
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় ১৪ জনের প্রাণ কেড়ে নেওয়া বাস-ট্রাক সংঘর্ষের পর দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির ফিটনেস এবং চালকের দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আরপি স্পেশাল পরিবহনের বাসটির ফিটনেস সনদের মেয়াদ শেষ হয়েছিল গত ১৩ মে।
অন্যদিকে, দুর্ঘটনার সময় বাসটির চালকের আসনে চালকের পরিবর্তে সুপারভাইজার ছিলেন বলে দাবি করেছেন তিনজন যাত্রী।
তাদের ভাষ্য, বাসচালক ও তার সহকারী (হেলপার) পেছনের আসনে ঘুমাচ্ছিলেন।
সুপারভাইজার চালাচ্ছিলেন বাস এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তবে পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত ভাবে বলতে পারছেন না।
এদিকে নাটোর বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বাসটির রুট পারমিটের মেয়াদ রয়েছে ২০২৮ সালের ১৩ মে পর্যন্ত। তবে ফিটনেস সনদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বাসটি কীভাবে মহাসড়কে চলাচল করছিল, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দুর্ঘটনায় আহত চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার যাত্রী রমজান আলী বাংলানিউজকে বলেন, বাসটি রাত আনুমানিক তিনটার দিকে পাবনার ঈশ্বরদীতে পৌঁছালে চালক নিজের আসন ছেড়ে দেন। এরপর বাসের সুপারভাইজার সোহেল রানা চালকের আসনে বসেন। চালক ও তার সহকারী পেছনের আসনে গিয়ে ঘুমাতে যান। প্রায় এক ঘণ্টা পর বনপাড়ায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
বাসের আরও দুই যাত্রী ইয়াকুব আলী ও আব্দুস সালামও দাবি করেছেন, দুর্ঘটনার সময় বাসটি চালাচ্ছিলেন সুপারভাইজার।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসটি সোমবার বিকেলে দিকে বরগুনা থেকে মাত্র ১০ জন যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করে। এরপর ক্রমান্বয়ে যাত্রীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। বাসটিতে আসন ছাড়াও অতিরিক্ত যাত্রী ছিল। কোথাও পা রাখার জায়গা ছিল না। চালক বার বার বাসটি কখনও অল্প গতিতে, কখনও দ্রুত গতিতে চালাচ্ছিল।
তারা আরো জানান, ঈশ্বরদীতে বিরতির পর পুনরায় যাত্রা শুরু হলে সুপারভাইজার চালকের আসনে বসেন। যাত্রীদের এসব বক্তব্য বাস পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। সুপারভাইজারের বাস চালানোর বৈধ অনুমতি ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ছিল কি না, চালক কেন নিজের আসন ছেড়েছিলেন এবং দীর্ঘ যাত্রাপথে চালকের বিশ্রামের ব্যবস্থা কি ছিল-এসব বিষয় তদন্ত করা করা প্রয়োজন।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ট্রাকটি মহাসড়কের বাম পাশের লেন দিয়ে চলছিল। এ সময় দ্রুতগতির বাসটি অন্য যানবাহনকে ওভারটেক করতে গিয়ে ট্রাকটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়ায়। তবে দুর্ঘটনার আগে বাসটির প্রকৃত গতি কত ছিল, কোন পরিস্থিতিতে ওভারটেকের চেষ্টা করা হয়েছিল এবং সংঘর্ষ এড়ানোর সুযোগ ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একদিকে বাসটির ফিটনেস সনদের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া, অন্যদিকে দুর্ঘটনার সময় চালকের পরিবর্তে সুপারভাইজারের বাস চালানোর বিষয়ে যাত্রীদের বক্তব্য-দুটি বিষয়ই দুর্ঘটনার আগের পরিস্থিতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হবে। তদন্তে এসব ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে-এমনটি জানিয়েছেন বনপাড়া হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলমঙ্গীর হোসেন।
নাটোরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোছা. সুমনী আক্তার বলেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি কাজ করবেন। কমিটির পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।