২০২৪ সালের ৫ আগস্টের সহিংসতা এবং হত্যা মামলার অভিযোগে অভিযুক্ত মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন চৌধুরী নামে এক আসামীকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর খুলশী এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
তার বিরুদ্ধে চান্দগাঁও থানাসহ বিভিন্ন থানায় গণঅভ্যুত্থান চলাকালে হামলার অভিযোগে মামলা রয়েছে।
খুলশী থানা সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিস হাসপাতালের পাশের একটি রেস্টুরেন্টে অবস্থানকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আনোয়ারা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগে নানাভাবে প্রতারণার চিত্র উঠে আসে।আরো জানা যায়, নিজাম উদ্দিন চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
একাধিক ভুক্তভোগী জানান, তিনি নিজেকে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের সহকারী হিসেবে পরিচয় দিতেন। আবার কখনো মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন বা প্রভাবশালী মহলের প্রতিনিধি দাবি করে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতেন। এ পরিচয় ব্যবহার করে অনেককে ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেন তিনি।
এক ভুক্তভোগী জানান, “নিজেকে মন্ত্রীর লোক পরিচয় দিয়ে আমাকে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে ৫০ লাখ টাকা নিয়েছে। এমনকি আমার গাড়ির ড্রাইভারকেও ছাড়েনি—তার কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।”
আরেকজন জানান, কম দামে জমি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ২ লাখ টাকা নেওয়ার পর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি তার। টাকা ফেরত চাইলে উল্টো প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
আরও জানা গেছে, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের ব্যক্তিগত সহকারী মোহাম্মদ সায়েম এর ঘনিষ্ঠ পরিচয় ব্যবহার করে তিনি ভূমি সংক্রান্ত কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখাতেন। এই পরিচয়ের আড়ালে বিভিন্ন শিল্পপতি ও সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে প্রতারণা চালাতেন তিনি।
শুধু ব্যক্তি পর্যায়েই নয়, ব্যাংক খাতেও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একটি বেসরকারি ব্যাংক থেকে প্রায় এক কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান তিনি। এ ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় একটি মামলা দায়ের করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি মুক্তিযোদ্ধা সনদ তৈরি করে দেওয়ার নামেও প্রতারণা চালাতেন। একজন জানায়, এভাবে মুক্তিযোদ্ধা সনদ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রথমে এক লাখ টাকা এবং পরে আরও এক লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যান নিজাম উদ্দিন।উচ্চ বেতনের চাকরি কিংবা সরকারি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নারীদের ফাঁদে ফেলে বিদেশে পাচার করার অভিযোগ করছেন অনেকেই।
পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নগরের বিভিন্ন থানায় একাধিক প্রতারণা মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আগেই জারি হয়েছিল। কিন্তু কৌশলে আত্মগোপনে থেকে দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন তিনি।
খুলশী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাহেদুল ইসলাম বলেন, “আনোয়ারা থানার একটি প্রতারণা মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য মামলাগুলো তদন্তাধীন রয়েছে।
এইচএসডিএফ ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম ইমন, আইন উপদেষ্টা : অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবু হানিফ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
মোবাইল নাম্বার -০১৬১০৫১৭৭০৩, Mail-ajkerkagojbd22@gmail.com
ঠিকানা: বাড়ি ১৮, রোড ০১, সেকশন ০৮, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
Copyright © 2026 আজকের কাগজ. All rights reserved.