1. ajkerkagojbd22@gmail.com : Ajker Jagoj : Ajker kagoj
  2. asikkhancoc085021@gmail.com : asikengg :
  3. minniakter1@gmail.com : minni akter : minni akter
নেতানিয়াহু ও আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মিলে বিমান ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়েছেন - আজকের কাগজ
শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
জাতিসংঘ নির্বাচনে বাংলাদেশের সমর্থন চাইলো যুক্তরাষ্ট্র রূপনগর থানায় যোগদানের পর নানা কর্মকান্ডে বিতর্কিত ওসি নোমান হোসেনকে বদলি সিএনজি চলাচলে বাধার অভিযোগ, কুড়িগ্রামে সড়ক অবরোধ বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত অনুমোদন পেল রূপপুরের প্রথম ইউনিট পুলিশে রদবদল, ২ ওসিসহ ৮ পরিদর্শকে বদলি দুই মাসের মধ্যে এক হাজার খেলার মাঠ তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর প্রশিক্ষণ নিতে জাপান যাচ্ছেন ২৩ জন বিচারক ও আইনজীবী ইউপি নির্বাচনের রোডম্যাপ আসছে ১২ অক্টোবর ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছেই, অক্টোবরের সাত দিনেই ৪৯ মৃত্যু সংগঠনের নীতি-আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বুড়িচংয়ে যুবদল নেতা বহিষ্কার

নেতানিয়াহু ও আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মিলে বিমান ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়েছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬ ৭:২৭ পিএম
শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন যুদ্ধে জড়ানোর উদ্দেশ্যে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান বিমান ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি। সংবাদমাধ্যমটির কাছে পরিচয় প্রকাশ না করা এক আঞ্চলিক সূত্র এই দাবি করেছে।

ওই সূত্রের দাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে অধিকৃত ভূখণ্ডের উদ্দেশে যাওয়া একটি আমিরাতি বিমান ছিনতাই এবং পরে সেটিকে সৌদি আরবে অবতরণের ঘটনাটি ছিল পরিকল্পিত একটি সাজানো অভিযান। বুধবার ঘটে যাওয়া এ ঘটনার মাত্র তিন দিন আগে নেতানিয়াহু কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছিলেন।

সূত্রটির দাবি, নেতানিয়াহুর ওই সফরের সময় কথিত পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করা হয়। পাশাপাশি কয়েকটি আরব দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বহুপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ইরানের ওপর ওই ঘটনার দায় চাপানোর জন্য একটি ‘ভুয়া পতাকা’ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়।

সূত্রটি বলেছে, এ অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সংঘাতে জড়ানো এবং আরেক দফা যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি করা।

ওই আঞ্চলিক সূত্রের দাবি, নেতানিয়াহু আশঙ্কা করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তার জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করতে নাও পারে। সেক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী পদ হারানোর পর তাকে দীর্ঘ সময় ধরে আইনি মামলার মুখোমুখি হতে হতে পারে বলেও দাবি করা হয়েছে।

সূত্রটির ভাষ্য, হোয়াইট হাউস এবং ট্রাম্পের ওপর নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি আবারও মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে জড়াতে চাইছেন। একই সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক প্রভাব ব্যবহারের চেষ্টা করছেন বলেও দাবি করা হয়।

এদিকে ইরানের ওই সূত্রের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সব ধরনের তৎপরতা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে তেহরান। নেতানিয়াহুর কথিত পরিকল্পিত বিমান ছিনতাইয়ের অজুহাতে নতুন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে—এমন সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখে ইরান প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

সূত্রটি আরও দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল কোনো ধরনের শত্রুতামূলক পদক্ষেপ নিলে তার জবাবে ইরান ‘কঠোর ও বিধ্বংসী আঘাত’ হানতে প্রস্তুত।

নেতানিয়াহুর আমিরাত সফরের পরই বিমানকাণ্ড

নেতানিয়াহুর সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরের কয়েক দিনের মধ্যেই বিমান ছিনতাইয়ের কথিত ঘটনাটি ঘটে। সফরের সময় তিনি আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন।

ঘটনার দিন বুধবার ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাইও এ বিষয়ে মন্তব্য করেন। আরবি ভাষায় দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি। একইভাবে গাজায় হত্যাযজ্ঞের জন্য দায়ী নেতানিয়াহুকে আতিথ্য দেওয়াও ইতিবাচক পরিণতি বয়ে আনবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রেজাই আবুধাবিকে ‘গত যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নেওয়ার’ এবং ‘যুদ্ধ উসকে দেওয়া বন্ধ করার’ আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আবু মুসা, বৃহত্তর তুনব ও ক্ষুদ্র তুনব দ্বীপ নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন দাবি বন্ধ করারও আহ্বান জানান তিনি।

আমিরাতি বিমানকাণ্ডের আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও নেতানিয়াহুর ওই অঞ্চলে উপস্থিতির তীব্র নিন্দা জানায়। মন্ত্রণালয়টি তাকে ‘শিশুহত্যাকারী ও যুদ্ধবাজ’ হিসেবে উল্লেখ করে সতর্ক করে যে, পশ্চিম এশিয়ার অত্যন্ত নাজুক পরিস্থিতিতে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিণতি’ ডেকে আনতে পারে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইসরাইলের ইরানবিরোধী আগ্রাসন এবং ফিলিস্তিন ও লেবাননে দখলদারত্ব ও সংঘাত বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে এ ধরনের উপস্থিতি আঞ্চলিক শান্তি ও সম্মিলিত নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

বিবৃতিতে পশ্চিম এশিয়ার সব দেশকে এ ধরনের উপস্থিতির সম্ভাব্য পরিণতি ও প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।

ইরানি কর্মকর্তারা এর আগেও পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেছেন, ইসরাইলের সঙ্গে সহযোগিতা, বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হলে এর গুরুতর পরিণতি হতে পারে।

এই বিভাগের আরো খবর