার পরিচয় লেখা রয়েছে ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ।
তামিম হত্যার বিচার চেয়ে নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে দাবি করে মামলাটি করেন আব্বাস আলী নামে এক ব্যক্তি। পরে মিরপুর মডেল থানাকে মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহন করার জন্য নির্দেশ দেন আদালত। মামলায় অভিযোগ করা হয় ১৯ জুলাই রোজ শুক্রবার মিরপুর ১০ নম্বরে বৈষম্য বিরোধী ছাত্রআন্দোলন চলাকালে মামলার আসামিরা নির্বিচারে গুলি চালালে ভিকটিম আহসান হাবিব তামিম বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ঘটনার দিন ভিকটিম হাবিব ছাড়াও আরও অনেক ছাত্র ছাত্রী গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত ও নিহত হন।

মামলার বাদি আব্বাস আলী বলেন শেখ সোহেল রানার রাজনৈতিক পরিচয় আমার জানা আছে। সে একজন দুর্নীতিবাজ ও দলবাজ কর্মকর্তা। সরাসরি ছাত্র হত্যায় জড়িত। ছবি সহ সব ডকুমেন্টস আছে। সে মিরপুরের জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী ও বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মিরপুর মডেল থানার এস আই তাজুল ইসলাম বলেন মামলার আসামিদের ব্যাপারে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। মামলার আসামি শেখ সোহেল রানা মিরপুরের জাতীয় গৃহায়নের প্রকৌশলী (এসডিই)। এটি নিশ্চিত। তিনি এখন অফিসে আসেন না। তার পিছনে লোক লাগানো আছে ।
এ দিকে শেখ সোহেল রানার বিরুদ্ধে ছাত্র হত্যা মামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রকাশ্যে আসতে থাকে তার দুর্নীতি ও অপকর্মের খবর। মিরপুরের জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে শেখ হাসিনার চাচা শেখ কবিরের ডান হাত হিসেবে পরিচিত শেখ সোহেল গত ১ যুগের বেশি সময় কর্মরত রয়েছেন মিরপুরের জাতীয় গৃহায়নে। কয়েকদফা বদলির আদেশ হলেও অদৃশ্য খুঁটির জোরে তিনি ঘুরে ফিরে একই স্থানে রয়ে গেছেন । একই স্থানে দীর্ঘদিন চাকরি করার সুবাদে এই কর্মকর্তা মিরপুর জোনের উচ্ছেদ কার্যক্রমের পুরোটাই বাণিজ্যে রুপান্তর করেছেন।প্রতিটি উচ্ছেদ কার্যক্রম হয়ে ওঠে যেন এক একটি চাঁদ রাত। চাঁদ রাতের সফলতা ঘরে তুলতে তিনি গৃহায়নে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালী অবৈধ সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটে রয়েছেন ২ জন উপ সহকারী প্রকৌশলী , রাজনৈতিক পরিচয় বহনকারী নেতা ও দালাল চক্র। এ ছাড়া চক্রটি মিরপুরে অবৈধ ভাবে নির্মিত বাড়ি, ফাইল বেঁচা কেনা, জায়গা জমি সংক্রান্ত বিষয়গুলো ধামাচাপা দিয়ে অথবা কাগজে সংশোধন করে দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে কাড়ি কাড়ি টাকা।
এ দিকে এক সময়ের আলোচিত ক্যাসিনো কান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে শেখ সোহেলের বিরুদ্ধে।ক্যাসিনো দুর্নীতিসহ বিভিন্ন দুর্নীতি ও ঞ্জাত আয়ের সাথে অসংগতিপূর্ন সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০২১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর দুদক এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি ৭ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে। অবশ্য রাজনৈতিক প্রভাবে ওই তদন্ত আর বেশিদুর এগোয়নি । দুদকের ওই চিঠির একটি কপি প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
শেখ সোহেল রানার কাছে দুর্নীতি ও ক্যাসিনো কান্ডে জড়িত থাকার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মিরপুরের জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান কর্মচারী বলেন ৫ আগস্টের পর জনরোষ থেকে বাঁচতে শেখ সোহেল কয়দিন অফিসে আসা বন্ধ করে দেন। পরে সুযোগ বুঝে অফিসে এসে হাজিরা দিয়ে সটকে পড়েন। কেউ তার ব্যাপারে খোঁজ নিতে গেলে অফিস থেকে বলা হয় তিনি সাইট পরিদর্শনে গেছেন। সোহেল গোপাল গঞ্জের বাসিন্দা হওয়ার সুবাধে শেখ পরিবারের নাম ভাঙিয়ে অফিসে প্রভাব বিস্তার করেন। বিগত আওয়ামী লীগের আমলে সে অসীম ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। কোন সেবাপ্রার্থী তার রুমে গেলে তাকে আওয়ামী লীগের স্তুতি শোনাতেন। সে সব সময় নিজেকে আওয়ামী লীগের বড় নেতা ও শেখ পরিবারের সদস্য বলে পরিচয় দিতেন। গৃহায়নের এই কর্মচারীরা আরও বলেন অবৈধ পথে টাকা ইনকাম করে সোহেল গত কয়েক বছরে শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। এ ছাড়া সোহেলের অবাধ্য হওয়ায় কয়েক বছর আগে এক নির্বাহী প্রকৌশলীকে রুমে আটকিয়ে পিটানো হয়েছে বলে জানান তারা।
এ ব্যাপারে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ঢাকা ডিভিশন ১ মিরপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ কায়সার ইবনে সাঈখ বলেন সোহেল নিয়মিত অফিস করেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে কিনা জানা নেই।
এইচএসডিএফ ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম ইমন, আইন উপদেষ্টা : অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবু হানিফ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
মোবাইল নাম্বার -০১৬১০৫১৭৭০৩, Mail-ajkerkagojbd22@gmail.com
ঠিকানা: বাড়ি ১৮, রোড ০১, সেকশন ০৮, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
Copyright © 2026 আজকের কাগজ. All rights reserved.