
ব্রাজিলের সদ্য সমাপ্ত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত ডানপন্থী প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো নিজেকে দেশটির ‘প্রকৃত নেতা’ হিসেবে দাবি করেছেন। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে তিনি এমন মন্তব্য করেন। বুধবার ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে করে তিনি ফ্লোরিডার মায়ামি উপকণ্ঠের ওপা-লোকা এক্সিকিউটিভ বিমানবন্দরে পৌঁছান এবং সেখান থেকেই বিরোধী দলের নেতৃত্ব দেওয়ার ঘোষণা দেন। গত রোববার দ্বিতীয় দফার ভোটে নাটকীয় জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি আবার দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার বিষয়ে ব্যাপক সম্ভাবনা জাগিয়েও হেরে যান ফ্লাভিও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পছন্দের এই প্রার্থী ভোটের ফলাফল বাতিলের দাবি তুলেছেন। ব্রাজিলে লুলার নাটকীয় জয়, চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় বসছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ফ্লাভিও দাবি করেন, তিনি নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট এবং যারা নির্বাচনের ফলাফল চুরি করেছেন, তারা একটি অপরাধী সংগঠনের অংশ। তার ভাষ্যমতে, এই সংগঠন দেশে স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠা করেছে। তবে এই বিবৃতির কিছুক্ষণ পরেই তিনি তা সংশোধন করে ‘প্রেসিডেন্ট’ শব্দের পরিবর্তে নিজেকে কেবল ‘নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। পরে অবশ্য বিবৃতিটি সংশোধন করেন ফ্লাভিও। একই সঙ্গে তাঁকে ‘রাজনৈতিক নির্বাসনে’ থাকা ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
ব্রাজিলের সাম্প্রতিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বামপন্থী প্রার্থী লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা নাটকীয়ভাবে জয়ী হন।
নির্বাচনে পরাজয়ের পর ফ্লাভিও দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি সেখানে স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এদিকে ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় ফ্লাভিওর দল লিবারেল পার্টির সিনেট নেতা রোজারিও মারিনহো সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তার প্রতি সংহতি প্রকাশ করলেও নির্বাচনে কারচুপির দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। মারিনহো স্পষ্ট করে বলেন, লিবারেল পার্টি কারচুপির এই দাবির দায় নিতে পারে না এবং এর কোনো প্রমাণ নেই।
ফ্লাভিও বলসোনারোর বিরুদ্ধে ব্রাজিলে মানি লন্ডারিংয়ের একটি মামলা চলমান রয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে গত সোমবার দেশটির সুপ্রিম কোর্ট তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই সময়সীমার মধ্যে তিনি পাসপোর্ট জমা না দেওয়ায় মঙ্গলবার ব্রাজিলের কর্তৃপক্ষ তার পাসপোর্টগুলো বাতিল করে দেয়। এরপরই তিনি সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ফলাফলের বিরুদ্ধে ফ্লাভিওর এই অনড় অবস্থান ব্রাজিলের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। লুলার এই বিজয় দেশটিতে গণতান্ত্রিক শাসন সুসংহত করার ইঙ্গিত দিলেও পরাজয় মেনে না নেওয়া ও আদালতের নির্দেশ অমান্য করে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পিছিয়ে থেকেও কীভাবে ব্রাজিলের নির্বাচনের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন লুলা, তাঁর ‘আর্মি’ কতটা ভূমিকা রেখেছে।
এইচএসডিএফ ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম ইমন, আইন উপদেষ্টা : অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবু হানিফ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
মোবাইল নাম্বার -০১৬১০৫১৭৭০৩, Mail-ajkerkagojbd22@gmail.com
ঠিকানা: বাড়ি ১৮, রোড ০১, সেকশন ০৮, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
Copyright © 2026 আজকের কাগজ. All rights reserved.