গভীর রাতে ঝড়ের মুখে পড়ে ঢাকা-হাতিয়া নৌপথে চলাচলকারী এমভি সুগন্ধা লঞ্চটি চরে উঠে আটকা পড়েছে। জোয়ার আসলেও নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় লঞ্চটি সরানো সম্ভব হয়নি। এতে করে শতাধিক যাত্রী নিয়ে প্রায় ১৫ ঘণ্টা ধরে লঞ্চটি চরে আটকে রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ঢাকা থেকে হাতিয়ার নলচিরা ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসার পর ইলিশা ঘাটের আগে ঝড়ের কবলে পড়ে লঞ্চটি। প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে চরভৈরবী এলাকায় গিয়ে চরে উঠে আটকা পড়ে। বিকেল ৫টার দিকে আটকে থাকা যাত্রীদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হলে তারা চরম দুর্ভোগ ও অসহায় অবস্থার কথা জানান।
লঞ্চ থেকে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীকে বিষয়টি জানানো হলেও বিকেল পর্যন্ত উদ্ধার তৎপরতায় দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
জানা গেছে, ঢাকা-হাতিয়া নৌপথে যাত্রীসেবার সুবিধা বাড়াতে সরকারি উদ্যোগে এমভি রূপসা ও এমভি সুগন্ধা নামে দুটি নতুন লঞ্চ চালু করা হয়। সোমবার সন্ধ্যায় সদরঘাট থেকে উদ্বোধনী যাত্রা শুরু করে এমভি সুগন্ধা। তবে প্রথম যাত্রার রাতেই দুর্যোগের মুখে পড়ে চরে আটকা পড়ে লঞ্চটি।
লঞ্চে থাকা যাত্রী দিনাজ উদ্দিন বলেন, “রাত ২টার দিকে আমরা চরে আটকা পড়ি। কোস্টগার্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা তিনটি ট্রলার পাঠানোর কথা জানায়। কিন্তু ১৫ ঘণ্টা পার হলেও এখনো কোনো সহায়তা পাইনি।
অন্য এক যাত্রী জানান, “আমার স্ত্রী ও আড়াই বছরের এবং ছয় মাসের দুই সন্তানসহ লঞ্চে আটকা আছি। সকাল থেকে বাচ্চাদের জন্য কোনো খাবারের ব্যবস্থা করা যায়নি। নামারও সুযোগ নেই। সন্ধ্যা হয়ে আসছে, আমরা খুবই মানবিক সংকটে আছি।”
লঞ্চটির মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “হঠাৎ ঝড়ের কারণে লঞ্চটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চরের ওপর উঠে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে নোঙর করা হয়। পরে ভাটার সময় পানি কমে যাওয়ায় আটকে পড়ে। জোয়ার এলেও পর্যাপ্ত পানি না থাকায় সরানো যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার জাহাজ পাঠানোর চেষ্টা চলছে।”
এইচএসডিএফ ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম ইমন, আইন উপদেষ্টা : অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবু হানিফ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
মোবাইল নাম্বার -০১৬১০৫১৭৭০৩, Mail-ajkerkagojbd22@gmail.com
ঠিকানা: বাড়ি ১৮, রোড ০১, সেকশন ০৮, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
Copyright © 2026 আজকের কাগজ. All rights reserved.