দেশে সাম্প্রতিক হাম পরিস্থিতির পেছনে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও টিকাদান কার্যক্রমে অবহেলাকে দায়ী করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেছেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এমআর টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত না হওয়ায় হাম সংক্রমণ বেড়েছে এবং এর দায় আগের আওয়ামী লীগ সরকার ও অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন এড়াতে পারে না।
বুধবার (২৭ মে) দুপুরে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও গত বছরগুলোতে কার্যকর পরিকল্পনার অভাব ছিল। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফ, গ্যাভি ও এডিবির পক্ষ থেকে একাধিকবার টিকা সংগ্রহের তাগিদ দেওয়া হলেও যথাসময়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে দেশে হাম সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর সীমিত সক্ষমতার মধ্যেও সরকার দ্রুত টিকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়। গ্যাভির কাছ থেকে জরুরি ভিত্তিতে টিকা এনে প্রথমে সংক্রমণ বেশি থাকা ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় কার্যক্রম শুরু করা হয়। পরে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনেও টিকাদান সম্প্রসারণ করা হয়।
মন্ত্রী দাবি করেন, গত মাসের ২০ তারিখ থেকে শুরু হওয়া দেশব্যাপী কর্মসূচিতে দুই কোটির বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি। কর্মসূচি শেষ হলেও দেশের সব উপজেলায় এখনো টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
স্বাস্থ্যখাতে অনিয়মের অভিযোগ তুলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে প্রয়োজন ও জনবল কাঠামো বিবেচনা না করেই বিভিন্ন হাসপাতালের জন্য ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। অনেক রেডিওথেরাপি মেশিন দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় অকেজো হয়ে পড়ে আছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার প্রস্তুতি নিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে এক লাখের বেশি স্যালাইন মজুত করা হয়েছে, যাতে হঠাৎ রোগীর চাপ বাড়লেও সংকট তৈরি না হয়।
জনবল সংকট কাটাতে আগামী জুলাইয়ের পর থেকে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এর মধ্যে অধিকাংশ নারী কর্মীকে মিডওয়াইফ ও কেয়ারগিভার হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে নিয়োগের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, এ ব্যবস্থায় টেন্ডার, নিয়োগ ও বেতন বিতরণসহ বিভিন্ন ধাপে দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়। তাই এই প্রক্রিয়া বন্ধে সরকার উদ্যোগ নেবে।
পরিদর্শনের সময় সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন ও মোহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে তিনি পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। সেখানে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
এইচএসডিএফ ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম ইমন, আইন উপদেষ্টা : অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবু হানিফ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
মোবাইল নাম্বার -০১৬১০৫১৭৭০৩, Mail-ajkerkagojbd22@gmail.com
ঠিকানা: বাড়ি ১৮, রোড ০১, সেকশন ০৮, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
Copyright © 2026 আজকের কাগজ. All rights reserved.