রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার উপর গুলি চালানো অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এরা কারা শিরোনামে গত শুক্রবার ২০'শে সেপ্টেম্বর "আজকের কাগজের" অনলাইনে গুরুত্ব সহকারে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালায় হেলমেট পরা একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী দুর্বৃত্তরা। এরা পুলিশের সামনেই প্রকাশ্যে অস্ত্র উচিয়ে হামলে পরে ছাত্র-জনতার উপর তারি চিত্র তুলে ধরা হয় প্রকাশিত খবরে। প্রকাশিত হওয়ার পর সংবাদটি অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সংবাদের বরাতে জানা গেছে, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন স্থানে অত্যাধুনিক অস্ত্র দিয়ে প্রকাশ্য গুলি চালায় ছাত্র-জনতার উপর। সে সময়ে অস্ত্র হাতে গফুর মোল্লাকে বিভিন্ন জায়গাতে দলবল নিয়ে হামলা করতে দেখা যায়। এর আগ থেকেই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সময় হামলাকারি অস্ত্রধারী অনেকের ছবি এবং ভিডিও ছড়িয়ে পড়তে থাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ছবি গুলো প্রকাশিত হতে শুরু হয় দেশের বিভিন্ন গনমাধ্যম গুলোতেও। আন্দোলনে অস্ত্রধারীরা হামলে পরার খবর গুলো গুরুত্বদিয়ে প্রকাশ হওয়ার পর পরি টনক নড়ে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের। আর এসব অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীকে শনাক্ত করার পাশাপাশি আইনের আওতায় আনতে ইতি মধ্যেই আনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যৌথ অভিযান শুরু করেছে।

তারই ধারাবাহিকতায় মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাকসুদুর রহমানের দিক নির্দেশনায় রূপনগর থানা পুলিশ মিরপুরে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় প্রকাশ্য অস্ত্র ব্যবহার কারি গফুরকে গ্রেফতারের বিশেষ অভিযানের উদ্যোগ নেয়। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রূপনগর থানা পুলিশ খবর পায় বসিলার একটি বাসায় অস্ত্রধারী গফুর মোল্লা আত্মগোপনে রয়েছে। পরে মোহাম্মদপুরের বসিলায় গফুর মোল্লার মেয়ের সেই বাসায় বুধবার ২"অক্টোবর রাতে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। সেখানে আত্মগোপনে থাকা ছাত্র জনতার উপর হামলা কারি অস্ত্রধারী গফুর মোল্লাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় রূপনগর থানা পুলিশ।
এ বিষয়ে মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাকসুদুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি "আজকের কাগজকে" বলেন, গফুর মোল্লাকে আমরা গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। অবৈধ অস্ত্রধারী এবং ছাত্র-জনতার উপর হামলা ও গুলি বর্ষণ কারি কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। অনিয়ম ও চাঁদাবাজির সাথে যারাই জড়িত থাকবে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি যারা এখনো অস্ত্র জমা দেয়নি তাদের বিরুদ্ধেও আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। এ সকল অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান থাকবে। প্রকৃত অপরাধীরা যেখানেই লুকিয়ে থাকুক না কেন তাদেরকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।
এ সকল ঘটনায় পুলিশ সদর দপ্তর বলছে, অস্ত্রধারীদের অনেককেই গ্রেফতার হয়েছে। বাকিদেরও গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে যারা শনাক্ত হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাদের শনাক্ত করে অবৈধ অস্ত্রধারীদের আইনের আওতায় আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় যারা প্রকাশ্য গুলি চালিয়েছিল তাদের ছবি দেখে শনাক্ত করতে কাজ করছে অইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গোয়েন্দা সদস্যরা। তবে, স্বৈরচার সরকার পতনের ঘটনার এক মাসের বেশি অতিবাহিত হলেও অদৃশ্য কারনে ছাত্র-জনতার উপর হামলা কারি দুষ্কৃতীকারি সেই অস্ত্রধারীদের অনেকে এখনো অধরাই থেকে যাচ্ছে! এই দুষ্কৃতীকারিদের অতিদ্রুত গ্রেফতারের মাধ্যমে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবী জানান সচেতনমহল।
এইচএসডিএফ ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম ইমন, আইন উপদেষ্টা : অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবু হানিফ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
মোবাইল নাম্বার -০১৬১০৫১৭৭০৩, Mail-ajkerkagojbd22@gmail.com
ঠিকানা: বাড়ি ১৮, রোড ০১, সেকশন ০৮, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
Copyright © 2026 আজকের কাগজ. All rights reserved.