
সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশ বেশ চাপের মুখে পড়েছে। প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩৫৬ রানে থামিয়ে দিলেও, দিনশেষে বাংলাদেশ ৩ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৮৮ রান তুলতে সক্ষম হয়েছে। প্রথম ইনিংসের হিসেবে সফরকারীদের চেয়ে এখনও ২৬৮ রানে পিছিয়ে আছে স্বাগতিকরা। দিনের খেলা শেষে তাওহীদ হৃদয় ২৯ রান ও মুশফিকুর রহিম ১৯ রান নিয়ে অপরাজিত রয়েছেন। দিনের বাকিটা সময় আর কোনো উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ। আর তাতে উইন্ডিজকে ৩৫৬ রানে অলআউট হয় ক্যারিবীয়রা। তবে দশম উইকেট জুটিতে বাংলাদেশকে ভালোই ভুগিয়েছে উইন্ডিজ।
এর আগে শুক্রবার ৪ উইকেটে ২৩৫ রান নিয়ে দিন শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
নতুন বল হাতে নিয়ে শুরুতেই টাইগার পেসার হাসান মাহমুদ ক্যারিবীয়দের চাপে ফেলেন। রস্টন চেজের ব্যাটের ভেতরের কাণায় লেগে বল চলে যায় উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে। রিভিউয়ে দেখা যায়, বল ব্যাটে লেগে তারপর পায়ে লেগেছে বিশপের।
তিনি জাঙ্গু ও রস্টন চেজকে পরপর দুই বলে ফিরিয়ে দেন। এরপর জশুয়া বিশপকে দুর্দান্ত এক স্টাম্পিংয়ে সাজঘরে ফিরিয়ে হাসান ক্যারিয়ারের পঞ্চম ফাইফার সম্পন্ন করেন। সব মিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের ১০৭তম ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজ শেষ উইকেট হিসেবে জেইডন সিলসকে এলবিডব্লিউ করলে সফরকারীদের ইনিংস ৩৫৬ রানে শেষ হয়। এর আগে হাসান হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগালেও রিভিউতে তা ব্যর্থ হয়। এছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজ জাস্টিন গ্রিভসকে ৫১ রানে বোল্ড করেন। অষ্টম উইকেটে ৩২২ রান তোলার পর শেষদিকে সফরকারীরা ৩৩ রান যোগ করে। তবে শান্তর ধুঁকতে থাকা ইনিংস বেশিদূর এগোয়নি। প্রথমে জাঙ্গুকে ফেরান দারুণ এক ইনসুইংয়ে বোল্ড করে। হাসানের লেংথ বল ডিফেন্ড করতে গিয়ে লাইন মিস করেন জশুয়া বিশপ, বল গিয়ে লাগে তার প্যাডে। আউটের আবেদন করতেই সঙ্গে সঙ্গে আঙুল তুলে দেন পাকিস্তানি আম্পায়ার আসিফ ইয়াকুব। ৫১ রান করে সাজঘরে ফেরেন গ্রিভস। ৩২২ রানে ৮ উইকেট নিয়ে মধ্যাহ্নবিরতির পর ব্যাটিংয়ে নেমে ১ রান যোগ করতেই শামার জোসেফের উইকেট হারিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে বেরসিক রিভিউ সেই আনন্দের উপলক্ষ্যকে কিছুটা মলিন করেছে। গত মাসে আফগানিস্তানের বিপক্ষেও ফাইফার নিয়েছিলেন এই পেসার।
জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশ শুরুতেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। মাত্র ২২ রানের মাথায় স্বাগতিকরা ২ উইকেট হারিয়ে ফেলে। ওপেনার সাদমান ইসলামের পরিবর্তে সুযোগ পাওয়া নাঈম হাসান ৬ বল খেলে ৫ রান করে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। তানজিদ তামিম আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের চেষ্টা করে পয়েন্টে উইকহ্যামের হাতে ধরা পড়েন ১৬ রান করে। এরপর নাজমুল হাসান শান্ত ও তাওহীদ হৃদয় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু শান্ত ১৮ রান করে শামার জোসেফের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান। তৃতীয় সেশনের শুরু থেকেই সাবধানী ব্যাটিং করেছেন অধিনায়ক নাজমুল হাসান শান্ত এবং হৃদয়। উল্লাসে ফেটে পড়েন ক্রিকেটার থেকে শুরু করে গ্যালারিতে থাকা দর্শকরাও।
২ উইকেটে ৩৬ রান নিয়ে চা বিরতিতে যাওয়ার পর তৃতীয় সেশনে বাংলাদেশ আর মাত্র ৫২ রান যোগ করতে পেরেছে। দিনশেষে হৃদয় ও মুশফিকুর রহিমের অবিচ্ছিন্ন ৩৭ রানের জুটি বিপর্যয় সামাল দেওয়ার লড়াই চালাচ্ছে। আগামীকাল তৃতীয় দিনে এই জুটি কতটা এগিয়ে নিতে পারবে, তার ওপরই নির্ভর করছে বাংলাদেশের লিড কমানোর আশা। ২ উইকেটে ৩৬ রান নিয়ে চা বিরতিতে যাওয়ার পর তৃতীয় সেশনে ১ উইকেট হারিয়ে ৫২ রান করে বাংলাদেশ।
এইচএসডিএফ ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম ইমন, আইন উপদেষ্টা : অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবু হানিফ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
মোবাইল নাম্বার -০১৬১০৫১৭৭০৩, Mail-ajkerkagojbd22@gmail.com
ঠিকানা: বাড়ি ১৮, রোড ০১, সেকশন ০৮, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
Copyright © 2026 আজকের কাগজ. All rights reserved.