
আমাদের সমাজে যে কোন আনন্দ উৎসবে বিবাহ, জন্মদিন সহ নানা আয়োজনে প্রয়োজন হয় মিষ্টি। মিষ্টি মানেই কোনও একটি খাবারের নাম কিন্তু ‘মিঠাই’ মানেই বাড়তি কিছু ? কারণ মিঠাই আপনাকে স্মরণ করিয়ে দেবে বাঙালির মিষ্টির সংস্কৃতি, মিষ্টির ঐতিহ্য। যা হাজার বছরের বলা চলে ইতিহাসের সমান পুরোনো। চাহিদা যত বাড়ছে মিঠাইয়ের যোগানও তত বাড়ছে। আর তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মিঠাইয়ের দোকান।

প্রাণ-আরএফএল’র মিষ্টি যে কেবল স্বাদটাই দেখে তা নয় কিন্তু এর সাথে গুরুত্বপূর্ণভাবে থাকে এর গুনগত মান ও স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ার বিষয়টি।
এ ক্ষেত্রে সামান্য ছাড় দিতে রাজি নয় প্রাণ গ্রুপ। তারা বলছে, দেশের বাজারতো বটেই আন্তর্জাতিক বাজারেও মিঠাই বেকারির পণ্য পাঠানো উদ্যোগ নিচ্ছে। ফলে মিষ্টির পাশাপাশি অনান্য খাবার থাকা চাই আন্তর্জাতিক মান।

তবে বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা শুনামধন্য একটি প্রতিষ্ঠানে অস্বাস্থ্যকর বাসি পচা খাবার বিক্রি হয় তা কি করে সম্ভব ! তেমনি একটি ঘটনা ঘটেছে রাজধানী মিরপুরের পল্লবী থানাধীন সাত নাম্বার সেকশনের সাত নাম্বার রোডের আট নাম্বার প্লটের মিঠাই বেকারি এন্ড সুইটস নামের দোকানে। এটি প্রাণ গ্রুপের একটি মিঠাইয়ের আউটলেট দোকান সমুহঃ দোকানটিতে অস্বাস্থ্যকর বাসি, পচা, দুর্গন্ধযুক্ত খাবার বিক্রি হয় এমন অভিযোগ করেন রেজওয়ান নামের একজন ব্যবসায়ী।

“তিনি বলেন, মিঠাই সুইটসের দোকান থেকে দুইটি চিকেন পেটিস ক্রয় করেন (নাস্তার) খাবারের জন্যে আর সেই নাস্তা তিনি করতে পারেননি ! কারন পেটিসটিতে শেওলা পড়ে যাওয়ায় নাস্তা করা হয়নি ভোক্তভোগী রেজওয়ানের। “এ ছাড়া দুর্গন্ধ ছিল পেটিস গুলো খেতে গিয়ে বমি করেদেন এতে অসুস্থ হয়ে পরেন তিনি। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী রেজওয়ানকে দুই ঘন্টা বসিয়ে রাখার পরও কোন সমাধান দিতে পারেননি দোকানে কর্মীচারী ও ম্যানেজার। দামি ব্রান্ড হয়েও নিন্মমানের বাসি, পচা খাদ্য পরিবেশন পরিচালনা করছেন কিভাবে তা জনমনে এখন প্রশ্ন ?

ভোক্তভুগী রেজওয়ান তার বক্তব্যে বলেন,, “আমি কিডনি রোগী, আমার ৫২% কিডনি ডেমেজ হয়ে গেছে আমার বাহিরের খাবার তেমন খাওয়া হয়না কিন্তু খেতে গিয়ে যে অবস্থা দেখলাম তাতে আমার মনে হয় নামি দামি ব্র্যান্ড ব্যবহার করে নিন্মমানের লোকাল বাসি খাবার পরিবেশন তাদের ব্যবসা। এতে তাদের খরচ কম হয় আর লাভও মনে হয় বেসি! তা না হলে স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী ও কোমলমতি শিশুসহ প্রায় সব বয়সী মানুষের প্রিয় খাবারের তালিকায় থাকে মিঠাই বেকারি ও ফাস্টফুডের খাদ্য সামগ্রী। তবে কি বেশিরভাগ মিঠাই বেকারি ও ফাস্টফুডের তৈরির সামগ্রী অতিরিক্ত দামে নিরাপদ মনে করে সাধারণ মানুষ বিষ কিনে খাচ্ছেন কি !
এ বিষয়ে পল্লবী থানাধীন ৭নং সেকশনের ৭ রোডের ৮ নং প্লটের মিঠাই দোকানের ম্যানেজার নাসিরের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আশলে দুঃখ জনক, ভুল ক্রমে এটি হয়ে থাকতে পারে তবে ভবিষ্যতে আর যেন এরকম না হয় সেটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।
এ বিষয়ে আরও জানতে প্রাণ গ্রুপের ওয়েবসাইটের হট লাইন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তানিয়া নামের এক তরুনি (পিআরও) কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান এর সঙ্গে কথা বলতে বলেন। তবে এ বিষয়ে তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে প্রাণ গ্রুপের গণযোগাযোগ কর্মকর্তা ( পিআরও ) তৌহিদুজ্জামান এর সঙ্গে কথা হলে তিনি “আজকের কাগজকে” বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি গুরুত্ব হসকারে দেখছি খাবার স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ার বিষয়টির ক্ষেত্রে সামান্য ছাড় দিতে রাজি নয় প্রাণ গ্রুপে এই কর্মকর্তা। এ রকম কোন অনিয়ম হয়ে থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
মিঠাইয়ের আউটলেট সমুহঃ রয়েছে অনেক কাদেরাবাদ হাউজিং, কাজীপাড়া, মিরপুর ১০ ও ১১, রামপুরা, নারিন্দা, আশকোনা, চৌধুরীপাড়া, দনিয়া, ফকিরাপুল, বনশ্রী, খিলগাঁও, কলাবাগান, কাওরান বাজার, তালতলা সহ আরও অনেক জায়গাতে।
মিঠাই বাজারে এনেছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। বলতে হবে মিষ্টির ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনেছে দেশের এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প-গ্রুপটি তবে তাদের আরও খাবারের মাধ্য মিঠাই বেকারি আইটেম রয়েছে তা সবাই জানে। কেউ চান চমচম, কেউ কালোজাম। কারো মন মজে থাকে রসগোল্লায় কারো আবার সন্দেশে, ছানা-ক্ষীর-ক্ষীরসায় লোভ নিয় অনেকের। এর সবই আছে মিঠাইয়ের আয়োজনে। এছাড়াও লাড্ডু, শনপাপড়ি, মালাইকারি, হালুয়া, বরফি, আমৃত্তি এসবও মিলবে সকল আউটলেটে। আর দই না হলে কী মিষ্টি খাওয়া জমে? তাই দইও রয়েছে মিঠাইয়ের আয়োজনে। তা টক-মিষ্টি দুই ধরনেরই। এখন থেকে প্রায় ছয় বছর আগে মে মাসে ‘মিঠাই’ বাজারে আনে প্রাণ-আরএফএল।
Leave a Reply