মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারন সম্পাদক ইঞ্জি. রবিউল আলম উজ্জ্বলকে (৪৮) গ্রেফতার করেছে থানাপুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে সিংগাইর পৌরসভা আঙ্গারিয়া মহল্লা কেন্দ্রীয় মন্দির সংলগ্ন নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। রবিউল আলম উজ্জ্বল উপজেলার চান্দহর ইউনিয়নের ওয়াইজ নগর গ্রামের মো.লোকমান মাস্টারের ছেলে।
পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে সিংগাইর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা আড্ডা ক্যাফের একটি মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে অভিযোগ রয়েছে। ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সিংগাইর থানার ওসি মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, রবিউল আলম উজ্জ্বলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে।#
সিংগাইরে আলোচিত ট্রিপল মার্ডার মামলার রায়, ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড,৮জনের যাবজ্জীবন,৭ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড খালাস পেয়েছেন ৪ জন
মুহ. মিজানুর রহমান বাদল,মানিকগঞ্জ:
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে আলোচিত তিন হত্যা মামলার ১০ বছর পর রায় ঘোষণা করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ৫ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড,৮ জনকে যাবজ্জীবন এবং ৭জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৪ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সব আসামির উপস্থিতিতে মানিকগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস কে এম তোফায়েল হাসান এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মো. জিয়ার উদ্দিন, মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, আবদুর রশিদ, জসিম ও সিদ্দিক মিয়া। তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৪ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ৮জন হলেন মো. জহির উদ্দিন, আজিজুল, উজ্জ্বল, মো. শামসুল হক, সালাউদ্দিন, মাজেদ মিয়া, মো. মরণ ও স্বপন। তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
এ ছাড়া শামীম ও হাবু মিয়াকে ৫ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মজনু মিয়াকে ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, রাজিয়া খাতুন ও সুফিয়া খাতুনকে ৬ মাস করে এবং সাহেরা ও খাতুনীকে ৩ মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
খালাসপ্রাপ্ত ৪ আসামি হলেন উজ্জ্বল, ওলি আহাদ, শুকুর ও রাজা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আ.ফ.ম নুরতাজ আলম বাহার।
মামলা সূত্রে জানাযায়, হাসিনা নামের এক নারী বাহরাইনে বসবাস করতেন। তার স্বামী ও সন্তান না থাকায় মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া সম্পত্তি ও অর্থের মালিকানা নিয়ে ভাই-বোনদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, হাসিনার বোন রাজিয়া খাতুন, তার স্বামী ও ছেলেরা ওই সম্পত্তি ও অর্থ ভোগদখল করতে থাকেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হলেও বিরোধের সমাধান হয়নি।
২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় বিরোধ নিষ্পত্তিতে সালিশ বৈঠকের দিন ধার্য ছিল। তবে ওই দিন সকাল পৌনে ৮টার দিকে জসিম তার মামা টেঁন্ডুল মোল্লা, করিম মোল্লা ও আজিজ মোল্লাকে শামসুল হকের বাড়িতে ডেকে নেন। সেখানে গেলে রাজিয়া খাতুনের নির্দেশে জসিমসহ অন্য আসামিরা রামদা, সড়কি, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ হামলায় আজিজ মোল্লা, টেঁন্ডুল মোল্লা ও করিম মোল্লা গুরুতর আহত হন। পরে তিনজনই মারা যান। এ ঘটনায় ২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন মো. ফরিদা আক্তার। পরে ২০১৭ সালের ২৮ এপ্রিল সিংগাইর থানার পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম ২৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। মামলায় ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।
এইচএসডিএফ ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম ইমন, আইন উপদেষ্টা : অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবু হানিফ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
মোবাইল নাম্বার -০১৬১০৫১৭৭০৩, Mail-ajkerkagojbd22@gmail.com
ঠিকানা: বাড়ি ১৮, রোড ০১, সেকশন ০৮, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
Copyright © 2026 আজকের কাগজ. All rights reserved.