পরিসংখ্যানের পাতায় হয়তো ঢাকা পড়ে গেছে ইতিহাস গড়া সেই পারফরম্যান্স। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের মঞ্চে নতুন এক লড়াইয়ে নামার আগে, সেই স্মৃতি আজও ক্যারিবিয়ান ফুটবলপ্রেমীদের মনে এক অন্যরকম গর্বের জন্ম দেয়। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি হওয়ার আগে ব্রাজিলের বিপক্ষে এক অবিশ্বাস্য রূপকথা লিখেছিল হাইতি।
ঘটনা ১৯৯৯ সালের ৮ জুন, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোতে। ক্যারিবিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে ফুটবল পরাশক্তি ব্রাজিলকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে অভাবনীয় এক জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল হাইতি। তবে অবাক করার মতো বিষয় হচ্ছে, ক্যারিবিয়ান দলটির এ পারফরম্যান্স বহুল ব্যবহৃত ও জনপ্রিয় ফুটবল রেকর্ডগুলোর কোথাও উল্লেখ প্রায় নেই বললেই চলে। বেশিরভাগ পরিসংখ্যানভিত্তিক ডেটাবেইস ঘাঁটলে এই দুই দলের কেবল তিনটি পূর্ববর্তী লড়াইয়ের খোঁজ মেলে—যার মধ্যে রয়েছে ১৯৭৪ ও ২০০৪ সালের দুটি প্রীতি ম্যাচ এবং ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা সেন্টেনারিওর সেই ম্যাচটি। আর এ প্রতিটি ম্যাচেই ব্রাজিল পেয়েছিল বিশাল ও দাপুটে জয়।
এর বাইরেও যে চতুর্থ আরেকটি ম্যাচ ছিল, তা ইতিহাসের মূল আলোচনা থেকে এক প্রকার হারিয়েই গেছে। ১৯৯৯ সালের সেই মঙ্গলবারে, ড. জোয়াও হাভেলাঞ্জ সেন্টার অব এক্সেলেন্স স্টেডিয়ামে ‘দ্য গ্রেনাডিয়ার্স’ (হাইতি জাতীয় দলের ডাকনাম) এমন এক অবিশ্বাস্য জয় তুলে নিয়েছিল, যা নিয়ে বিভিন্ন উৎসের তথ্যে আজও নানারকম অমিল আর ধোঁয়াশা রয়ে গেছে—বিশেষ করে ম্যাচের গোল বা খেলার গতিপ্রকৃতি কেমন ছিল তা নিয়ে। মায়ামিভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা ‘লিটল হাইতি এফসি’র প্রতিষ্ঠাতা এবং ফুটবল অনুরাগী গোমেজ ডন লালেউ, যিনি স্থানীয় তরুণদের নিয়ে কাজ করেন, তিনি বার্তা সংস্থা ইএফই -কে বলেন, ‘আপনি যদি একটু খোঁজাখুঁজি করেন, তবে আমার মনে হয় এই ম্যাচটি নিয়ে কিছু না কিছু তথ্য পেয়েই যাবেন।’
এমনকি ম্যাচের খুঁটিনাটি তথ্যগুলো নিয়েও শতভাগ মিল পাওয়া যায় না। কিছু বিবরণে বলা হয়েছে প্রথমার্ধ গোলশূন্য ছিল, আবার অন্য কিছু সূত্রে দাবি করা হয় যে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই মিশেল গ্যাব্রিয়েলের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল হাইতি। তবে ম্যাচের যে তথ্যটি সব জায়গাতেই অপরিবর্তিত রয়েছে, তা হলো চূড়ান্ত ফলাফল ৪-৩। ঐতিহাসিক সেই ম্যাচের কিছু ছবিও অবশ্য এখনও টিকে রয়েছে।
ঐ টুর্নামেন্টে দক্ষিণ আমেরিকার এই পরাশক্তির অংশ নেওয়ার পেছনে একটা বিশেষ কারণ ছিল। আসলে, ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন টুর্নামেন্টে খেলার আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেও সেখানে পাঠিয়েছিল তাদের একটি যুব দল (অনূর্ধ্ব দল)। স্বাভাবিকভাবেই রোনালদো, রিভালদো, কাফু কিংবা রবার্তো কার্লোসের মতো বিশ্বখ্যাত তারকারা সেই দলে ছিলেন না। তবে তাদের বদলে এমন কিছু তরুণ ফুটবলার খেলেছিলেন, যারা পরবর্তীতে বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ স্তরে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছিলেন।
সেই উদীয়মান নামগুলোর মধ্যে ছিলেন লুইসাও, এদু দ্রাসেনা, ফ্যাবিও রোশেমব্যাক, আলেসান্দ্রো সালভিনো, মার্সিনহো, এভারটন এবং হুলিয়ানো ভিচেনতিনির মতো খেলোয়াড়রা।
ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম গ্লোবো টিভি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই স্মৃতি এভাবেই রোমন্থন করেন ভিচেন, ‘যে জিনিসটা আমাকে সবচেয়ে বেশি অবাক করেছিল, তা হলো ওদের শারীরিক শক্তি। আমরা আসলে একটা পূর্ণাঙ্গ জাতীয় দলের বিপক্ষে খেলছিলাম। ওরা আমাদের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী, বয়সে বড় এবং গতিতে এগিয়ে ছিল’,
সেই অঘটনের পর ব্রাজিল টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় এবং হাইতি পৌঁছায় সেমিফাইনালে। তবে শেষ চারে ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় তাদের, যারা পরবর্তীতে ঐ টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতেছিল। আজ, দুই দশকেরও বেশি সময় পর, হাইতিয়ানরা আবারও এই দক্ষিণ আমেরিকান পরাশক্তির বিরুদ্ধে আরেকটি সম্ভাব্য লড়াইয়ের কথা ভেবে রোমাঞ্চিত।
এইচএসডিএফ ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, সম্পাদক : দেলোয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : এস এম ইমন, আইন উপদেষ্টা : অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবু হানিফ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত।
মোবাইল নাম্বার -০১৬১০৫১৭৭০৩, Mail-ajkerkagojbd22@gmail.com
ঠিকানা: বাড়ি ১৮, রোড ০১, সেকশন ০৮, মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
Copyright © 2026 আজকের কাগজ. All rights reserved.