1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
স্ত্রীকে কখনো মেয়ে, কখনো ভাতিজি পরিচয়ে বিয়ে দিতেন স্বামী - আজকের কাগজ
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:

স্ত্রীকে কখনো মেয়ে, কখনো ভাতিজি পরিচয়ে বিয়ে দিতেন স্বামী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৭:৫১ পিএম
শেয়ার করুন

স্ত্রীকে কখনো নিজের মেয়ে, আবার কখনো ভাতিজি সাজিয়ে পাত্রপক্ষের সামনে হাজির করতেন এক ব্যক্তি। বিয়ের পর কয়েক দিনের মধ্যেই নববিবাহিত স্বামীর টাকা-পয়সা ও গয়না নিয়ে ওই নারী পালিয়ে যেতেন বলে অভিযোগ।

দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রী মিলে এমন প্রতারণা করে আসছিলেন বলে পুলিশের দাবি। সম্প্রতি এক নববিবাহিত যুবকের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার দেগঙ্গায়।

আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক যুবক অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে তার ‘চাচাশ্বশুর’ এবং পাত্রীকে নিজের ভাতিজি পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে বিয়ে দেন।

বিয়ের প্রায় এক মাস পর তিনি জানতে পারেন, যাকে তিনি বিয়ে করেছেন, সেই নারী আসলে ওই ব্যক্তিরই স্ত্রী। এরপর তিনি থানায় গিয়ে ওই দম্পতির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ করেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পাত্রপক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়াই ছিল দম্পতির মূল উদ্দেশ্য।

এর আগেও একই পদ্ধতিতে তারা একাধিক বিয়ে সম্পন্ন করেছে বলে পুলিশের দাবি। তবে সেসব ঘটনায় কেউ অভিযোগ না করায় তারা এতদিন ধরা পড়েননি বলে ধারণা করা হচ্ছে। সামাজিক সম্মানের কথা চিন্তা করে অনেক ভুক্তভোগী পুলিশের কাছে যাননি বলেও মনে করছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দেগঙ্গার ওই মধ্যবয়সী ব্যক্তি বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজছিলেন। এক ঘটকের মাধ্যমে তিনি এক যুবতীর সন্ধান পান।

ছবি দেখে পাত্রী পছন্দ করার পর প্রায় এক মাস আগে একটি মন্দিরে বিয়ের আয়োজন করা হয়। বিয়ের সময় কনের ‘চাচা’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তিই আশীর্বাদ করেন এবং কন্যা সম্প্রদানও করেন। তিনি পাত্রপক্ষকে জানান, মেয়েটি তার একমাত্র ভাতিজি এবং পরিবারের আর কোনো সদস্য নেই।
কিন্তু বিয়ের পর থেকেই নববিবাহিত যুবকের মনে সন্দেহ তৈরি হয়। তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তার স্ত্রী আগে থেকেই বিবাহিত। আরো চমকপ্রদ তথ্য হলো, বিয়ের সময় যে ব্যক্তি নিজেকে কনের চাচা হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন, তিনিই ওই নারীর স্বামী। তাদের দুটি মেয়েও রয়েছে, যাদের দুজনেরই ইতিমধ্যে বিয়ে হয়ে গেছে।

ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যরা অভিযুক্ত দম্পতিকে ডেকে পাঠান। সেখানে তারা নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে অভিযোগকারী যুবক তার বক্তব্যে অনড় থাকেন এবং শেষ পর্যন্ত পুলিশের দ্বারস্থ হন।

দেগঙ্গা থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করে অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পায় বলে জানিয়েছে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে অভিযুক্তরা স্বীকার করেন যে তারা প্রকৃতপক্ষে স্বামী-স্ত্রী; তাদের মধ্যে চাচা ও ভাতিজির কোনো সম্পর্ক নেই।

তদন্তে আরো উঠে এসেছে, ওই ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে একই নারীকে কখনো নিজের ভাতিজি, আবার কখনো নিজের মেয়ে পরিচয়ে পাত্রপক্ষের সামনে উপস্থাপন করতেন। এরপর তার সঙ্গে পাত্রের বিয়ে দেওয়া হতো। বিয়ের কয়েক দিনের মধ্যে নববিবাহিত স্বামীর কাছ থেকে টাকা ও গয়না নিয়ে দুজন পালিয়ে যেতেন বলে অভিযোগ। পুলিশের ভাষ্য, পরিকল্পিতভাবে স্বামী-স্ত্রী মিলে একাধিক পরিবারের সঙ্গে এ ধরনের প্রতারণা করেছেন।

সর্বশেষ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে। মামলার তদন্ত এগিয়ে নিতে তাদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়ে বারাসত মহকুমা আদালতে হাজির করা হয়েছে।

এই বিভাগের আরো খবর