মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আঘাত পাওয়া রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রাফিদ শাহরিয়ার আর নেই। আজ রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) আনুমানিক সকাল ১১.৩০টায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) মৃত্যুবরণ করেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর আগে তিনি রাজধানীর মাদানি এভিনিউয়ে অবস্থিত ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হসপিটালে ৫দিন ধরে জীবন-মৃত্যুর সাথে লড়াই করতে থাকেন। তবে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্ট থাকাকালীন চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে আজ জীবনের মায়া ত্যাগ করেন। চিকিৎসক সূত্রে জানা যায়, তিনি মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালমাসে প্রচন্ড আঘাত পেয়েছিলেন এবং বাম অংশ থেকে রক্ত ক্ষরণ হচ্ছিল। নিউরো সার্জন জানিয়েছেন, তার ব্রেনের অর্ধেক অংশ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছিল। মস্তিষ্কের ঐ অংশে কোনো নিউরন কাজ করছে না এবং কোষগুলো রিকভারি করাও সম্ভব নয়।
এর আগে গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টা নাগাদ রাজশাহীর বিনোদপুর বাজারে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, রাফিদ মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি বাইক হঠাৎ ইউ-টার্ন নেয়। ঘটনার আকস্মিকতায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন রাফিদ এবং বাইক থেকে ছিটকে পড়েন। এতে তাঁর মাথা সরাসরি সড়কের ডিভাইডারে প্রচণ্ড আঘাত পায়।
দুর্ঘটনার পরপরই সহপাঠী ও স্থানীয় লোকজন তাকে দ্রুত উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাকে প্রথমে জরুরি বিভাগের ৮নং ওয়ার্ডে ও পরে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। তবে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালের আইসিইউ কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসকেরা প্রাথমিক ভাবে জানান, আঘাতের তীব্রতায় তার মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধেছে এবং এতে তিনি গভীর কোমায় চলে গেছেন। পরদিন (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন, ছাত্রকল্যাণ দপ্তর পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম সরকার সহ একটি প্রতিনিধি দল হাসপাতালে যান। তখন রাফিদের শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতির কথা জানতে পারেন এবং রাজশাহী মেডিকেলের চিকিৎসকেরা তাকে দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। এমন পরিস্থিতিতে রুয়েট প্রশাসনের উদ্যোগে ঐদিন সকালেই জরুরি ভিত্তিতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বুকিং দেওয়া হয়। দুপুর সোয়া ১টার দিকে উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে রাফিদকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে রাফিদের চিকিৎসায় রুয়েট প্রশাসন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে সরাসরি ও অনলাইনে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু সব চেষ্টা ও সহপাঠী-পরিবারের প্রার্থনাকে বিফল করে দিয়ে আজ আইসিইউতেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলেন তিনি। রাফিদ শাহরিয়ার রুয়েটের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন (আইডি: ২১০৩০৯৫)। তিনি খুলনা বিভাগের চুয়াডাঙ্গা জেলার বাসিন্দা।
তার এই অকাল ও মর্মান্তিক প্রয়াণে রুয়েট ক্যাম্পাস জুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের মধ্যে নেমে এসেছে বিষাদের আবহ। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শোক জানিয়ে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জ্ঞাপন করা হয়েছে।
এইচএসডিএফ ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম ইমন, আইন উপদেষ্টা : অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবু হানিফ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
মোবাইল নাম্বার -০১৬১০৫১৭৭০৩, Mail-ajkerkagojbd22@gmail.com
ঠিকানা: বাড়ি ১৮, রোড ০১, সেকশন ০৮, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
Copyright © 2026 আজকের কাগজ. All rights reserved.