একজন মায়ের জীবনের সবচেয়ে বড় ভরসা তাঁর সন্তান। নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে, না খেয়ে থেকেও সন্তানকে মানুষ করেন তিনি। অথচ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সেই সন্তানের হাতেই মারধরের শিকার হয়ে বিচার চাইতে থানার দ্বারস্থ হতে হয়েছে নোয়াখালীর হাতিয়ার এক অসহায় বৃদ্ধা মাকে।
শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে নিজ সন্তানের বিরুদ্ধে হাতিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহছেনা বেগম (৯০)। এর আগে একই দিন সকালে তাঁর বসতবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ছেলে মো. আরিফ উদ্দিন, পুত্রবধূ ও পরিবারের কয়েকজন সদস্য দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ওপর শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। সর্বশেষ শনিবার সকালে তাঁরা বসতবাড়িতে গিয়ে মোহছেনা বেগমকে মারধর করেন। এ সময় তাঁর স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া এবং বসতঘরে থাকা তিনটি গাভী ও একটি ষাঁড় গরু জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে বাধা দিলে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসা অপর পুত্রবধূ জান্নাত বেগমও হামলার শিকার হন।
মোছেহেরা বেগম বলেন, "যে সন্তানকে কষ্ট করে মানুষ করেছি, আজ সেই সন্তানই আমার ওপর হামলা করছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। আমার জীবনের নিরাপত্তাও চাই।"
হামলায় আহত মোছেহেরা বেগম ও জান্নাত বেগমকে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে মোছেহেরা বেগম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ছেলে মো. আরিফ উদ্দিন। তিনি বলেন, "আমি আমার মাকে মারিনি। আমার ভাইয়ের বউ আমাদের সঙ্গে ঝগড়া করছিল। তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়েছে। মাকে মারধরের অভিযোগ সত্য নয়।"
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, "মাকে মারধরের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য জাহাজমারা তদন্ত কেন্দ্রকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
এইচএসডিএফ ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম ইমন, আইন উপদেষ্টা : অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবু হানিফ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
মোবাইল নাম্বার -০১৬১০৫১৭৭০৩, Mail-ajkerkagojbd22@gmail.com
ঠিকানা: বাড়ি ১৮, রোড ০১, সেকশন ০৮, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
Copyright © 2026 আজকের কাগজ. All rights reserved.