
রাজধানীর মিরপুরে স্পা’র আড়ালে অনৈতিক কাজে রাজি না হওয়ায় লিজা ও মাহফুজা নামে দুই তরুনীকে প্রকাশ্যে পিটিয়েছে এক বিউটি পার্লারের মালিক । শুধু তাই নয় পিটুনির শিকার ওই দুই তরুনীর বিরুদ্ধে উল্টো মারামারির অভিযোগ এনে মামলাও দেয়া হয়েছে। লিজা ও মাহফুজা স্পর্কে আপন দুই বোন। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি মিরপুর ১২ নম্বর ডিওএইচএস শপিংকমপ্লেক্সে এ ঘটনাটি ঘটে। ওই বিউটি পার্লারের রের নাম সাজিয়াস বিউটি পার্লার আর এটির কর্ণধার সাজিয়া আফরিন ও ফারজানা আফরিন। এই ঘটনায় লিজা আক্তার রাজধানীর পল্লবী থানায় ও ১৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডে একটি অভিযোগ দেন।
অভিযোগে জানা গেছে ৬-৭ মাস আগে সাজিয়াস মেকওভার পার্লারে যোগদানের পর পার্লারের মালিকের কাছ মুল আইডি কার্ড (জাতীয় পরিচয় পত্র) জমা রেখে অগ্রীম ৫ হাজার টাকা নেন লিজা। পার্লারে যোগদানের পর অনৈতিক কার্যকলাপ দেখে ৬ দিন পর কাজ না করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। চাকরি না করার বিষয়টি পার্লারের মালিকপক্ষকে জানিয়ে এডভান্স ৫ হাজার টাকা ফেরৎ দিয়ে লিজা তার মুল আইডি কার্ডটি ফেরৎ চান। আইডি কার্ডটি ফেরৎ না দিয়ে লিজাকে মাসের পর মাস ঘুরাতে থাকেন পার্লারের মালিক পক্ষ। এক পর্যায়ে গত ২৮ জানুয়ারি আইডি কার্ড ফেরত দেয়ার জন্য লিজার কাছে ১৮০০ টাকা দাবি করা হয়। সে টাকা নিয়ে আইডি কার্ড আনতে গেলে অতিরিক্ত ৬০০ টাকা দাবি করেন মালিকপক্ষ।সে অতিরিক্তি টাকা না দিয়ে ঘটনাটি মার্কেট কর্তৃপক্ষকে জানাতে চাইলে তার উপর চড়াও হয় বিউটি পার্লারের মালিক। ওইদিন লিজাকে বাঁচাতে তার বোন মাহফুজা এগিয়ে আসলে তার উপরও চড়াও হয় হামলাকারীরা। এই ঘটনার ৩ দিন পর উল্টো একটি মারামারির মামলার আসামি হন লিজা ও মাহফুজা।গত ৮ ফেব্রুয়ারি মামলায় জামিনে বেরিয়ে এসে লিজার বোন মাহফুজা সাজিয়াস মেকওভার পার্লারের পাশে আরেকটি বিউটি পার্লারে চাকরি নেন। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি মাহফুজা ডিউটি শেষে মার্কেটের সিঁিড় দিয়ে নীচে নামলে তার উপর পূর্ব পরিকল্পিত হামলা চালায় সাজিয়াস মেকওভারের মালিকপক্ষ ও তাদের লোকজন। এ দিকে এ ঘটনার কয়েকটি ভিডিও হাতে এসেছে। ভিডিওতে দেখা গেছে মাহফুজাকে চুলের মুঠি ধরে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটা”েছ হামলাকারীরা। তাকে বাঁচাতে মার্কেটের লোকজন এগিয়ে আসলে তাদের উপর চড়াও হয় সাজিয়াস মেকওভারের মালিকের স্বামী মেজর (অবঃ) সালাউদ্দিন।
পল্লবী থানার এক কর্মকার্ত নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন পার্লারের মালিকের স্বামী একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকার্ত। সে খুব এগ্রেসিভ । থানায় এসে হুমকি ধমকি দিয়ে পুলিশকে অনেক চাপে রেখে ২ বোনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে।
লিজা বলেন সাজিয়াস মেকওভার পার্লারে অনেক অনৈতিক কাজ হয়। এখানে বাসায় গিয়ে পুরুষদের স্পা সার্ভিস দিতে বলায় আমি চাকরি ছেড়ে দিয়েছি। অনেক মেয়েকে দিয়ে এরা অনৈতিক কাজ করায়।তাদের কথায় রাজি না হওয়ায় আমাদের উপর হামলা ও ২ টি মিথ্যা মামলা হয়েছে। এরা অনেক ক্ষমাতাবান। আমাদের জীবনকে বিষিয়ে তুলেছে। ঘটনার পর থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ তা আমলে নেয়নি। পরে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডে অভিযোগ দিলে দুপক্ষকে ডাকলেও তারা হাজির হয়নি। আমাদের কাছে সব ভিডিও ও ডকুমেন্ট আছে।
এ ব্যাপারে সাংবাদিক পরিচয়ে জানতে চাইলে সাজিয়াস মেকওভারের মালিক ফারজানা আফরিন বলেন আপনি আমাদের অনুমতি ছাড়া কোন নিউজ ছাপাতে পারবেন না। যদি নিউজ করেন আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেব আর আপনার নাম্বার এখনই পুলিশকে দি”িছ। পল্লবী থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন আমি ভিডিওগুলো দেখেছি। অভিযোগকারী আসলে আমি মামলা নিয়ে নিব।
Leave a Reply