1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
সংসদে ‘আই হ্যাভ অ্যা প্লান’ নিয়ে প্রশ্ন, ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী - আজকের কাগজ
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
সংসদে ‘আই হ্যাভ অ্যা প্লান’ নিয়ে প্রশ্ন, ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী পুলিশ দম্পতির বিরুদ্ধে গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগ সতীর্থদের নিয়ে খুবই গর্বিত—লিওনেল মেসি ওবামার বিরুদ্ধে ইরানকে ‘ঘুষ’ দেওয়ার অভিযোগ ট্রাম্পের মায়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেন শিক্ষামন্ত্রী নওগাঁয় কলেজ শিক্ষক খুন কালিয়াকৈরে দুর্ভোগ কাটেনি পানিবন্দি শত শত পরিবার, বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট, যোগােযাগ ব্যবস্থা ব্যাহত ফোনে ‘তোমাকে আমার ভালো লাগে’ বলার পর থেকে চার দিন ধরে নিখোঁজ স্কুলছাত্রী ঝিনাইগাতী সরকারি মডেল পাইলট উচ্চবিদ্যালয় সামান্য বৃষ্টিতেই জমে থাকে পানি

সংসদে ‘আই হ্যাভ অ্যা প্লান’ নিয়ে প্রশ্ন, ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬ ১০:১০ পিএম
শেয়ার করুন

‘আই হ্যাভ অ্য প্লান’ নিয়ে জাতীয় সংসদে এক লিখিত প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর, জলবায়ু-সহিষ্ণু ও কৃষক-কেন্দ্রিক আধুনিক করার প্রত্যাশা সামনে রেখে ‘আই হ্যাভ অ্যা প্লান’ কর্মসূচির আওতায় একগুচ্ছ উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন, যেখানে কৃষিখাত হবে জাতীয় সমৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি।

বুধবার (১৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের নবম দিন প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী একথা জানান।

বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া সংসদে বৈঠকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম সভাপতিত্ব করেন।প্রধানমন্ত্রীর প্রতি প্রশ্ন রেখে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজা বলেন, ‘আমাদের কৃষি নির্ভর এই বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও মেহনতি কৃষকের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশের জনগণ কর্তৃক সাদরে গৃহীত আপনার বহুল জনপ্রিয় স্লোগান ‘আই হ্যাভ অ্যা প্লান’ কর্মসূচির আওতায় কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং উক্ত পদক্ষেপসমূহ বাস্তবায়িত হলে কৃষিতে অভূতপূর্ব বিপ্লব সাধনে আমরা আশান্বিত হতে পারি কি না?

’জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমান কৃষি-বান্ধব সরকারের মূল লক্ষ্যে হল একটি আত্মনির্ভর, জলবায়ু-সহিষ্ণু, প্রযুক্তি নির্ভর ও কৃষক-কেন্দ্রিক আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা। যেখানে উৎপাদন ও বিপণন হবে সম্পূর্ণ তথ্য চালিত, আমাদের প্রান্তিক কৃষক হবেন ক্ষমতায়িত উদ্যোক্তা এবং কৃষিখাত হবে জাতীয় সমৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি।’

কৃষিক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘কৃষির উন্নয়ন ও কৃষকদের ইউনিক পরিচয় নিশ্চিতকরণে ন্যায্য মূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, স্বল্প মূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রদানের লক্ষ্যে ১৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।’

তারেক রহমান জানান, প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে দেশের ৮টি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে এ কার্যক্রম সম্পাদন করা হচ্ছে। অদ্যাবধি ২০ হাজার ৮৩২টি কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্যখাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করেছে। এ লক্ষ্যে সরকার চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ১৫৬৭.৯৬ (এক হাজার পাঁচশত সাতষট্টি কোটি ছিয়ানব্বই লাখ) কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ করেছে এবং এর ফলে সারাদেশের প্রায় ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ জন কৃষক উপকৃত হবে।

সরকার দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন/পুনঃখননের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এর ফলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে, জলাবদ্ধতা নিরসন হবে, সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা সুরক্ষিত হবে। ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি এবং এমওপি সার অত্যন্ত সুলভ মূল্যে সরাসরি কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, বিএডিসির মাধ্যমে উচ্চফলনশীল ও জলবায়ু সহনশীল বীজের সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।’

তিনি জানান, উচ্চ ফলনশীল ও প্রতিকূলতা সহিষ্ণু জাত উদ্ভাবনের পাশাপাশি স্মার্ট কৃষি ও প্রিসিশন এগ্রিকালচার-এর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ও গম সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং দেশব্যাপী ‘কৃষকবাজার’ স্থাপন করা হচ্ছে।

কৃষিখাতে সেন্সর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অফ থিংস এবং ড্রোনের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের লক্ষ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করছে বলেও উল্লেখ করেন সরকারপ্রধান।

জলবায়ু প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা ও কার্যক্রম

টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়াল প্রশ্ন রেখে বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিশ্বের ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহের মধ্যে অন্যতম। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা এবং বাংলাদেশকে উন্নত দেশে রূপান্তর আবার লক্ষ্যে সরকার কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে কি না?

জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘ভৌগোলিক অবস্থান, ঘনবসতি, বিস্তৃত নদ-নদী ব্যবস্থা এবং উপকূলীয় বৈশিষ্ট্যের বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, আকস্মিক বন্যা, নদীভাঙন, খরা, অতিবৃষ্টি, বজ্রপাত, তাপ ও লবণাক্ততার মতো দুর্যোগের প্রকোপ ও তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, অবকাঠামো, পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।’

তিনি জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা পানি সম্পদ খাতে বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা ও কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। তারমধ্যে- পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়ন; তিস্তা মহাপরিকল্পনা; নদীভাঙন রোধ; বন্যায় সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ; এবং কৃষিজমিতে লবণাক্ততা হ্রাসকরণ অন্যতম।

প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ১৩ মে ৩৪ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্প ১ম পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদিত হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীতে পানি সংরক্ষণপূর্বক পানির প্রবাহ বৃদ্ধি করে পদ্মানির্ভর এলাকায় নদী সিস্টেমকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে। এছাড়া, দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ হ্রাস, সুন্দরবন ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য পুনরুদ্ধার, নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা হ্রাস, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভবপর হবে।

তিনি বলেন, ‘এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে এবং দেশের জিডিপিতে শতকরা শূন্য দশমিক ৪৫ ভাগ অতিরিক্ত প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে। অধিকন্তু, ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার বৃদ্ধি, সেচ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিসহ পরিবেশ প্রতিবেশ উন্নয়নে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ‘দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচি চলমান রয়েছে।’

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় সরকার কর্তৃক বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও সংসদকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকার কর্তৃক বিভিন্ন উদ্যোগ

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত অন্যান্য উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি জাতীয়, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বৃক্ষমেলার আয়োজন এবং তিন মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর আওতায় উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য প্রাকৃতিক জলাধার গড়ে তোলা, জলবায়ু অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিরাপদ জীবিকা নিশ্চিতকরণ এবং নারী, শিশু, জেলে ও অন্যান্য পেশাজীবীদের সুরক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস মোকাবিলায় টেকসই বেড়িবাঁধ, সাইক্লোন শেল্টার এবং আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আরও উন্নত করা হবে।’

এই বিভাগের আরো খবর