রাজধানী মিরপুর বিআরটিএর কিছু দালাল সেন্ডিকেট মিলে গড়ে উঠেছে একটি প্রতারক চক্র এরা ট্রাফিক বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তার সিল, স্বাক্ষর জালিয়াতি করে নানা কৌশলে হাতে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এরকম একটি প্রতারক জালিয়াত চক্রের সন্ধান মিলেছে মিরপুরে। এই চক্রের দুইজন গ্রেফতার হয়েছে সেনাবাহিনী ও ট্রাফিক পুলিশের যৌথ অভিযানে।
জানা গেছে, রাজধানীর মিরপুর ট্রাফিক বিভাগের প্রসিকিউশান শাখার ভুয়া সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতি করছে প্রতারক চক্রে। এমন সংবাদ পেয়ে মূলহোতাসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে মিরপুর ট্রাফিক বিভাগের চৌকস টিম ও সেনাবাহিনী সদস্যরা।
সোমবার (০৪ আগস্ট ২৫) বিকাল ৩টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত মিরপুর-১৩ বিআরটি এর সামনে হুমায়ুন রশীদ ও নুরুল ইসলাম সৈকত এর দোকানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আসামীরা হলেন, সিলেট জেলার কানাইঘাট থানার নিজচাওড়া উত্তর গ্রামের মো: আলাউদ্দিনের ছেলে হুমায়ুন রশীদ ও চট্টগ্রাম জেলার কাউখালি থানার চৌধুরীপাড়া গ্রামের মো: করিমের ছেলে নুরুল ইসলাম সৈকত৷
মিরপুর ট্রাফিক বিভাগের অফিস সূত্রে জানা যায়, আনুমানিক দুপুর ২ ঘটিকায় মো: সেলিম ও মো: আসাদ নামে দুজন ব্যক্তি মিরপুর ট্রাফিক বিভাগ এর প্রসিকিউশান শাখায় ট্রাফিক ক্লিয়ারেন্স নিতে আসলে দেখা যায় তাদের জিডি কপিতে আগে থেকে ট্রাফিক মিরপুর বিভাগের প্রসিকিউশান শাখার ভুয়া সিল ও সাইন ব্যবহার করা আছে ৷ মিরপুর ১৩ বিআরটি এর পাশে একটি দোকানে এমন জালিয়াতি ও প্রতারণামূলক কাজ প্রতিনিয়ত করা হয় মর্মে জানা যায়৷ ডিসি ট্রাফিক মিরপুর গৌতম কুমার বিশ্বাস'কে বিষয়টি অবগত করা হলে প্রাথমিক অনুসন্ধান করেন বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় মূল রহস্য উদঘাটন করার জন্য ডিসি ট্রাফিক মিরপুর তাৎক্ষণিক একটি টিম গঠন করে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও নির্দেশনা প্রদান করে ঘটনাস্থলে প্রেরণ করেন। টিম ট্রাফিক মিরপুর বিভাগ এর সদস্যগণ হলেন, পুলিশ সার্জেন্ট মো: নাজমুল হোসেন, শিহাব, জাকারিয়া, পূজা ও সার্জেন্ট পান্না। উক্ত সদস্য গন ঘটানাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রতারক ও জালিয়াতি চক্রের মূলহোতাসহ দুইজনকে প্রমাণসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করেন এবং চাঞ্চল্যকর রহস্য উদঘাটন করেন ৷ প্রতারক চক্র গ্রেফতারের সময় টিম ট্রাফিক মিরপুর বিভাগের সাথে সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন সাইদ এর একটা টিম আনুষাঙ্গিক সহযোগিতা করেন ৷
এ বিষয়ে মিরপুর ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার গৌতম কুমার বিশ্বাস "আজকের কাগজকে" বলেন, আমরা একটি প্রতারক চক্রের সন্ধান পাই। দীর্ঘদিন যাবত একটি চক্র কর্মকর্তাদের সিল স্বাক্ষর জালায়াতি করে আসছে। আমরা এই চক্রের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করি এবং তাদেরকে সনাক্ত করার চেষ্টা করি। পরবর্তীতে সনাক্ত হলে বিআরটিএর পেছনে অভিযান পরিচালনা করে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় তাদের গ্রেফতার করি। পরে বিআরটি'র আদালত-০৯ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তাসমিয়া জায়গীরদার সামনে হাজীর করাহয় এ সময়ে প্রতারক চক্রের স্বীকারোক্তি ও অন্যান্য প্রমাণাদি যাচাই পূর্বক উক্ত প্রতারক চক্রের দুজনকে ৬ মাস এর কারাদণ্ড প্রদান করেন৷ আদেশ অনুযায়ী আসামীদেরকে কাফরুল থানার এ এস আই মেহেদী হাসান কারাগারে নিয়ে যান৷
এইচএসডিএফ ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম ইমন, আইন উপদেষ্টা : অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবু হানিফ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
মোবাইল নাম্বার -০১৬১০৫১৭৭০৩, Mail-ajkerkagojbd22@gmail.com
ঠিকানা: বাড়ি ১৮, রোড ০১, সেকশন ০৮, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
Copyright © 2026 আজকের কাগজ. All rights reserved.