নেত্রকোনার মদনে ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলার আসামি মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর গ্রেপ্তার এড়াতে দীর্ঘদিন ধরে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। তিন দিন চেষ্টার পর অবশেষে র্যাব-১৪ এর একটি দল মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
বুধবার (৬ মে) দুপুরে নগরীর আকুয়া বাইপাসে র্যাব-১৪ এর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অধিনায়ক নয়মুল হাসান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, র্যাব-১৪ ময়মনসিংহ এই চাঞ্চল্যকর মামলার ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ময়মনসিংহের গৌরীপুরের সোনামপুর এলাকা থেকে আসামি আমানুল্লাহকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
কীভাবে অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়—এমন প্রশ্নে র্যাবের এ কর্মকর্তা জানান, আসামিকে ধরতে গত ৩ দিন ধরে কাজ করেছেন তারা। মামলার পর অভিযুক্ত শিক্ষক প্রথমে গাজীপুর, পরে টঙ্গী এবং সর্বশেষ গৌরীপুর এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন।নয়মুল হাসান বলেন, তার গতিবিধি আমরা লক্ষ্য রাখছিলাম, কিন্তু সঙ্গে মোবাইল ফোন রাখছিলেন না। সে কারণ অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছিল না। পরবর্তীতে আরও উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গৌরীপুরে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-১৪ অধিনায়ক বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার শিক্ষক তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেননি। পরে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।
মামলার এজহার ও ভুক্তভোগীর স্বজনদের বরাতে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক প্রায় চার বছর আগে একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সেখানে নানার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করত। তার বাবা পরিবার থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ায় মা জীবিকার তাগিদে সিলেটে গৃহকর্মীর কাজ করতেন।
সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক অসুস্থতা ও পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেলে তার মা সিলেট থেকে এসে বিষয়টি জানতে পারেন। পরে গত ১৮ এপ্রিল তাকে মদন উপজেলা শহরের একটি ক্লিনিকে নেওয়া হলে পরীক্ষার পর চিকিৎসক নিশ্চিত করেন, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলা হওয়ার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। এরই মধ্যে মঙ্গলবার (৫ মে) অজ্ঞাত স্থান থেকে আসামির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
এদিকে, ভুক্তভোগীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা চিকিৎসক হুমকি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে র্যাব অধিনায়ক বলেন, চিকিৎসকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন এবং তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো তথাকথিত ডিএনএ রিপোর্টকে ভুয়া বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এইচএসডিএফ ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম ইমন, আইন উপদেষ্টা : অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবু হানিফ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
মোবাইল নাম্বার -০১৬১০৫১৭৭০৩, Mail-ajkerkagojbd22@gmail.com
ঠিকানা: বাড়ি ১৮, রোড ০১, সেকশন ০৮, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
Copyright © 2026 আজকের কাগজ. All rights reserved.