
রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর থানাধীন দুয়ারীপাড়ায় সম্প্রসারিত রূপনগর আবাসিক এলাকায় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের (জাগৃক) বরাদ্দকৃত প্লট, রাস্তা ও সরকারি সম্পত্তি অবৈধ দখল এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্লট মালিক ও সংশ্লিষ্টরা দখলদার ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সম্প্রসারিত রূপনগর আবাসিক এলাকার ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও গণপূর্ত মন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, রূপনগর থানাধীন সম্প্রসারিত রূপনগর আবাসিক এলাকার ব্লক ‘ক’ ও ‘খ’, সেকশন-৮ এলাকায় সরকারি প্লট ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র দখল ও চাঁদাবাজি চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, গভীর রাতে ইট, বালু ও টিন দিয়ে স্থাপনা নির্মাণ, ইটের দেয়াল ও গেট নির্মাণ, প্লটের ভেতরে সাইনবোর্ড স্থাপন এবং ২০ ফুট প্রশস্ত রাস্তার ওপর অ্যাঙ্গেল দিয়ে ওয়েল্ডিং করে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে।
এছাড়া প্লট মালিকরা নিজেদের জায়গায় ভবন বা স্থাপনা নির্মাণ করতে গেলে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নির্মাণ শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখানো, মারধর এবং নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে আরও দাবি করা হয়, প্রায় অর্ধশত প্লট মালিক বর্তমানে কথিত চাঁদাবাজদের হয়রানির শিকার। এর বাইরে প্রকল্পের ‘খ’ ব্লকের পূর্ব পাশে প্রায় ৯০ কাঠা সরকারি জায়গা এবং ৪০ ফুট প্রশস্ত রাস্তা অবৈধভাবে দখলের অভিযোগও করা হয়েছে। দখল করা জায়গার কিছু অংশে রিকশা গ্যারেজসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে এবং সেখানে মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগকারীরা জানান, এসব বিষয়ে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে রূপনগর থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও লিখিত অভিযোগ করা হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, একাধিকবার অভিযোগ করার পরও দখল ও চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে রূপনগর থানার পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পুলিশকে দেখানো হলেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে ১৮ জুলাই ২০২৬ সালের একটি ঘটনার উল্লেখ করে বলা হয়, কয়েকজন কথিত চাঁদাবাজ পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে একটি নির্মাণাধীন প্রকল্পে গিয়ে শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করার জন্য হুমকি দেন। ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে বলে দাবি করেন অভিযোগকারীরা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে রূপনগর থানায় কর্মরত এসআই আসাদুলসহ দুই পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনাটি ড্যাফোডিল হোমস লিমিটেডের একটি নির্মাণাধীন আবাসিক প্রকল্পে ঘটেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান এ ঘটনায় রূপনগর থানায় লিখিত অভিযোগ করেও প্রতিকার পাননি বলে দাবি করা হয়। পরে তিনি ঢাকার সিএমএম আদালতে সিআর-৫৮৭/২৬ নম্বর মামলা দায়ের করেছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, সম্প্রসারিত রূপনগর আবাসিক এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে একটি ২২ সদস্যের আনসার ক্যাম্প ছিল। ক্যাম্পটি অপসারণের দিন রাতেই একটি চক্র আনসার ক্যাম্পসহ দুটি প্লটের জায়গা দখল করে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে দখল ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন সালাউদ্দিন শিপু মোল্লা, আমজাদ হোসেন মোল্লা, জাকির হোসেন শান্ত, মো. শিহাব উদ্দিন, মো. জামাল উদ্দিন ওরফে লম্বা জামাল, আব্দুল হক, মো. নজরুল ইসলাম (নজু), মো. আক্তার হোসেন, হুমায়ুন কবির স্বপন, মো. মামুন, আইজল, মোবারক হোসেন মেম্বার, গালিব হোসেন আরিফ, মো. রাজু ওরফে চান্দি রাজু, সুমন ওরফে পিতলা সুমন, এরশাদ খোকন, মো. জাহিদ হোসেন, মিজান, রকি, ফয়েজ, কামাল ওরফে সিএনজি কামাল, আজিজুল হক জামাল, দুলাল, মো. সোহেল, সোহেল আনসারী, আবুল কালাম আনসারী, মো. বাশার, সফিক, জহিরুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, জসিম ওরফে জামাই জসিম, ইউসুফ, সেলিম, জান্নাতুল ফেরদৌস সুমি, শারমিন আক্তার ও শিল্পী ওরফে খালিদাসহ আরও কয়েকজন।
অভিযোগকারীদের দাবি, দখল ও চাঁদাবাজির কারণে সম্প্রসারিত রূপনগর আবাসিক এলাকার সাধারণ প্লট মালিকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা সরকারি সম্পত্তি ও রাস্তা অবৈধ দখলমুক্ত করা, চাঁদাবাজি বন্ধ, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে তারা প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।