
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে ১৫ অক্টোবর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।
বুধবার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে এ মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে নিয়মিত বিচারক অনুপস্থিত থাকায় ভারপ্রাপ্ত বিচারক মিনহাজ মোসাদ্দেক শুনানির নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী গোলাম নবী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলাটিতে ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’-এর একটি জুম সভায় অংশ নিয়ে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ওই অনলাইন সভায় দেশ-বিদেশ থেকে ৫৭৭ জন অংশ নিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট নথিতে বলা হয়েছে, ওই সভার কথোপকথনের ভয়েস রেকর্ড পর্যালোচনা করে সরকারবিরোধী বিভিন্ন আলোচনা ও সরকার উৎখাতের পরিকল্পনার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা হয়েছে।
মামলাটির শুরুতে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা করেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক। পরে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৬ ধারায় তদন্তের অনুমোদন পাওয়ার পর তদন্ত শেষে ২০২৬ সালের ১৪ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ মোট ২৮৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনা, ড. রাব্বি আলম, কবিরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, এলাহী নেওয়াজ মাছুম, জাকির হোসেন জিকু, অধ্যাপক তাহেরুজ্জামান, এ কে এম আক্তারুজ্জামান, আজিদা পারভীন পাখি, অ্যাডভোকেট এ এফ এম দিদারুল ইসলাম, মাকসুদুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা রুবিনা আক্তার ও পংকজ নাথসহ আরও অনেকে।
বর্তমান আদালত-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে ২৮৬ আসামির মধ্যে ২৫৯ জন, শেখ হাসিনাসহ, পলাতক রয়েছেন এবং তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার কার্যক্রম চলছে বলে জানানো হয়েছে। এখন মামলাটির অভিযোগ গঠনের শুনানি আগামী ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।